সর্বশেষ :
কলম্বিয়ায় ১২৫ আরোহী নিয়ে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, মৃত বেড়ে ৬৬ যুক্তরাষ্ট্রের তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, এলাকাবাসীকে ঘরে থাকার নির্দেশ ইরানে হামলা করতে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছিলেন ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান, ট্রাম্পের দাবি ‘ভুয়া’ বলল ইরান নির্বাচিত নতুন সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারিতেও অব্যাহত মব সন্ত্রাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৯ গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত ২, আহত অর্ধশতাধিক আইএমএফ বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী বললেন, বাজেটে প্রতিফলিত হবে বিএনপির ইশতেহার বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ লাখ টাকার ঋণ সুবিধা তেলের মজুদ নিয়ে শঙ্কা নয়, অতিরিক্ত কেনাকাটাই সংকটের কারণ: জ্বালানিমন্ত্রী ১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাইয়ে প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ৪০টি
বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

সোহেল রানা সবার কাছে ক্ষমা চাইলেন

প্রতিনিধি: / ১৪৭ দেখেছেন:
পাবলিশ: মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক, প্রযোজক ও পরিচালক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা। বয়সের ভারে এখন আর ক্যামেরার সামনে নিয়মিত দেখা যায় না তাকে। বার্ধক্যের কারণে বেশিরভাগ সময় কাটছে বাসাতেই। তবে চলচ্চিত্রের প্রতি টান, সহকর্মীদের প্রতি আবেগ আর দেশবাসীর প্রতি দায়িত্ববোধ এখনো অনুভব করেন তিনি। সেই টান থেকেই সহকর্মী ও দেশবাসীর উদ্দেশে ছুঁড়ে দিলেন হৃদয়ছোঁয়া কথা, “যদি কোনো ভুল-ত্রুটি কিংবা অন্যায় করে থাকি, আজ এই মুহূর্তে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।” গত রোববার বিএফডিসিতে প্রয়াত চলচ্চিত্রশিল্পীদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে হাজির হয়েছিলেন তিনি। নতুন-পুরাতন শিল্পীদের ভিড়ে সেখানে আবেগাপ্লুত হয়ে সোহেল রানা বলেন, “কে কখন চলে যাব, শিওর না। তাই এই সুযোগে আমার সঙ্গে যারা কাজ করেছেন বা ভবিষ্যতে করবেন, আমি যদি কারও প্রতি কোনো অন্যায় বা ভুল করে থাকি, আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। কারণ আমি জানি না, কবে চলে যাব।’’ সোহেল রানা শুধু অভিনেতাই নন, তিনি মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত পরেই প্রযোজনা করেন ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’। নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মিলে তিনি সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়েই ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেছিলেন যুদ্ধের বাস্তবতা। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে তখন চলচ্চিত্র নির্মাণ করা প্রায় অসম্ভব ছিল, কিন্তু সোহেল রানা সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছিলেন। ১৯৭২ সালে ‘পারভেজ ফিল্মস’ নামে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। প্রযোজনা করেন প্রায় ৩০টিরও বেশি চলচ্চিত্র। তবে জনপ্রিয়তা পান নায়ক হিসেবেই। ১৯৭৪ সালে কাজী আনোয়ার হোসেনের বিখ্যাত চরিত্র অবলম্বনে নির্মিত ‘মাসুদ রানা’ চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। একই সিনেমায় পরিচালক হিসেবেও যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর একে একে ‘এপার ওপার’, ‘দস্যু বনহুর’, ‘জীবন নৌকা’সহ প্রায় তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন সোহেল রানা। ‘লালু ভুলু’, ‘অজান্তে’ ও ‘সাহসী মানুষ চাই’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৯ সালে পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা। অভিনেতা সোহেল রানা হয়তো এখন আর নিয়মিত পর্দায় আসেন না। কিন্তু তার চোখে মুখে, কথায় আর কণ্ঠে স্পষ্ট হয়ে ওঠে জীবনের অনিত্য নিয়ে উপলব্ধি। তিনি বিনীতভাবে বললেন, “আমি ভুল করেছি, ভুল অনেক করেছি। তাই সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। যেন মৃত্যুর পর মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নীতি ও আদর্শ নিয়ে দাঁড়াতে পারি।”


এই বিভাগের আরো খবর