Dhaka ১২:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিরোজপুরে একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর আড়ালে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫৮:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ এপ্রিল ২০২৪
  • ৩৮০ Time View

পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরে একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর আড়ালে ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে এক ব্যবসায়ীর
পরিবারের ৪ সদস্যদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা বার বার ধর্না দিয়েও পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর
পিরোজপুর শাখার এ দুই কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাদের টাকা কোনভাবে ফেরত না পেয়ে
অবশেষে আদালতে মামলা করেছেন। আদালত অফিসার ইনচার্জ সিআইডি, পিরোজপুরকে
তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানাযায়, পিরোজপুর শহরের পুরাতন ঈদগাহ সংলগ্ন স্থানে মেসার্স
মোল্লা ট্রেডার্সের প্রোপাইটর মোঃ আলমগীর শেখ নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসা পরিচালনা
করে আসছিলেন। এই ব্যবসায়ীর সাথে সুযোগ সন্ধানী পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী
লিমিটেড (ইসলামী ডিপিএস) (২৭৩০) পিরোজপুর শাখার ইনচার্জ মোঃ হেমায়েত উদ্দিন
খন্দকার এবং তার সহযোগী ঐ একই শাখার হিসাব ইনচার্জ মোঃ বেল্লাল খান সু-সম্পর্ক
গড়ে তোলেন। হেমায়েত উদ্দিন খন্দকার পিরোজপুর পৌর এলাকার ছোট খলিশাখালীর বাসিন্দা
মোশারফ খন্দকারের ছেলে এবং বেল্লাল খান সদর উপজেলার কালিকাঠীর বাসিন্দা মৃত আ: ছত্তার
খান এর পুত্র। তারা সু-সম্পর্কের আড়ালে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ী আলমগীর
শেখ এবং তার পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ডিপিএস প্রকল্পে বীমা চালু করার
জন্য নানাভাবে উৎসাহ দিতে থাকে। একপর্যায়ে তাদের উৎসাহে আলমগীর শেখ তার পরিবারের
সদস্যদের জন্য ডিপিএস চালু করতে রাজি হন। আলমগীর এর স্ত্রী খুকি আক্তারের নামে দুটি
পৃথক ডিপিএস চালু করার কথা থাকলেও এ দুই কর্মকর্তা যোগসাজশে ভূয়া কাগজপত্র তৈরী
করে একই তারিখ দেখিয়ে (৩০ নভেম্বর ২০১৮) ১২ বছর মেয়াদী ৪ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা বীমা
অংকের পরপর ২টি বীমা খোলা হয়েছে বলে দেখায়। তারা এই ২টি ডিপিএসের বিপরীতে ভূয়া
প্রাপ্তি রশিদ দিয়ে খুকি আক্তারে কাছ থেকে মোট ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
হেমায়েত ও বেল্লাল চক্র আলমগীরের ছেলে আবু ছালেহ এর কাছ থেকেও ৫৬ হাজার, কন্যা রিফাত
জাহান রানীর কাছ থেকে ৫৫ হাজার এবং ভায়রার মেয়ে নাছরিন আক্তারের কাছ থেকে ৬১ হাজার
টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে পপুলার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর ঢাকা অফিসের সাথে যোগাযোগ
করা হলে হেমায়েত ও বেল্লাল এর প্রতারণা ও জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে যায়। ভুক্তভোগী
পরিবারের সদস্যরা বার বার শহরের পাড়েরহাট রোডস্থ পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর শাখা
অফিসে ধর্ণা দিয়ে টাকা ফেরত পেতে ব্যর্থ হয়। ক্ষতিগ্রস্থরা এ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর
চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত আবেদন করে সুরাহা পেতে ব্যর্থ হয়। কোথাও কোন প্রতিকার না
পেয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থদের ৪ জনের পক্ষে বাদী হয়ে মোঃ আলমগীর শেখ পিরোজপুর বিজ্ঞ
অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (দ:বি: ৪০৬/৪২০/১১৪ ধারায় সি.আর-
৫৮৭/২৩) নালিশী মামলা করেন। খোজ নিয়ে জানাগেছে, হেমায়েত ও বেল্লাল পিরোজপুরের
বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে এ ধরনের প্রতারণার মধ্য দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে
তাদের সর্বশান্ত করেছেন। এ ব্যাপারে পিরোজপুর পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর ইসলামী
ডিপিএস ইনচার্জ হেমায়েত খন্দকার (০১৭৬৬-০২২৫৮১) এবং হিসাব ইনচার্জ বেল্লাল খান
এর (০১৭১৩-৩৭২৪৩৬) মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদক তাদের বক্তব্য জানতে চেয়ে বার বার কল
করা হলে রিসিভ না করায় তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

