বিদেশ : ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জীবন-জীবিকার তাগিদে ভিন্ন রাজ্যে কাজে যাওয়ার পথে চরম হেনস্তার শিকার হয়েছে তিন কিশোর। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হিন্দি বলতে না পেরে নিজেদের মধ্যে বাংলায় কথা বলায় ছত্তিশগড় স্টেশনে ট্রেন থেকে তাদের নামিয়ে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। জানা যায়, কেতুগ্রামের ঝামটপুর গ্রামের তিন কিশোর কার্তিক দাস (১৬), রাকেশ দাস ও রতন দাস। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার গুজরাটের সুরাটে একটি রুটির কারখানায় কাজের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কার্তিক ও রাকেশ দুজনেই নবম শ্রেণির ছাত্র। মোট ৯ জনের একটি দলের সঙ্গে তারা রওনা দিয়েছিল। তবে শনিবার সন্ধ্যায় পরিবারের কাছে খবর আসে, ছত্তিশগড়ের রায়পুর স্টেশনে রেল পুলিশ (জিআরপি) তাদের তিনজনকে আটক করেছে। এদিকে পরিবারের অভিযোগ, ট্রেনের ভেতরে পুলিশ যখন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে, তখন ওই কিশোররা হিন্দিতে ঠিকমতো উত্তর দিতে পারছিল না। তারা নিজেদের মধ্যে বাংলায় কথা বলা শুরু করলে পুলিশ তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে এবং জোরপূর্বক ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয়। যদিও একই দলের আরেক সদস্য মুঠোফোনে জানান, তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে বয়সের সঠিক প্রমাণপত্র দেখাতে না পারায় তাদের আটক করা হয়েছে। তবে মূল সমস্যা হয়েছে ভাষা নিয়ে বলে দাবি পরিবারের। এদিকে এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন বেশ চাঞ্চল্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এমনকি স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব অভিযোগ করেছে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে পরিকল্পিতভাবে বাঙালিদের ওপর ভাষাগত দিক থেকে নিপীড়ন করছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহনাওয়াজ বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালি শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার বাড়ছে। আমরা প্রশাসনিকভাবে যোগাযোগ করছি যাতে ওই কিশোরদের দ্রুত ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যায়। জানা যায়, আটক হওয়া কার্তিক ও রাকেশের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। অভাবের তাড়নায় পড়াশোনার পাশাপাশি একটু বাড়তি আয়ের আশায় তারা সুরাটে যাচ্ছিল। কিন্তু মাঝপথে এমন বিপদে পড়ায় তাদের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও বিধায়ক ওই কিশোরদের মুক্তির জন্য ছত্তিশগড় পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা রক্ষা করছেন।