সর্বশেষ :
নবম পে-স্কেলের গেজেট জারির দাবিতে পাইকগাছায় সরকারি কর্মকর্তাদের অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত  পাইকগাছায় তীব্র শীত উপেক্ষা করে বোরো ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত চাষিরা ন্যায় ভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে জামাত ইসলামের  বিকল্প নেই – শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ কঙ্গোতে খনি ধসে নিহত দুই শতাধিক, আটকে আছেন আরও অনেকে পাকিস্তানে একযোগে ১২ স্থানে হামলা, নিহত অন্তত ৫৮ পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৫ সদস্যসহ নিহত ১২৫ লুটের অস্ত্র উদ্ধার না হলেও নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে না, দাবি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এনবিআর আমদানি তথ্য উন্মুক্ত করল সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ পর্যন্ত মুনাফায় উৎসে কর ৫ শতাংশই ঢাকা-১১: নাহিদের রিট খারিজ, বিএনপির এম এ কাইয়ুমের নির্বাচনে বাধা নেই
মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:২২ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

পাকিস্তানে একযোগে ১২ স্থানে হামলা, নিহত অন্তত ৫৮

প্রতিনিধি: / ২৪ দেখেছেন:
পাবলিশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে একযোগে চালানো সন্ত্রাসী হামলা নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ব্যর্থ হয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ৫৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের অন্তত ১০ সদস্য। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) প্রদেশটির ১২টি স্থানে এই সহিংস ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও দেশটির শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলো।

নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে দ্য ডন জানায়, ভারতের মদদপুষ্ট হিসেবে চিহ্নিত ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ গোষ্ঠীর সদস্যরা বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিত হামলা চালানোর চেষ্টা করে। তবে সময়োপযোগী ও কার্যকর প্রতিরোধের কারণে সব হামলাই ব্যর্থ করে দেওয়া হয়। সংঘর্ষে জড়িত ৩৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হন বলে নিশ্চিত করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

রেডিও পাকিস্তানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান ও ধাওয়া এখনও চলছে। এসব অভিযানে আরও সন্ত্রাসীর হতাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য মিলছে। নিরাপত্তা বাহিনীর আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় বেলুচিস্তানে মোট ৮৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার হারনাই ও পাঞ্জগুর জেলায় চালানো অভিযানে অন্তত ৪১ জন নিহত হন।

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “সন্ত্রাসীরা একযোগে একাধিক স্থানে হামলা চালিয়ে মনোবল চাঙা করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বেলুচিস্তানের সাহসী পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার কর্পসের সদস্যরা যৌথভাবে তা প্রতিহত করেছে।” তিনি আরও বলেন, “এই হামলা আমাদের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানকে দুর্বল করতে পারবে না। শেষ সন্ত্রাসী নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।”

হামলার পর কুয়েটা, সিবি ও চামান এলাকায় মোবাইল ফোন সেবা চালু থাকলেও ডাটা বা ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডন। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রদেশজুড়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। কুয়েটা ট্রমা সেন্টার ও সিভিল হাসপাতালে অতিরিক্ত চিকিৎসক মোতায়েন করা হয়েছে এবং অপারেশন থিয়েটারগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে নাসিরাবাদ জেলায় একটি রেললাইনে বিস্ফোরক ও অ্যান্টি ট্যাংক মাইন উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। নাসিরাবাদের এসএসপি আসাদুল্লাহ নাসির জানান, সময়মতো পুলিশ, এফসি ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের যৌথ অভিযানে একটি সন্দেহভাজন আইইডি নিষ্ক্রিয় করা হয়। উদ্ধার করা বিস্ফোরক সামগ্রী পরবর্তী তদন্তের জন্য সন্ত্রাস দমন বিভাগকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বলেন, “নিরাপত্তা বাহিনীর পেশাদারিত্বের কারণে সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি নিহত নিরাপত্তা সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বেলুচিস্তানে শান্তি ও জাতীয় ঐক্য রক্ষায় কোনো আপস না করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতা চলছে। সর্বশেষ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচ লিবারেশন আর্মি। সংস্থাটি জানিয়েছে, খনিজসম্পদসমৃদ্ধ হলেও বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশগুলোর একটি, যেখানে উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ঘাটতি দীর্ঘদিনের।


এই বিভাগের আরো খবর