সর্বশেষ :
অগ্নিঝরা মার্চ ’৭১ ২৫ মার্চ: কালরাত্রি, নির্মম হত্যাযজ্ঞে রক্তাক্ত ঢাকা কলম্বিয়ায় ১২৫ আরোহী নিয়ে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, মৃত বেড়ে ৬৬ যুক্তরাষ্ট্রের তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, এলাকাবাসীকে ঘরে থাকার নির্দেশ ইরানে হামলা করতে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছিলেন ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান, ট্রাম্পের দাবি ‘ভুয়া’ বলল ইরান নির্বাচিত নতুন সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারিতেও অব্যাহত মব সন্ত্রাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৯ গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত ২, আহত অর্ধশতাধিক আইএমএফ বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী বললেন, বাজেটে প্রতিফলিত হবে বিএনপির ইশতেহার বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ লাখ টাকার ঋণ সুবিধা তেলের মজুদ নিয়ে শঙ্কা নয়, অতিরিক্ত কেনাকাটাই সংকটের কারণ: জ্বালানিমন্ত্রী
বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০২:০৬ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

অগ্নিঝরা মার্চ ’৭১ ২৫ মার্চ: কালরাত্রি, নির্মম হত্যাযজ্ঞে রক্তাক্ত ঢাকা

প্রতিনিধি: / ১ দেখেছেন:
পাবলিশ: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

আজ ২৫ মার্চ। অগ্নিঝরা মার্চের পঁচিশতম দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত-‘কালরাত্রি’। দিনের বেলায় রাজনৈতিক আলোচনা চললেও রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের একটি নির্মম সামরিক অভিযান শুরু করে, যার লক্ষ্য ছিল পূর্ব বাংলার স্বাধীনতার আন্দোলনকে চূড়ান্তভাবে দমন করা।

২৫ মার্চ গভীর রাতে হঠাৎ করেই ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। ট্যাংক, মেশিনগান ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে ঘুমন্ত নিরস্ত্র মানুষদের ওপর চালানো হয় ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ঢ়ুকে ছাত্র ও শিক্ষকদের ওপর চালানো হয় নৃশংস হামলা; বহু নিরীহ মানুষ সেদিন প্রাণ হারান।

রাজারবাগ পুলিশ লাইনে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলে সেখানেও তীব্র আক্রমণ চালানো হয়। পিলখানায় অবস্থানরত ইপিআর সদস্যদের ওপরও হামলা হয়। শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। রাতভর ঢাকার আকাশ জ্বলতে থাকে আগুনের লেলিহান শিখায়, আর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক, আর্তনাদ ও ধ্বংসস্তূপ।

এই নির্মম হত্যাযজ্ঞের খবর দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বাঙালি জাতির মধ্যে প্রতিরোধের অগ্নিশিখা আরও জ্বলে ওঠে। ২৫ মার্চের এই কালরাত্রিই মূলত মুক্তিযুদ্ধের সূচনা পর্বকে বাস্তবে রূপ দেয়, যেখানে একটি জাতি অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

২৫ মার্চের ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে-এটি আর কোনো রাজনৈতিক সংকট নয়; এটি একটি জাতির ওপর পরিকল্পিত গণহত্যা। অগ্নিঝরা মার্চের এই পঁচিশতম দিন ইতিহাসে চিরকাল এক শোকাবহ, কিন্তু একই সঙ্গে জাগরণের দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


এই বিভাগের আরো খবর