Dhaka ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আটক জাহাজের ১৭ ভারতীয়ের সাথে নয়াদিল্লির প্রতিনিধিরা দেখা করতে পারবে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৭:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
  • ২৮৭ Time View

বিদেশ : ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে ফোনে কথা হওয়ার পরেই ইরান জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালীতে তাদের হাতে আটক জাহাজে থাকা ভারতীয়দের সাথে নয়াদিল্লির প্রতিনিধিদের দেখা করতে দেয়া হবে। ওই জাহাজে ২৫ কর্মীর মধ্যে ১৭ জনই ভারতীয়। জাহাজটি ইরানের হাতে আটক হওয়ার পর থেকেই তেহরানের সাথে যোগাযোগ রেখেছে নয়াদিল্লি। গত রোববার রাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির আবদোল্লাহিয়ানের সাথে ফোনে কথা বলেন জয়শঙ্কর। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। আটক জাহাজে থাকা ভারতীয়দের মুক্তির বিষয়েও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আমার ফোনে কথা হলো। এমএসসি এরিস জাহাজে বন্দি আমাদের ১৭ জন কর্মীর মুক্তি নিয়ে আমরা কথা বললাম। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করলাম। আমি তাকে বলেছি, আক্রমণ থেকে বিরত থাকা, শান্তি বজায় রাখা এবং ক‚টনীতির আশ্রয় নেয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আমরা একে অপরের সাথে যোগাযোগ রাখার বিষয়ে সহমত হয়েছি।’ এর পরেই গতকাল সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তারা বন্দিদের সাথে ভারতের সরকারি প্রতিনিধিদের দেখা করতে দেবেন। মালবাহী জাহাজটিকে আরব আমিরাতের উপক‚লে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে আটক করেছিল ইরান। ইসরাইলের সাথে ওই জাহাজের সম্পর্ক থাকতে পারে, এই সন্দেহে সেটিকে আটক করা হয়। দেখা যায়, জাহাজের কর্মীদের বেশিভাগই ভারতীয়। তেহরানের বক্তব্য, নিজের দেশের প্রতিরক্ষার স্বার্থে তারা জাহাজটিকে আটক করেছে। উপযুক্ত তদন্তের আগে জাহাজ এবং তার বন্দিদের ছাড়া সম্ভব নয়। জাহাজটি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের হাতে আটক জাহাজটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিল ইতালীয়-সুইস সংস্থা এমএসসি। তারা জানিয়েছে, হেলিকপ্টারে এসে ওই জাহাজে ওঠেন ইরানের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। সংবাদ সংস্থা এপি সূত্রে খবর, জাহাজটি আদতে লন্ডনের জোডিয়াক গ্রæপের। জোডিয়াক গ্রæপ হলো ইসরাইলি ধনকুবের ইয়াল অফারের। ওই কারণেই এই জাহাজের সাথে ইসরাইলের যোগসূত্র খুঁজছে তেহরান। শুক্রবার দুবাই থেকে জাহাজটি মুম্বইয়ের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। শনিবার হরমুজ প্রণালীতে সেই জাহাজটি বাজেয়াপ্ত করে ইরানের বিশেষ বাহিনী। ইরান এবং ইসরাইলের সম্পর্কের নতুন করে অবনতি হয়েছে রোববার। প্রায় ৩০০ ড্রোন দিয়ে ইসরাইলে হামলা চালিয়েছে ইরান। গত ১ এপ্রিল দামেস্কের ইরানি দূতাবাসে ইসরাইলের বোমা হামলার পাল্টা হিসেবে এই আক্রমণ। তবে সেই হামলার দায় এখনো স্বীকার করেনি ইসরাইল। ইরানের ড্রোন হামলা অবশ্য ইসরাইলে বড় কোনো আঘাত তৈরি করতে পারেনি। ড্রোনগুলোর বেশিভাগই আকাশপথে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বাগেরহাটে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আটক জাহাজের ১৭ ভারতীয়ের সাথে নয়াদিল্লির প্রতিনিধিরা দেখা করতে পারবে

