Dhaka ০৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন মেডিকেল কোম্পানিতে ইরানি হ্যাকারদের হামলা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১২:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • ৩৪ Time View

বিদেশ : ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি হ্যাকিং গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা প্রযুক্তি কোম্পানি ‘স্ট্রাইকার’-এর ওপর সাইবার হামলার দায় স্বীকার করেছে। গত বুধবার তারা জানায়, ইরানে সামরিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫০ টেরাবাইট তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ‘হানদালা’ নামের এই গ্রুপটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমাদের বড় ধরনের সাইবার অপারেশনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’ তারা জানায়, ইরানের ‘মিনাব স্কুলে’ চালানো হামলার প্রতিশোধ নিতে এই হ্যাকিং করা হয়েছে। ওই হামলায় অন্তত ১৫০ জন নিহত হয়েছিল। এছাড়া তেহরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট অ্যাঙ্সি অফ রেজিস্ট্যান্স-এর ওপর চলমান সাইবার হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও গ্রুপটি দাবি করে। হানদালা আরও বলেছে, হাতিয়ে নেওয়া সব তথ্য এখন ‘বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের হাতে’। ইসরাইলি নেতা ও তাদের লবিস্টদের সতর্ক করে তারা জানায়, ‘এটি সাইবার যুদ্ধের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা মাত্র।’ এদিকে স্ট্রাইকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাইবার হামলার ফলে তাদের ‘মাইক্রোসফট এনভায়রনমেন্ট’-এ বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তবে তারা কোনো র্যানসমওয়্যার বা ম্যালওয়্যারের প্রমাণ পায়নি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছে। ফিলিস্তিনিদের এক প্রতীকী চরিত্রের নামে নামকরণ করা এই ‘হানদালা’ গ্রুপটি গত কয়েক সপ্তাহে ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন কোম্পানিতে ধারাবাহিক হামলার দাবি করেছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা বারবার ইসরাইলি অবকাঠামোতে হামলার দায় স্বীকার করেছে। বিশেষ করে জেরুজালেমের নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলোতে তাদের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে বলে তারা দাবি করে। ইসরাইল-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান চেক পয়েন্টের সাইবার গোয়েন্দা প্রধান গিল মেসিং বলেন, ‘হানদালা ইরান সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবচেয়ে কুখ্যাত হ্যাকিং গ্রুপ। আমরা বছরের পর বছর ধরে তাদের পর্যবেক্ষণ করছি।’ চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত গুগল থ্রেট ইন্টেলিজেন্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গ্রুপটি মূলত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে তা ফাঁস করা এবং ভীতি ও অনিশ্চয়তা ছড়ানোর মতো কৌশল ব্যবহার করে। মিশিগানের কালামাজুতে প্রতিষ্ঠিত স্ট্রাইকার একটি বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালে তাদের আয় ছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার এবং বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তাদের ৫৬ হাজার কর্মী রয়েছে। তারা অর্থোপেডিক ইমপ্ল্যান্ট থেকে শুরু করে রোবটিক সার্জারি সিস্টেম পর্যন্ত সব ধরনের আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি করে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, বুধবার গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা থেকে এই নেটওয়ার্ক বিভ্রাট শুরু হয়। স্ট্রাইকারের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ল্যাপটপ এবং মোবাইল ফোনসহ উইন্ডোজ ডিভাইসগুলোর ডেটা দূর থেকে মুছে ফেলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হানদালা গ্রুপটি পরবর্তীতে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘ভেরিফোন’-এর ওপরও হামলা চালানোর দাবি করে। তবে হানদালার এসব দাবির সত্যতা এএফপি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি এবং এ বিষয়ে ভেরিফোনের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মার্কিন মেডিকেল কোম্পানিতে ইরানি হ্যাকারদের হামলা

Update Time : ১১:১২:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

বিদেশ : ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি হ্যাকিং গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা প্রযুক্তি কোম্পানি ‘স্ট্রাইকার’-এর ওপর সাইবার হামলার দায় স্বীকার করেছে। গত বুধবার তারা জানায়, ইরানে সামরিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫০ টেরাবাইট তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ‘হানদালা’ নামের এই গ্রুপটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমাদের বড় ধরনের সাইবার অপারেশনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’ তারা জানায়, ইরানের ‘মিনাব স্কুলে’ চালানো হামলার প্রতিশোধ নিতে এই হ্যাকিং করা হয়েছে। ওই হামলায় অন্তত ১৫০ জন নিহত হয়েছিল। এছাড়া তেহরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট অ্যাঙ্সি অফ রেজিস্ট্যান্স-এর ওপর চলমান সাইবার হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও গ্রুপটি দাবি করে। হানদালা আরও বলেছে, হাতিয়ে নেওয়া সব তথ্য এখন ‘বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের হাতে’। ইসরাইলি নেতা ও তাদের লবিস্টদের সতর্ক করে তারা জানায়, ‘এটি সাইবার যুদ্ধের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা মাত্র।’ এদিকে স্ট্রাইকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাইবার হামলার ফলে তাদের ‘মাইক্রোসফট এনভায়রনমেন্ট’-এ বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তবে তারা কোনো র্যানসমওয়্যার বা ম্যালওয়্যারের প্রমাণ পায়নি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছে। ফিলিস্তিনিদের এক প্রতীকী চরিত্রের নামে নামকরণ করা এই ‘হানদালা’ গ্রুপটি গত কয়েক সপ্তাহে ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন কোম্পানিতে ধারাবাহিক হামলার দাবি করেছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা বারবার ইসরাইলি অবকাঠামোতে হামলার দায় স্বীকার করেছে। বিশেষ করে জেরুজালেমের নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলোতে তাদের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে বলে তারা দাবি করে। ইসরাইল-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান চেক পয়েন্টের সাইবার গোয়েন্দা প্রধান গিল মেসিং বলেন, ‘হানদালা ইরান সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবচেয়ে কুখ্যাত হ্যাকিং গ্রুপ। আমরা বছরের পর বছর ধরে তাদের পর্যবেক্ষণ করছি।’ চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত গুগল থ্রেট ইন্টেলিজেন্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গ্রুপটি মূলত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে তা ফাঁস করা এবং ভীতি ও অনিশ্চয়তা ছড়ানোর মতো কৌশল ব্যবহার করে। মিশিগানের কালামাজুতে প্রতিষ্ঠিত স্ট্রাইকার একটি বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালে তাদের আয় ছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার এবং বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তাদের ৫৬ হাজার কর্মী রয়েছে। তারা অর্থোপেডিক ইমপ্ল্যান্ট থেকে শুরু করে রোবটিক সার্জারি সিস্টেম পর্যন্ত সব ধরনের আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি করে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, বুধবার গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা থেকে এই নেটওয়ার্ক বিভ্রাট শুরু হয়। স্ট্রাইকারের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ল্যাপটপ এবং মোবাইল ফোনসহ উইন্ডোজ ডিভাইসগুলোর ডেটা দূর থেকে মুছে ফেলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হানদালা গ্রুপটি পরবর্তীতে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘ভেরিফোন’-এর ওপরও হামলা চালানোর দাবি করে। তবে হানদালার এসব দাবির সত্যতা এএফপি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি এবং এ বিষয়ে ভেরিফোনের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।