Dhaka ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোরেলগঞ্জে জলাবদ্ধতায় জনজীবন বিপর্যস্ত, টেকসই বেড়িবাঁধ ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার জোর দাবি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫
  • ২৭৩ Time View
মো. নাজমুল, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: টানা বৃষ্টিপাত ও নদীর জোয়ারের চাপে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ পৌর শহর পরিণত হয়েছে এক বিশাল জলাধারে। হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে শহরের প্রধান সড়ক ও বাজার এলাকা। জনদুর্ভোগ এখন চরমে, স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
বিশেষ করে মোরেলগঞ্জ বাজার, হাসপাতাল রোড, কলেজপাড়া, কৃষি ব্যাংক রোড, বাজার লঞ্চঘাট ও নতুন কাচাবাজার এলাকায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্কুলগামী শিশু থেকে শুরু করে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী, কেউই এই দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না। দোকানে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন ব্যাপক ক্ষতির মুখে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোরেলগঞ্জ পৌর এলাকায় এখনো কোনো টেকসই বেড়িবাঁধ গড়ে তোলা হয়নি। সেই সঙ্গে ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম বেহাল দশা প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটায়। পৌরসভার অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবকেই মূল দায় হিসেবে দেখছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) পানিবন্দি পৌরসভার এসব  এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাবিবুল্লাহ। সঙ্গে ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকৌশলী ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। ইউএনও জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে।
এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও বাগেরহাট-৪ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী কাজী খায়রুজ্জামান শিপনের এই দুরবস্থার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে দেওয়া বক্তব্যে সৃষ্টি হয়েছে আলোড়ন। তিনি বলেন, “১৭ বছরে উন্নয়নের নামে শুধু আশ্বাস এসেছে, বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়নি।” তার মতে, টেকসই বেড়িবাঁধ এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়া এই সংকট থেকে মুক্তি মিলবে না।
পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে এবং বাজার এলাকার পানি প্রবেশের পথগুলো বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সামনের দিনগুলোতেও ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
মোরেলগঞ্জের সাধারণ মানুষ এখন আর অস্থায়ী সমাধানে সন্তুষ্ট নন। তাদের জোরালো দাবি—পাকা বেড়িবাঁধ, কার্যকর ড্রেনেজ এবং প্রশাসনিক সদিচ্ছা। তাদের মতে, বারবার একই দুর্ভোগ সহ্য না করে এবার স্থায়ী সমাধান চাই।
এক প্রবীণ নাগরিকের কথায়, “প্রতিবারই বর্ষায় ডুবে যাই, আবার উঠে দাঁড়াই। কিন্তু আর কত? উন্নয়ন চাই, কাগজে-কলমে না—বাস্তবে।”
Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বাগেরহাটে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মোরেলগঞ্জে জলাবদ্ধতায় জনজীবন বিপর্যস্ত, টেকসই বেড়িবাঁধ ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার জোর দাবি

Update Time : ১১:০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫
মো. নাজমুল, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: টানা বৃষ্টিপাত ও নদীর জোয়ারের চাপে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ পৌর শহর পরিণত হয়েছে এক বিশাল জলাধারে। হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে শহরের প্রধান সড়ক ও বাজার এলাকা। জনদুর্ভোগ এখন চরমে, স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
বিশেষ করে মোরেলগঞ্জ বাজার, হাসপাতাল রোড, কলেজপাড়া, কৃষি ব্যাংক রোড, বাজার লঞ্চঘাট ও নতুন কাচাবাজার এলাকায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্কুলগামী শিশু থেকে শুরু করে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী, কেউই এই দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না। দোকানে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন ব্যাপক ক্ষতির মুখে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোরেলগঞ্জ পৌর এলাকায় এখনো কোনো টেকসই বেড়িবাঁধ গড়ে তোলা হয়নি। সেই সঙ্গে ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম বেহাল দশা প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটায়। পৌরসভার অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবকেই মূল দায় হিসেবে দেখছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) পানিবন্দি পৌরসভার এসব  এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাবিবুল্লাহ। সঙ্গে ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকৌশলী ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। ইউএনও জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে।
এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও বাগেরহাট-৪ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী কাজী খায়রুজ্জামান শিপনের এই দুরবস্থার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে দেওয়া বক্তব্যে সৃষ্টি হয়েছে আলোড়ন। তিনি বলেন, “১৭ বছরে উন্নয়নের নামে শুধু আশ্বাস এসেছে, বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়নি।” তার মতে, টেকসই বেড়িবাঁধ এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়া এই সংকট থেকে মুক্তি মিলবে না।
পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে এবং বাজার এলাকার পানি প্রবেশের পথগুলো বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সামনের দিনগুলোতেও ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
মোরেলগঞ্জের সাধারণ মানুষ এখন আর অস্থায়ী সমাধানে সন্তুষ্ট নন। তাদের জোরালো দাবি—পাকা বেড়িবাঁধ, কার্যকর ড্রেনেজ এবং প্রশাসনিক সদিচ্ছা। তাদের মতে, বারবার একই দুর্ভোগ সহ্য না করে এবার স্থায়ী সমাধান চাই।
এক প্রবীণ নাগরিকের কথায়, “প্রতিবারই বর্ষায় ডুবে যাই, আবার উঠে দাঁড়াই। কিন্তু আর কত? উন্নয়ন চাই, কাগজে-কলমে না—বাস্তবে।”