বিনোদন: নতুন বছরের শুরুতেই নিজের কিছু ছবি শেয়ার করে নেটদুনিয়ায় কৌতূহল জাগালেন বলিউড তারকা হৃতিক রোশন। গতকাল শনিবার সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে শেয়ার করা ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “আমার ভেতরের ২৫ শতাংশ বাঙালি রক্তটাই বুঝি এভাবে প্রকাশ পেয়েছে।” এই এক লাইনের মন্তব্যেই প্রশ্ন উঠে যায়, বাঙালির সঙ্গে হৃতিক রোশনের যোগ কোথায়। ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই সেগুলো ভাইরাল হয়ে যায়। জানুয়ারি মাস এমনিতেই হৃতিকের জীবনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৭৪ সালের ১০ জানুয়ারি তাঁর জন্ম। আবার ২০০০ সালের ১৪ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছিল তাঁর প্রথম ছবি ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’, যা তাঁকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দেয়। বয়স পঞ্চাশ পেরোলেও জনপ্রিয়তার জৌলুস এতটুকু কমেনি, বরং নারীভক্তদের কাছে আজও তিনি বলিউডের ‘গ্রিক গড’। হৃতিকের বাঙালি যোগের সূত্রটি লুকিয়ে আছে তাঁর পরিবারেই। ১৯৭৪ সালে মুম্বাইয়ে জন্ম হলেও তাঁর দাদি ইরা রোশন ছিলেন বাঙালি। ইরার জন্মনাম ছিল ইরা মৈত্র। মাত্র কুড়ি বছর বয়সে তিনি কলকাতা ছেড়ে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে কাজ করতে যান। গান ছিল তাঁর নেশা। সেই সূত্রেই পরিচয় এবং পরে বিয়ে হয় সংগীত পরিচালক রোশন লাল নাগরথের সঙ্গে। এটি ছিল রোশন লালের দ্বিতীয় বিয়ে। এই দম্পতির সংসারে জন্ম নেন দুই ছেলে, রাকেশ ও রাজেশ। কিন্তু সুখের সেই সংসার বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে রোশন লালের মৃত্যু হলে দুই ছেলেকে নিয়ে ইরা রোশন পাড়ি জমান মুম্বাইয়ে। শুরু হয় নতুন লড়াই। পরিবারকে আগলে রাখার শক্ত ভিত ছিলেন ইরাই। রান্না করতে ভালোবাসতেন ইরা, বিশেষ করে মাছের পদ ছিল তাঁর বিশেষত্ব। নাতি হৃতিক ছিলেন তাঁর ভীষণ আদরের। হৃতিকের ডাকনাম ‘ডুগগু’ও রেখেছিলেন ইরাই। রাকেশ রোশনের ডাকনাম ছিল ‘গুড্ডু’, সেখান থেকেই মিল রেখে এই নাম। শোনা যায়, রোশন পরিবারে শেষ কথা বলতেন ইরাই, আর তাঁর হাতের রান্না করা মাছ হৃতিকের ছিল ভীষণ প্রিয়। কাকতালীয়ভাবে হৃতিকের প্রথম স্টেজ পারফরম্যান্সও হয়েছিল কলকাতায়। দাদিকে তিনি ডাকতেন ‘ঠামি’ বলে। যদিও ঠামির কাছ থেকে বাংলা শেখার সুযোগ হয়নি তাঁর। রাকেশ রোশন কিছুটা বাংলা জানলেও হৃতিক সেই সুযোগ পাননি। তবু কলকাতায় এলেই আজও তাঁর মনে পড়ে দাদির কথা, মাছভাত, আদর আর শাসনের স্মৃতি। ২০০৫ সালের ২২ জানুয়ারি ইরা রোশনের মৃত্যু হয়। শৈশবের সেই আশ্রয় হারান হৃতিক। নতুন বছরের শুরুতে নিজের কিছু ছবি পোস্ট করে যেন সেই স্মৃতির দিকেই ফিরে তাকালেন তিনি। নিজের মধ্যেই খুঁজে পেলেন বাঙালিয়ানা, বললেন, “আমার ভেতরের ২৫ শতাংশ বাঙালি রক্তটাই বুঝি এভাবে প্রকাশ পেয়েছে।”