Dhaka ০৩:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছায় রাস মন্দিরে থাকা রাধা-গোবিন্দের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৫ Time View

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় রাস মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার সন্ধ্যার পর থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো এক সময়ের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান। পূজারিরা সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালাতে গেলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে বলে জানান মন্দির কমিটির সদস্যরা।

মন্দিরের সভাপতি সন্তোষ কুমার সরদার বলেন, প্রতি বছর রাস উৎসবের পরে আমরা মন্দিরে প্রতিমা রেখে দিই। প্রতিমাটিতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় সন্ধ্যা প্রদিপ জ্বালানো হয়। সোমবার সন্ধ্যায় সন্ধ্যা প্রদিপ জ্বালাতে গিয়ে স্থানীয় জনৈক মিলনের মা সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালাতে গিয়ে প্রথমে তার নজরে আসে। তিনি দেখেন প্রতিমাটির বিভিন্ন অঙ্গহানি হয়েছে। মন্দিরটির ফটকে লোহার গ্রিল থাকলেও দুটো জানালা ফাঁকা ছিলও আছে এবং ইং ২০২২ সাল থেকে মন্দিরটি নির্মান কাজ চলমান । যার পাশে ১৯৯৬ সালে আরও একটি মন্দির দেখাযায়। স্থাপনের পর থেকে এভাবেই প্রতিমা থাকে কিন্তু কখনও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। সন্তোষ সরদার মনে করেন রোববার সন্ধ্যার পর থেকে সোমবার সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত সময়ে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নজরে আসা মাত্র আমরা পুলিশ প্রশাসনকে জানান তারা।

সন্তোষ কুমার সরদার আরও বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মন্দিরে রাধা গোবিন্দের দুটি মূর্তি অঙ্গহানী করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পৌরসভার আরো ছয়টি মন্দির কমিটির সভা হয়েছে। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যেহেতু প্রতিমার অঙ্গহানি হয়েছে আগামী বুধবার তারা প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মন্দিরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি। এর সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’অপরদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ।

খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমান সাহা জানান, অনতিবিলম্বে এই দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ প্রতিনিধি সরেজমিনে গেলে মন্দিরে পার্শ্ববর্তী চন্দনা নামের এক গৃহ বধু জানান, প্রতিদিন বিকালে মন্দির প্রাঙ্গনে যুবক ছেলেরা গাজার আড্ডা বসায়। তারা এ ঘটনা ঘটাতে পারে। সচেতন মহল মনে করেন দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্থানীয় ভাবে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ বা রাজনৈতিক ইস্যু তৈরীর জন্য কোন দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটাতে পারে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

পাইকগাছায় রাস মন্দিরে থাকা রাধা-গোবিন্দের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে

Update Time : ০৬:২২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় রাস মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার সন্ধ্যার পর থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো এক সময়ের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান। পূজারিরা সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালাতে গেলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে বলে জানান মন্দির কমিটির সদস্যরা।

মন্দিরের সভাপতি সন্তোষ কুমার সরদার বলেন, প্রতি বছর রাস উৎসবের পরে আমরা মন্দিরে প্রতিমা রেখে দিই। প্রতিমাটিতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় সন্ধ্যা প্রদিপ জ্বালানো হয়। সোমবার সন্ধ্যায় সন্ধ্যা প্রদিপ জ্বালাতে গিয়ে স্থানীয় জনৈক মিলনের মা সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালাতে গিয়ে প্রথমে তার নজরে আসে। তিনি দেখেন প্রতিমাটির বিভিন্ন অঙ্গহানি হয়েছে। মন্দিরটির ফটকে লোহার গ্রিল থাকলেও দুটো জানালা ফাঁকা ছিলও আছে এবং ইং ২০২২ সাল থেকে মন্দিরটি নির্মান কাজ চলমান । যার পাশে ১৯৯৬ সালে আরও একটি মন্দির দেখাযায়। স্থাপনের পর থেকে এভাবেই প্রতিমা থাকে কিন্তু কখনও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। সন্তোষ সরদার মনে করেন রোববার সন্ধ্যার পর থেকে সোমবার সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত সময়ে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নজরে আসা মাত্র আমরা পুলিশ প্রশাসনকে জানান তারা।

সন্তোষ কুমার সরদার আরও বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মন্দিরে রাধা গোবিন্দের দুটি মূর্তি অঙ্গহানী করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পৌরসভার আরো ছয়টি মন্দির কমিটির সভা হয়েছে। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যেহেতু প্রতিমার অঙ্গহানি হয়েছে আগামী বুধবার তারা প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মন্দিরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি। এর সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’অপরদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ।

খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমান সাহা জানান, অনতিবিলম্বে এই দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ প্রতিনিধি সরেজমিনে গেলে মন্দিরে পার্শ্ববর্তী চন্দনা নামের এক গৃহ বধু জানান, প্রতিদিন বিকালে মন্দির প্রাঙ্গনে যুবক ছেলেরা গাজার আড্ডা বসায়। তারা এ ঘটনা ঘটাতে পারে। সচেতন মহল মনে করেন দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্থানীয় ভাবে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ বা রাজনৈতিক ইস্যু তৈরীর জন্য কোন দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটাতে পারে।