Update Time : ১১:৪৭:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪

বিদেশ : ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে ফোনে কথা হওয়ার পরেই ইরান জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালীতে তাদের হাতে আটক জাহাজে থাকা ভারতীয়দের সাথে নয়াদিল্লির প্রতিনিধিদের দেখা করতে দেয়া হবে। ওই জাহাজে ২৫ কর্মীর মধ্যে ১৭ জনই ভারতীয়। জাহাজটি ইরানের হাতে আটক হওয়ার পর থেকেই তেহরানের সাথে যোগাযোগ রেখেছে নয়াদিল্লি। গত রোববার রাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির আবদোল্লাহিয়ানের সাথে ফোনে কথা বলেন জয়শঙ্কর। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। আটক জাহাজে থাকা ভারতীয়দের মুক্তির বিষয়েও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আমার ফোনে কথা হলো। এমএসসি এরিস জাহাজে বন্দি আমাদের ১৭ জন কর্মীর মুক্তি নিয়ে আমরা কথা বললাম। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করলাম। আমি তাকে বলেছি, আক্রমণ থেকে বিরত থাকা, শান্তি বজায় রাখা এবং ক‚টনীতির আশ্রয় নেয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আমরা একে অপরের সাথে যোগাযোগ রাখার বিষয়ে সহমত হয়েছি।’ এর পরেই গতকাল সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তারা বন্দিদের সাথে ভারতের সরকারি প্রতিনিধিদের দেখা করতে দেবেন। মালবাহী জাহাজটিকে আরব আমিরাতের উপক‚লে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে আটক করেছিল ইরান। ইসরাইলের সাথে ওই জাহাজের সম্পর্ক থাকতে পারে, এই সন্দেহে সেটিকে আটক করা হয়। দেখা যায়, জাহাজের কর্মীদের বেশিভাগই ভারতীয়। তেহরানের বক্তব্য, নিজের দেশের প্রতিরক্ষার স্বার্থে তারা জাহাজটিকে আটক করেছে। উপযুক্ত তদন্তের আগে জাহাজ এবং তার বন্দিদের ছাড়া সম্ভব নয়। জাহাজটি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের হাতে আটক জাহাজটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিল ইতালীয়-সুইস সংস্থা এমএসসি। তারা জানিয়েছে, হেলিকপ্টারে এসে ওই জাহাজে ওঠেন ইরানের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। সংবাদ সংস্থা এপি সূত্রে খবর, জাহাজটি আদতে লন্ডনের জোডিয়াক গ্রæপের। জোডিয়াক গ্রæপ হলো ইসরাইলি ধনকুবের ইয়াল অফারের। ওই কারণেই এই জাহাজের সাথে ইসরাইলের যোগসূত্র খুঁজছে তেহরান। শুক্রবার দুবাই থেকে জাহাজটি মুম্বইয়ের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। শনিবার হরমুজ প্রণালীতে সেই জাহাজটি বাজেয়াপ্ত করে ইরানের বিশেষ বাহিনী। ইরান এবং ইসরাইলের সম্পর্কের নতুন করে অবনতি হয়েছে রোববার। প্রায় ৩০০ ড্রোন দিয়ে ইসরাইলে হামলা চালিয়েছে ইরান। গত ১ এপ্রিল দামেস্কের ইরানি দূতাবাসে ইসরাইলের বোমা হামলার পাল্টা হিসেবে এই আক্রমণ। তবে সেই হামলার দায় এখনো স্বীকার করেনি ইসরাইল। ইরানের ড্রোন হামলা অবশ্য ইসরাইলে বড় কোনো আঘাত তৈরি করতে পারেনি। ড্রোনগুলোর বেশিভাগই আকাশপথে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা