Dhaka ০৯:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিত্রদের সঙ্গে এআইয়ের ‘নিয়মের কাঠামো’ গড়তে বদ্ধপরিকর মাখোঁ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৬ Time View

বিদেশ : দ্রুত বিকাশমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির নিরাপদ তদারকি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতে আয়োজিত এক বৈশ্বিক এআই সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। নয়াদিল্লি থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৪ সালে গৃহীত আর্টিফিসিয়াল বুদ্ধিমত্তা এক্ট-এর মাধ্যমে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামোয় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। আইনটি ধাপে ধাপে কার্যকর হচ্ছে। নয়াদিল্লিতে মাখোঁ বলেন, ‘ভারতের মতো আমাদের মিত্রদের সঙ্গে আমরা খেলার নিয়ম তৈরি করে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ তিনি বলেন, ‘ইউরোপ অন্ধভাবে কেবল নিয়ন্ত্রণে মনোযোগী নয়। ইউরোপ উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র। তবে এটি একটি নিরাপদ ক্ষেত্র। গত বছর প্যারিসে অনুষ্ঠিত এআই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ’-এর বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, এতে একটি রূপান্তরমূলক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইইউ আইনের অধীনে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এমন এআই ব্যবস্থা নিষিদ্ধ করতে পারে, যা সমাজের জন্য ‘অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি’ তৈরি করে। যেমন, জনসমাগমস্থলে ক্যামেরা ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যক্তিকে শনাক্ত করার প্রযুক্তি। নয়াদিল্লির এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে বক্তব্যে ম্যাক্রোঁ বলেন, ফ্রান্সে এআই বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী প্রশিক্ষণের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হচ্ছে। এ খাতে নতুন স্টার্টআপগুলো ‘১০ হাজারের বেশি’ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। গত মাসে ফ্রান্সের আইনপ্রণেতারা ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে একটি বিল পাস করেন। এটি আইনে পরিণত হতে সিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। ম্যাখোঁ বলেন, ‘আমাদের জি৭ অগ্রাধিকারগুলোর একটি হবে এআই ও ডিজিটাল অপব্যবহার থেকে শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া।’ তিনি বলেন, ‘বাস্তব জগতে যা আইনত নিষিদ্ধ, অনলাইনে আমাদের শিশুদের তা দেখার কোনো কারণ নেই।’ মাখোঁ বলেন, ফ্রান্স এ যাত্রায় কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারতও ‘এই ক্লাবে যোগ দেবে।’ তিনি বলেন, ‘শিশুদের সুরক্ষা কেবল নিয়ন্ত্রণ নয়। এটি সভ্যতার প্রশ্ন।’

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মিত্রদের সঙ্গে এআইয়ের ‘নিয়মের কাঠামো’ গড়তে বদ্ধপরিকর মাখোঁ

Update Time : ১০:২৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিদেশ : দ্রুত বিকাশমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির নিরাপদ তদারকি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতে আয়োজিত এক বৈশ্বিক এআই সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। নয়াদিল্লি থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৪ সালে গৃহীত আর্টিফিসিয়াল বুদ্ধিমত্তা এক্ট-এর মাধ্যমে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামোয় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। আইনটি ধাপে ধাপে কার্যকর হচ্ছে। নয়াদিল্লিতে মাখোঁ বলেন, ‘ভারতের মতো আমাদের মিত্রদের সঙ্গে আমরা খেলার নিয়ম তৈরি করে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ তিনি বলেন, ‘ইউরোপ অন্ধভাবে কেবল নিয়ন্ত্রণে মনোযোগী নয়। ইউরোপ উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র। তবে এটি একটি নিরাপদ ক্ষেত্র। গত বছর প্যারিসে অনুষ্ঠিত এআই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ’-এর বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, এতে একটি রূপান্তরমূলক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইইউ আইনের অধীনে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এমন এআই ব্যবস্থা নিষিদ্ধ করতে পারে, যা সমাজের জন্য ‘অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি’ তৈরি করে। যেমন, জনসমাগমস্থলে ক্যামেরা ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যক্তিকে শনাক্ত করার প্রযুক্তি। নয়াদিল্লির এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে বক্তব্যে ম্যাক্রোঁ বলেন, ফ্রান্সে এআই বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী প্রশিক্ষণের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হচ্ছে। এ খাতে নতুন স্টার্টআপগুলো ‘১০ হাজারের বেশি’ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। গত মাসে ফ্রান্সের আইনপ্রণেতারা ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে একটি বিল পাস করেন। এটি আইনে পরিণত হতে সিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। ম্যাখোঁ বলেন, ‘আমাদের জি৭ অগ্রাধিকারগুলোর একটি হবে এআই ও ডিজিটাল অপব্যবহার থেকে শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া।’ তিনি বলেন, ‘বাস্তব জগতে যা আইনত নিষিদ্ধ, অনলাইনে আমাদের শিশুদের তা দেখার কোনো কারণ নেই।’ মাখোঁ বলেন, ফ্রান্স এ যাত্রায় কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারতও ‘এই ক্লাবে যোগ দেবে।’ তিনি বলেন, ‘শিশুদের সুরক্ষা কেবল নিয়ন্ত্রণ নয়। এটি সভ্যতার প্রশ্ন।’