Dhaka ০৮:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গৃহযুদ্ধের কারণে সুদানে দেশ ছেড়েছেন ৪০ লাখ মানুষ: জাতিসংঘ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫
  • ১৮৬ Time View

বিদেশ : সুদানে ২০২৩ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪০ লাখের বেশি মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। মঙ্গলবার জেনেভায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার কর্মকর্তারা এ তথ্য দেন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র ইউজিন বিউন বলেছেন, সুদান গৃহযুদ্ধের তৃতীয় বছর চলছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত চল্লিশ লাখের মতো মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ শরণার্থী সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের আশঙ্কা, সুদান সংকট সমাধান না হলে আরও লাখ লাখ মানুষ পালাতে বাধ্য হবেন, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে চলছে সুদানের গৃহযুদ্ধ। দেশটির সঙ্গে সাতটি দেশের সীমান্ত রয়েছে। এগুলো হলো শাদ, দক্ষিণ সুদান, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র এবং লিবিয়া। জাতিসংঘের আরেক কর্মকর্তা দোসসোউ প্যাট্রিস একই সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, সুদান থেকে আট লাখের বেশি শরণার্থী শাদে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে প্রয়োজনীয় তহবিলের মাত্র ১৪ শতাংশ পূরণ হওয়ায় শরণার্থীরা মানবেতর অবস্থায় আছেন। তিনি বলেছেন, আমরা এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি। এটি মানবতার সংকট। তিনি বলেন, অনেকেই ভয়াবহ সহিংসতা থেকে কোনও রকম পালিয়ে এসেছেন। উদাহরণ হিসেবে শাদের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া সাত বছর বয়সী এক শিশুর কথা বলেন তিনি। সুদানের জামজাম শিবিরে হামলায় তার বাবা ও দুই ভাই নিহত হন এবং পালানোর সময় সে এতোটাই মারাত্মক আহত হয় যে, প্রাণ বাঁচাতে তার এক পা কেটে ফেলতে হয়। তার মা আগে একটি হামলায় মারা যান। আরেক শরণার্থী জানান, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সামনে পড়লে তাদের ঘোড়া ও গাধা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। উপায়ান্তর না দেখে পরিবারের অন্য সদস্যদের ঠেলাগাড়িতে বসিয়ে প্রাপ্ত বয়স্করা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করতে থাকেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

গৃহযুদ্ধের কারণে সুদানে দেশ ছেড়েছেন ৪০ লাখ মানুষ: জাতিসংঘ

Update Time : ১২:৫৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫

বিদেশ : সুদানে ২০২৩ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪০ লাখের বেশি মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। মঙ্গলবার জেনেভায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার কর্মকর্তারা এ তথ্য দেন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র ইউজিন বিউন বলেছেন, সুদান গৃহযুদ্ধের তৃতীয় বছর চলছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত চল্লিশ লাখের মতো মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ শরণার্থী সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের আশঙ্কা, সুদান সংকট সমাধান না হলে আরও লাখ লাখ মানুষ পালাতে বাধ্য হবেন, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে চলছে সুদানের গৃহযুদ্ধ। দেশটির সঙ্গে সাতটি দেশের সীমান্ত রয়েছে। এগুলো হলো শাদ, দক্ষিণ সুদান, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র এবং লিবিয়া। জাতিসংঘের আরেক কর্মকর্তা দোসসোউ প্যাট্রিস একই সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, সুদান থেকে আট লাখের বেশি শরণার্থী শাদে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে প্রয়োজনীয় তহবিলের মাত্র ১৪ শতাংশ পূরণ হওয়ায় শরণার্থীরা মানবেতর অবস্থায় আছেন। তিনি বলেছেন, আমরা এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি। এটি মানবতার সংকট। তিনি বলেন, অনেকেই ভয়াবহ সহিংসতা থেকে কোনও রকম পালিয়ে এসেছেন। উদাহরণ হিসেবে শাদের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া সাত বছর বয়সী এক শিশুর কথা বলেন তিনি। সুদানের জামজাম শিবিরে হামলায় তার বাবা ও দুই ভাই নিহত হন এবং পালানোর সময় সে এতোটাই মারাত্মক আহত হয় যে, প্রাণ বাঁচাতে তার এক পা কেটে ফেলতে হয়। তার মা আগে একটি হামলায় মারা যান। আরেক শরণার্থী জানান, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সামনে পড়লে তাদের ঘোড়া ও গাধা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। উপায়ান্তর না দেখে পরিবারের অন্য সদস্যদের ঠেলাগাড়িতে বসিয়ে প্রাপ্ত বয়স্করা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করতে থাকেন।