Dhaka ০৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছায় ভাসমান বীজতলায় সফলতা পেয়েছে কৃষক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২০:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৬৬ Time View

ইমদাদুল হক,পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা মোকাবেলায় কলাগাছের ভেলায় ভাসমান ধানের বীজতলা তৈরি করে সফলতা পেয়েছে কৃষক পরিবার। অতিবৃষ্টি, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতায় নাকাল উপকূলের পাইকগাছার কৃষক। সর্বশেষ টানা বর্ষণে শুধু খুলনায়ই ফসল,সবজি ও আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৩ সহস্রাধিক কৃষক। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভাসমান ধানের বীজতলা তৈরি করে সফলতা পেয়েছে খুলনার এক কৃষক পরিবার।চলতি বর্ষা মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে কয়েক দফা বীজতলা নষ্ট হওয়ায় এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন পাইকগাছা উপজেলার নোয়াকাটি গ্রামের কৃষক রোকেয়া পারভীন। দেবর আব্দুল কুদ্দুসকে নিয়ে ফেলে দেওয়া কলাগাছ, বাঁশ ও মাটি ব্যবহার করে তৈরি বীজতলা এখন দুর্যোগকবলিত কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে।কৃষাণী রোকেয়া পারভীন বলেন, বৃষ্টির জন্য কয়েক দফায় প্রায় ১০০ কেজি বীজ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছিলাম না। অ্যাওসেডের কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে কলাগাছের ভেলা বানিয়ে কাদামাটি তুলে ব্রি-৭৫ আমন ধানের বীজ ফেলছি। একটি বীজও নষ্ট হয়নি, মাত্র ১৫ দিনে চারা রোপণের মতো হয়েছে। এখন আশপাশের কৃষকরা ভাসমান বীজতলায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন।রোকেয়ার দেবর আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রথমে আমাদের কাজ দেখে সবাই পাগল বলত। বলত কলাগাছের ভেলায় ধান হলে তো কারো জমির দরকার ছিল না। কিন্তু এখন সবাই অবাক। এখানে কোনো সার-কীটনাশকও লাগেনি। জমিতেও এমন ধানের চারা আর কখনো হয়নি।শুধু আমরা না, গ্রামের সবাই খুশি।নোয়াকাটি গ্রামের কৃষক কবির মোড়ল বলেন, মাত্র ১০ দিনে তিন-চার ইঞ্চি ধানের চারা। যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না। অথচ আমার বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষক আবদুল্লাহ মোড়ল জানান, চলতি আমন মৌসুম বৃষ্টির কারণে এক মাস দেরি হয়েছে। সামনে আর সমস্যা হবে না। কলার ভেলা, কচুরিপানা ও প্লাস্টিকের ড্রামের মাধ্যমে মাচা তৈরি করে ধানের বীজতলা করা যাবে।বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অটোক্রোপ কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, কলাগাছের ভেলায় ধানের বীজতলা কৃষকদের স্বপ্ন দেখাবে। ভাসমান ভেলায় ধানের বীজতলা তৈরিতে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেছেন অ্যাওসেডের কমিউনিটি মোবালাইজার শুভঙ্কর বিশ্বাস। তিনি বলেন, এবার পাইকগাছাসহ খুলনা অঞ্চলে আমনের বীজতলা কয়েকবার নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থা থেকেই ভাসমান বীজতলা তৈরির ভাবনা, কৃষকরা যার সফল বাস্তবায়ন করেছেন।পাইকগাছা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, ইতিপূর্বে পাইকগাছায় ভাসমান বীজতলা তৈরির প্রয়োজন পড়েনি। চলতি বর্ষা মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে কৃষকের বীজ তলা একাধিকবার নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যেও কৃষকরা উচু জায়গায় বীজ তলা তৈরি করেছে। বিগত ২০ বছরে এমন বৃস্টি হয়নি। এনজিও অ্যাওসেডের উদ্যেগে উপজেলার নোয়াকাটিতে কলাগাছের ভেলায় একটি বীজতলা করা হয়েছে।খুলনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, এটি ভালো উদ্যোগ। কৃষকের ঝুঁকি কমাতে উঁচু স্থানে বা ভেলা বিকল্পভাবে বীজতলার ব্যবস্থা করতে হবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

