সর্বশেষ :
নবম পে-স্কেলের গেজেট জারির দাবিতে পাইকগাছায় সরকারি কর্মকর্তাদের অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত  পাইকগাছায় তীব্র শীত উপেক্ষা করে বোরো ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত চাষিরা ন্যায় ভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে জামাত ইসলামের  বিকল্প নেই – শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ কঙ্গোতে খনি ধসে নিহত দুই শতাধিক, আটকে আছেন আরও অনেকে পাকিস্তানে একযোগে ১২ স্থানে হামলা, নিহত অন্তত ৫৮ পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৫ সদস্যসহ নিহত ১২৫ লুটের অস্ত্র উদ্ধার না হলেও নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে না, দাবি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এনবিআর আমদানি তথ্য উন্মুক্ত করল সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ পর্যন্ত মুনাফায় উৎসে কর ৫ শতাংশই ঢাকা-১১: নাহিদের রিট খারিজ, বিএনপির এম এ কাইয়ুমের নির্বাচনে বাধা নেই
মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

জেল থেকে ফেরার পর আর যোগাযোগ করেননি প্রেমিক, নুসরাত ফারিয়ার স্বীকারোক্তি

প্রতিনিধি: / ৩ দেখেছেন:
পাবলিশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বিনোদন: হত্যা মামলায় গ্রেফতার ও ৪৮ ঘণ্টার কারাবাস নুসরাত ফারিয়ার জীবনে শুধু আইনি জটিলতাই নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্কেও বড় ভাঙন এনে দেয়। জেল থেকে বের হওয়ার পর যাঁর সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন, সেই মানুষটির আর দেখা পাননি অভিনেত্রী। যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়। সময়টা তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছে, কে আসল আপন আর কে কেবল সুবিধার মানুষ।

ঘটনার শুরু গত বছরের ১৮ মে। থাইল্যান্ডে গানের শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ নুসরাত ফারিয়াকে আটক করে। পরে ভাটারা থানায় জুলাই মাসে হওয়া একটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়। বিষয়টি তখন তাঁর কাছে খুব গুরুতর মনে হয়নি বলে জানান ফারিয়া। কারণ, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তিনি ছিলেন কানাডায় এবং মামলার খবর শুনলেও সেটি নিয়ে খুব একটা ভাবেননি।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের পডকাস্টে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরতে গিয়ে নুসরাত ফারিয়া বলেন, “আমি ভাবতেই পারিনি এয়ারপোর্টে এমন কিছু হবে। ইমিগ্রেশন শেষ করে লাউঞ্জে বসে আলু ভাজি আর রুটি খাচ্ছিলাম। হঠাৎ সবকিছু বদলে গেল। কী হচ্ছে, ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না।” আটক হওয়ার পরপরই তিনি মাকে ও শিক্ষককে ফোন করেন। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সংশ্লিষ্টরা বুঝতে পারেন, তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তবে ততক্ষণে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।

গ্রেফতারের দুই দিন পর গত বছর ২০ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। সেদিন বিকেল তিনটার দিকে তিনি কারামুক্ত হন। জেলে কাটানো সময়ের কথা বলতে গিয়ে ফারিয়া জানান, প্রথমবার এজলাসে দাঁড়ানো ছিল তাঁর জীবনের এক অচেনা অভিজ্ঞতা। “এত দিন শুধু সিনেমায় এসব দেখেছি। বাস্তবে নিজে সেখানে দাঁড়াব, ভাবিনি কখনো।”

কারাগারের অভিজ্ঞতা তাঁকে ভেঙে দিলেও কিছু মানুষের মানবিক আচরণ তাঁকে কৃতজ্ঞ করেছে। অভিনেত্রীর ভাষায়, “জেলারের থেকে শুরু করে ভেতরের মানুষজন সবাই যে সহানুভূতি দেখিয়েছে, তা ভাবিনি। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আমি কিছু খাইনি। কিন্তু দেখেছি, কেউ লতি দিয়ে ভাত খাইয়ে দিচ্ছে, সকালে রুটি ছিঁড়ে মিষ্টি কুমড়া দিয়ে খাওয়াচ্ছে। আমার চোখ দিয়ে শুধু পানি পড়ছিল, আর ওরা আমাকে খাইয়ে দিচ্ছিল। আমি তাদের চিনি না, হয়তো আর কোনো দিন দেখাও হবে না।”

এই ঘটনার পর তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে যে পরিবর্তন এসেছে, সেটাই সবচেয়ে বেশি আঘাত দিয়েছে বলে জানান ফারিয়া। তিনি বলেন, “ওই সময় একজনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল। জেল থেকে বের হওয়ার পর তার আর দেখা পাইনি। সে আর কখনো যোগাযোগ করেনি।” শুধু প্রেমিক নয়, অনেক কাছের বন্ধুও তখন মুখ ফিরিয়ে নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তাঁর সঙ্গে তোলা ছবি মুছে ফেলেন অনেকে। বিপদে পড়েছেন বুঝে অনেকেই যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

নুসরাত ফারিয়ার মতে, এই ৪৮ ঘণ্টাই তাঁকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা দিয়েছে। “এই সময়টায় আমি বুঝে গেছি, কে আমার আপন আর কে নয়। মানুষের ওপর থেকে আস্থা আর ভালোবাসা অনেকটাই উঠে গেছে।” তবে সব অভিজ্ঞতাই যে নেতিবাচক ছিল, তা নয়। তিনি বলেন, “এই ঘটনার পর যাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে, বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে বাচ্চা পর্যন্ত সবার চোখে আমি একটা সহানুভূতির দৃষ্টি দেখেছি। মনে হয়েছে, তারা চেয়েছিল আমি যেন ঠিকভাবে ফিরে আসি।”

হত্যা মামলাটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। প্রতি মাসে আদালতে হাজিরা দিতে হয় নুসরাত ফারিয়াকে। এই ঘটনার পর অনেকে তাঁর সঙ্গে কাজ করতে সাহস পান না বলেও জানান তিনি। তবু জীবনের এই কঠিন অধ্যায় তাঁকে ভেঙে না দিয়ে আরও সচেতন করেছে বলেই মনে করেন অভিনেত্রী।


এই বিভাগের আরো খবর