সুন্দরবনে ডাকাত দলের হাতে জিম্মি পর্যটক উদ্ধার ৩ ডাকাতসহ ৬ জন আটক
প্রতিনিধি:
/ ২৯
দেখেছেন:
পাবলিশ:
মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
শেয়ার করুন
বাগেরহাট প্রতিবেদকঃ সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে ডাকাত দলের হাতে জিম্মি থাকা দুই পর্যটক ও একটি রিসোর্টের মালিককে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ ডাকাতসহ মোট ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট থেকে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় কাঠের বোটযোগে ভ্রমণের সময় পাঁচজন পর্যটক, একজন মাঝি ও গোলকানন রিসোর্টের মালিকসহ মোট সাতজনকে ডাকাত মাসুম মৃধার নেতৃত্বাধীন একটি ডাকাত দল জিম্মি করে। পরে ডাকাতরা তিনজন পর্যটক ও মাঝিকে ছেড়ে দিলেও দুইজন পর্যটক এবং রিসোর্ট মালিককে জিম্মি করে সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং মুক্তিপণ দাবি করে।
ঘটনাটি জানার পর কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়।
অভিযান চলাকালে গত ৩ জানুয়ারি ডাকাত মাসুমের সহযোগী কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মোঃ সালাম বক্স (২৪) ও মেহেদী হাসান (১৯) কে গোলকানন রিসোর্ট সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরদিন ৪ জানুয়ারি সুন্দরবনের কৈলাশগঞ্জ এলাকা থেকে ডাকাত সহযোগী আলম মাতব্বর (৩৮) কে আটক করা হয়।
একই দিনে খুলনার রূপসা থানাধীন পালেরহাট এলাকা থেকে গোয়েন্দা নজরদারি ও আর্থিক লেনদেন (Financial Footprint) অনুসরণ করে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা উত্তোলনের সময় ডাকাত মাসুমের মা জয়নবী বিবি (৫৫) ও বিকাশ ব্যবসায়ী অয়ন কুন্ডু (৩০) কে নগদ ৮১ হাজার ৪০০ টাকাসহ আটক করা হয়।
পরবর্তীতে রবিবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ড্রোন সার্ভিলেন্সের মাধ্যমে সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে জিম্মিকৃত দুই পর্যটক ও গোলকানন রিসোর্টের মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক আরও জানান, উদ্ধারকৃত পর্যটকদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং আটককৃতদের থানায় সোপর্দ করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রধান ডাকাত মাসুম মৃধাকে আটক করতে কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটকসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।