পাইকগাছায় ভাসমান বীজতলায় সফলতা পেয়েছে কৃষক

Update Time : ০৮:২০:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

ইমদাদুল হক,পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা মোকাবেলায় কলাগাছের ভেলায় ভাসমান ধানের বীজতলা তৈরি করে সফলতা পেয়েছে কৃষক পরিবার। অতিবৃষ্টি, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতায় নাকাল উপকূলের পাইকগাছার কৃষক। সর্বশেষ টানা বর্ষণে শুধু খুলনায়ই ফসল,সবজি ও আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৩ সহস্রাধিক কৃষক। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভাসমান ধানের বীজতলা তৈরি করে সফলতা পেয়েছে খুলনার এক কৃষক পরিবার।চলতি বর্ষা মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে কয়েক দফা বীজতলা নষ্ট হওয়ায় এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন পাইকগাছা উপজেলার নোয়াকাটি গ্রামের কৃষক রোকেয়া পারভীন। দেবর আব্দুল কুদ্দুসকে নিয়ে ফেলে দেওয়া কলাগাছ, বাঁশ ও মাটি ব্যবহার করে তৈরি বীজতলা এখন দুর্যোগকবলিত কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে।কৃষাণী রোকেয়া পারভীন বলেন, বৃষ্টির জন্য কয়েক দফায় প্রায় ১০০ কেজি বীজ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছিলাম না। অ্যাওসেডের কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে কলাগাছের ভেলা বানিয়ে কাদামাটি তুলে ব্রি-৭৫ আমন ধানের বীজ ফেলছি। একটি বীজও নষ্ট হয়নি, মাত্র ১৫ দিনে চারা রোপণের মতো হয়েছে। এখন আশপাশের কৃষকরা ভাসমান বীজতলায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন।রোকেয়ার দেবর আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রথমে আমাদের কাজ দেখে সবাই পাগল বলত। বলত কলাগাছের ভেলায় ধান হলে তো কারো জমির দরকার ছিল না। কিন্তু এখন সবাই অবাক। এখানে কোনো সার-কীটনাশকও লাগেনি। জমিতেও এমন ধানের চারা আর কখনো হয়নি।শুধু আমরা না, গ্রামের সবাই খুশি।নোয়াকাটি গ্রামের কৃষক কবির মোড়ল বলেন, মাত্র ১০ দিনে তিন-চার ইঞ্চি ধানের চারা। যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না। অথচ আমার বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষক আবদুল্লাহ মোড়ল জানান, চলতি আমন মৌসুম বৃষ্টির কারণে এক মাস দেরি হয়েছে। সামনে আর সমস্যা হবে না। কলার ভেলা, কচুরিপানা ও প্লাস্টিকের ড্রামের মাধ্যমে মাচা তৈরি করে ধানের বীজতলা করা যাবে।বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অটোক্রোপ কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, কলাগাছের ভেলায় ধানের বীজতলা কৃষকদের স্বপ্ন দেখাবে। ভাসমান ভেলায় ধানের বীজতলা তৈরিতে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেছেন অ্যাওসেডের কমিউনিটি মোবালাইজার শুভঙ্কর বিশ্বাস। তিনি বলেন, এবার পাইকগাছাসহ খুলনা অঞ্চলে আমনের বীজতলা কয়েকবার নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থা থেকেই ভাসমান বীজতলা তৈরির ভাবনা, কৃষকরা যার সফল বাস্তবায়ন করেছেন।পাইকগাছা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, ইতিপূর্বে পাইকগাছায় ভাসমান বীজতলা তৈরির প্রয়োজন পড়েনি। চলতি বর্ষা মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে কৃষকের বীজ তলা একাধিকবার নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যেও কৃষকরা উচু জায়গায় বীজ তলা তৈরি করেছে। বিগত ২০ বছরে এমন বৃস্টি হয়নি। এনজিও অ্যাওসেডের উদ্যেগে উপজেলার নোয়াকাটিতে কলাগাছের ভেলায় একটি বীজতলা করা হয়েছে।খুলনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, এটি ভালো উদ্যোগ। কৃষকের ঝুঁকি কমাতে উঁচু স্থানে বা ভেলা বিকল্পভাবে বীজতলার ব্যবস্থা করতে হবে।