রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

কুর্দিদের নাগরিকত্ব ও ভাষাগত অধিকার ফিরিয়ে দিলো সিরিয়া

প্রতিনিধি: / ১ দেখেছেন:
পাবলিশ: রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬

বিদেশ : সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা একটি ঐতিহাসিক আদেশ জারির মাধ্যমে দেশটিতে বসবাসরত কুর্দিদের নাগরিকত্ব ও ভাষাগত অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। গতকাল শনিবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই আদেশ অনুযায়ী কুর্দি ভাষাকে আরবি ভাষার পাশাপাশি জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং কুর্দি পরিচয়কে সিরিয়ার জাতীয় ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর দেশটিতে চলমান অস্থিরতা কাটিয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই বড় ধরনের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এক ভিডিও বার্তায় দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, কুর্দি ভাই-বোনদের ক্ষতি করার বিষয়ে যেসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে তাতে কেউ যেন বিশ্বাস না করেন। তিনি কুর্দিদের নতুন জাতি গড়ার কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের সমস্ত অধিকার রক্ষা করা হবে। গত শুক্রবার জারি করা এই বিশেষ আদেশে বলা হয়েছে, ১৯৬২ সালে হাসাকাহ প্রদেশে এক বিতর্কিত আদমশুমারির মাধ্যমে যেসব কুর্দি নাগরিকত্ব হারিয়েছিলেন, এখন থেকে তারা পুনরায় সিরিয়ার নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন। নাগরিকত্বের পাশাপাশি কুর্দিদের সাংস্কৃতিক অধিকারের বিষয়টিতেও গুরুত্ব দিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন আদেশে কুর্দি ভাষা স্কুলে শিক্ষাদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং কুর্দি নববর্ষ ‘নওরোজ’ উপলক্ষে জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সিরিয়ার সর্বত্র জাতিগত বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কেউ জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ালে তার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কুর্দি প্রশাসন এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে এটিকে অধিকার আদায়ের প্রথম ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে তারা মনে করেন কেবল সাময়িক আদেশে কুর্দিদের অধিকার স্থায়ী হবে না, বরং সাংবিধানিকভাবে স্থায়ী অন্তর্ভুক্তিই তাদের মূল লক্ষ্য। এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘোষণার ঠিক আগেই সিরিয়ার আলেপ্পোয় ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন নিহত এবং লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ওই সংঘর্ষের পর কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এলাকাটি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় এবং গতকাল শনিবার সিরিয়ান সেনাবাহিনী দেইর হাফেরসহ পুরো অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। উল্লেখ্য, আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র এসডিএফ বর্তমানে দামেস্ক ও তুরস্কের বহুমুখী চাপের মুখে রয়েছে। তুরস্ক এসডিএফ সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচনা করলেও সিরিয়ার বর্তমান সরকার কুর্দিদের জাতীয় মূলধারায় ফিরিয়ে এনে দীর্ঘদিনের গৃহবিবাদ মেটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা


এই বিভাগের আরো খবর