পিরোজপুরে একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর আড়ালে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা

Update Time : ০৬:৫৮:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ এপ্রিল ২০২৪

পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরে একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর আড়ালে ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে এক ব্যবসায়ীর
পরিবারের ৪ সদস্যদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা বার বার ধর্না দিয়েও পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর
পিরোজপুর শাখার এ দুই কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাদের টাকা কোনভাবে ফেরত না পেয়ে
অবশেষে আদালতে মামলা করেছেন। আদালত অফিসার ইনচার্জ সিআইডি, পিরোজপুরকে
তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানাযায়, পিরোজপুর শহরের পুরাতন ঈদগাহ সংলগ্ন স্থানে মেসার্স
মোল্লা ট্রেডার্সের প্রোপাইটর মোঃ আলমগীর শেখ নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসা পরিচালনা
করে আসছিলেন। এই ব্যবসায়ীর সাথে সুযোগ সন্ধানী পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী
লিমিটেড (ইসলামী ডিপিএস) (২৭৩০) পিরোজপুর শাখার ইনচার্জ মোঃ হেমায়েত উদ্দিন
খন্দকার এবং তার সহযোগী ঐ একই শাখার হিসাব ইনচার্জ মোঃ বেল্লাল খান সু-সম্পর্ক
গড়ে তোলেন। হেমায়েত উদ্দিন খন্দকার পিরোজপুর পৌর এলাকার ছোট খলিশাখালীর বাসিন্দা
মোশারফ খন্দকারের ছেলে এবং বেল্লাল খান সদর উপজেলার কালিকাঠীর বাসিন্দা মৃত আ: ছত্তার
খান এর পুত্র। তারা সু-সম্পর্কের আড়ালে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ী আলমগীর
শেখ এবং তার পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ডিপিএস প্রকল্পে বীমা চালু করার
জন্য নানাভাবে উৎসাহ দিতে থাকে। একপর্যায়ে তাদের উৎসাহে আলমগীর শেখ তার পরিবারের
সদস্যদের জন্য ডিপিএস চালু করতে রাজি হন। আলমগীর এর স্ত্রী খুকি আক্তারের নামে দুটি
পৃথক ডিপিএস চালু করার কথা থাকলেও এ দুই কর্মকর্তা যোগসাজশে ভূয়া কাগজপত্র তৈরী
করে একই তারিখ দেখিয়ে (৩০ নভেম্বর ২০১৮) ১২ বছর মেয়াদী ৪ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা বীমা
অংকের পরপর ২টি বীমা খোলা হয়েছে বলে দেখায়। তারা এই ২টি ডিপিএসের বিপরীতে ভূয়া
প্রাপ্তি রশিদ দিয়ে খুকি আক্তারে কাছ থেকে মোট ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
হেমায়েত ও বেল্লাল চক্র আলমগীরের ছেলে আবু ছালেহ এর কাছ থেকেও ৫৬ হাজার, কন্যা রিফাত
জাহান রানীর কাছ থেকে ৫৫ হাজার এবং ভায়রার মেয়ে নাছরিন আক্তারের কাছ থেকে ৬১ হাজার
টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে পপুলার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর ঢাকা অফিসের সাথে যোগাযোগ
করা হলে হেমায়েত ও বেল্লাল এর প্রতারণা ও জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে যায়। ভুক্তভোগী
পরিবারের সদস্যরা বার বার শহরের পাড়েরহাট রোডস্থ পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর শাখা
অফিসে ধর্ণা দিয়ে টাকা ফেরত পেতে ব্যর্থ হয়। ক্ষতিগ্রস্থরা এ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর
চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত আবেদন করে সুরাহা পেতে ব্যর্থ হয়। কোথাও কোন প্রতিকার না
পেয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থদের ৪ জনের পক্ষে বাদী হয়ে মোঃ আলমগীর শেখ পিরোজপুর বিজ্ঞ
অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (দ:বি: ৪০৬/৪২০/১১৪ ধারায় সি.আর-
৫৮৭/২৩) নালিশী মামলা করেন। খোজ নিয়ে জানাগেছে, হেমায়েত ও বেল্লাল পিরোজপুরের
বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে এ ধরনের প্রতারণার মধ্য দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে
তাদের সর্বশান্ত করেছেন। এ ব্যাপারে পিরোজপুর পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর ইসলামী
ডিপিএস ইনচার্জ হেমায়েত খন্দকার (০১৭৬৬-০২২৫৮১) এবং হিসাব ইনচার্জ বেল্লাল খান
এর (০১৭১৩-৩৭২৪৩৬) মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদক তাদের বক্তব্য জানতে চেয়ে বার বার কল
করা হলে রিসিভ না করায় তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।