বিদেশ : দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের অভিজাত গ্যাংনাম জেলার গুরিয়ং বস্তিতে গতকাল শুক্রবার ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় আট ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে সম্পূর্ণভাবে নেভাতে সক্ষম হয় দমকল বাহিনী। এতে কোনো প্রাণহানি না হলেও শতাধিক পরিবার বাস্ত্যচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। দেশটির অগ্নিনির্বাপণ সংস্থার এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় ভোর ৫টার কিছু পর আগুনের সূত্রপাত হয়। দুপুর ১টা ২৮ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়। ‘কোনো হতাহতের ঘটনা ছাড়াই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি,’ বলেন সংস্থাটির এক কর্মকর্তা। আগুনের ঘটনায় গুরিয়ং ভিলেজের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ২৫৮ জন বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। আগুন নেভাতে ৩২৪ জন দমকলকর্মী ও ১০৬টি যান মোতায়েন করা হয়। সকালে শহরজুড়ে কুয়াশা ও সূক্ষ্ণ ধুলা কমে এলে একটি হেলিকপ্টারও কাজে লাগানো হয়। ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা যায়, আকাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল স্তর উঠছে। মুখে মাস্ক পরে বয়স্ক বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়তে দেখা গেছে। প্রায় ৩০ বছর ধরে সেখানে বসবাসকারী ৬৯ বছর বয়সী কিম ওক-ইম বলেন, ‘আমি ঘুমাচ্ছিলাম। প্রতিবেশী ফোন করে জানায় আগুন লেগেছে। বাইরে বেরিয়ে দেখি আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘কয়েক বছর আগে বন্যায় সবকিছু ভেসে গিয়েছিল। এবার মনে হচ্ছে আগুন বাকিটুকুও নিয়ে যাবে। ঘর পুড়ে গেলে কোথায় থাকব তাই এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার।’ ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তামন্ত্রী ইউন হো-জুং আগুন নেভানো ও জীবন রক্ষায় ‘সব ধরনের জনবল ও সরঞ্জাম সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে’ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এটি সিউলের সবচেয়ে বড় বস্তি হিসেবে পরিচিত। সিউল সিটি পরিকল্পনা দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে এশিয়ান গেমস ও সিউল অলিম্পিকসহ বিভিন্ন জনকর্ম প্রকল্পে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো অনুমতি ছাড়াই গ্যাংনামের প্রান্তে বসতি গড়ে তোলে। সেখান থেকেই গুরিয়ং বস্তির জন্ম। এলাকাটি ভবিষ্যতে বহুতল আবাসিক ভবনে পুনর্গঠনের পরিকল্পনা থাকায় ইতিমধ্যে অনেক বাসিন্দা সরে গেছেন। তবে গ্যাংনাম জেলা সিটি পরিকল্পনা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখনো প্রায় ৩৩৬টি পরিবার গুরিয়ং বস্তিতে বসবাস করছে। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।