স্পোর্টস: ওয়ানডে ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি ও একই ম্যাচে পাঁচ উইকেট, এমন কীর্তি গড়া অ্যামেলিয়া কার এখন নিউ জিল্যান্ডের নতুন অধিনায়ক। সব সংস্করণে দলের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে তার হাতে। সোফি ডিভাইন দায়িত্ব ছাড়ার পর নতুন অধ্যায় শুরু করল নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট।
ডিভাইন ওয়ানডে থেকে অবসর নিয়েছেন বিশ্বকাপের পর। টি টোয়েন্টিতেও সরে দাঁড়িয়েছেন নেতৃত্ব থেকে। সেই জায়গায় ২৫ বছর বয়সী কারকে পূর্ণকালীন অধিনায়ক করেছে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২০১৬ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে অভিষেক হয়েছিল তার। অল্প সময়েই হয়ে উঠেছেন দলের ভরসার নাম।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দশম ইনিংসে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪৫ বলে ২৩২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন কার। নারী ওয়ানডেতে যা এখনও ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস। ডাবলিনের সেই ম্যাচেই বল হাতে নেন ১৭ রানে ৫ উইকেট। ছেলে ও মেয়ে মিলিয়ে এমন কীর্তি গড়া বিরল ঘটনা।
এখন পর্যন্ত ৮৪ ওয়ানডে ও ৮৮ টি টোয়েন্টি খেলেছেন এই লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে করেছেন ৩ হাজার ৭৫৭ রান, নিয়েছেন ২০১ উইকেট। নিউ জিল্যান্ডের ইতিহাসে তিনি এখন তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ও পঞ্চম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
২০২৪ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন কার। হন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ও প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট। পরে আইসিসির বর্ষসেরা নারী ক্রিকেটারের স্বীকৃতি পান। র্যাচেল হেইহো ফ্লিন্ট ট্রফি জেতা প্রথম নিউ জিল্যান্ডারও তিনি।
এর আগে দুটি ওয়ানডে ও দুটি টি টোয়েন্টিতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেন কার। ঘরোয়া ক্রিকেটে ওয়েলিংটন ব্লেইজকে টানা দুই মৌসুম সুপার স্ম্যাশের শিরোপা জিতিয়েছেন।
নেতৃত্ব পেয়ে কার বলেন, “শৈশবে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে খেলা ছিল আমার স্বপ্ন। এখন দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়া বিশাল সম্মানের। আমি জানি, আমার আগে অসাধারণ নেতারা ছিলেন। দায়িত্বটাকে হালকাভাবে নিচ্ছি না। নেতৃত্ব আমাকে বদলে দেবে না, আমি আগের মানুষটিই থাকব এবং দলকে সফল করতে সর্বোচ্চটা দেব।”
দলের প্রধান কোচ বেন সয়্যার বলেছেন, “মাঠে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমেও সে সম্মান আদায় করে নিয়েছে। খেলাটাকে সে গভীরভাবে বোঝে। আমরা বিশ্বাস করি, এই সময় নেতৃত্ব দেওয়া তার খেলাকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে এবং ২০২৯ পর্যন্ত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।”
কারের নেতৃত্বের শুরু হবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজ দিয়ে। তিন ম্যাচের টি টোয়েন্টি সিরিজ শুরু ২৫ ফেব্রুয়ারি সেডন পার্কে। সামনে রয়েছে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা রক্ষার চ্যালেঞ্জ, ২০২৭ সালে শ্রীলঙ্কায় টি টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক।