বিদেশ : অস্ট্রেলিয়ায় ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগের সফরের বিরুদ্ধে সিডনির রাস্তায় নামা প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ঘ হয়েছে। পুলিশ সিডনি টাউন হলের কাছে জড়ো হওয়া কয়েক হাজার প্রতিবাদকারীকে সরাতে গেলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গত সোমবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে তারা। এর মধ্যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পুলিশ কর্মকর্তাদের আক্রমণ করার অভিযোগে। রয়টার্স জানায়, প্রতিবাদকারীদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিরোধীদলীয় এক আইনপ্রণেতাও ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার তারা জানান, পুলিশ কর্মকর্তারাই তাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার নেতারা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিবাদকারীদের শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, এই সহিংসতার ঘটনায় তিনি ‘চরম মর্মাহত’ হয়েছেন। প্রতিবাদকারীদের শান্তিপূর্ণ উপয়ে তাদের মনোভাব প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রেডিও স্টেশন ট্রিপল এমকে তিনি বলেন, “অস্ট্রেলিয়ানরা দুটি জিনিস চায়। তারা সংঘাতকে এখানে নিয়ে আসতে চায় না। তারা চায় হত্যা বন্ধ হোক, তা ইসরায়েলি হোক বা ফিলিস্তিন; কিন্তু তারা সহিংসতা এখানে আনতে চায় না।” এক বিবৃতিতে নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতায় কেউ গুরুতর আহত হয়েছে বলে কোনো খবর হয়নি। অস্ট্রেলিয়ায় হার্জগের সফরের প্রতিবাদে গত সোমবার সিডনির কেন্দ্রস্থলে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়। ডিসেম্বরে সিডনির সমুদ্র সৈকতে ইহুদিদের হানুক্কা উৎসব চলাকালে বন্দুক হামলায় ১৫ জন নিহতের ঘটনার পর ইহুদি সমপ্রদায়ের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে এই সফর করছেন হার্জগ। বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশকে বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে প্রতিবাদকারীদের নির্দিষ্ট পথ ধরে যাওয়ার নিদের্শনা দেওয়া, নির্দিষ্ট এলাকায় তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা ও যানবাহন তল্লাশি করা। এসব বিধিনিষিধের বিরুদ্ধে একটি আইনি চ্যালেঞ্জ সোমবার সিডনির আদালত খারিজ করে দেয়। যে এলাকাগুলোতে প্রতিবাদ হয়েছে হার্জগ সেখানে উপস্থিত হননি। টেলিভিশনে প্রদর্শিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কিছু বিক্ষোভকারী রাস্তায় বসানো ব্লকেড ঠেলে সরিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করছে আর পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের পিছু হটিয়ে দিচ্ছে। পুলিশ তাদের সংযত করার চেষ্টা করলে কিছু বিক্ষোভকারী মাটিতে শুয়ে পড়েন। পড়ে প্রতিবাদকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও পেপার স্প্রে ব্যবহার করে। এক সংবাদ সম্মেলনে নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ক্রিস মিনস পুলিশের পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, উত্তেজনাপূর্ণ ও ওই অস্থির সময়ে কর্মকর্তাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছিল। পুলিশ এক ‘অসম্ভব পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। অপরদিকে এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিন অ্যাকশন গ্রুপ সিডনি বলেছে, প্রতিবাদকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে পারছিল না, কারণ পুলিশ তাদের সবদিক থেকে ঘিরে রেখেছিল। গোষ্ঠীটি বলেছে, “পুলিশ ঘোড়া নিয়ে, যথেচ্ছ পেপার স্প্রে ছিটিয়ে জনতার ওপর আক্রমণ শুরু করে। তারা লোকজনকে ঘুষি মারে ও গ্রেপ্তার করে।”রাজ্য পার্লামেন্টের বিরোধী দল গ্রিনের আইনপ্রণেতা এবিগেল বয়েড জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে ঘুষি মেরেছেন।