দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে ঢাকা-১১ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) একই আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আহমেদ হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), ইসি সচিব, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং নাহিদ ইসলামকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নাহিদ ইসলাম ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল ডোমিনিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। রিটে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি নির্বাচনি হলফনামায় এ তথ্য গোপন করেছেন, যা সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ-২ (গ) অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনের অযোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত। রিটের ওপর শুনানি হতে পারে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে।
ঢাকা-১১ আসনটি গুলশান ও সবুজবাগ এলাকার নির্বাচনী এলাকা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। এই আসনে বিএনপির এম. এ. কাইয়ুম, স্বতন্ত্র প্রার্থী কহিনূর আক্তার বীথি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের কাজী মো. শহীদুল্লাহ, গণফোরামের মো. আবদুল কাদের, গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুর রহমান, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. জাকির হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মিজানুর রহমান, জাতীয় পার্টির শামীম আহমেদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ নির্বাচন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ আইনি ইস্যু। হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও নাহিদ ইসলামের নির্বাচনি ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।” রাজনৈতিক মহলে এই রিট নিয়ে ইতিমধ্যে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুনানির ফলাফলে রিট অনুমোদিত হলে নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে, আর প্রত্যাখ্যান হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা এবং দলের সমর্থকদের জন্য এই রিটের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।