Dhaka ০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জাগঞ্জে খাল খনন না করেই বিল উত্তোলন 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০২:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫
  • ২২২ Time View
মাসুম বিল্লাহ, মির্জাগঞ্জঃ মির্জাগঞ্জে খাল খনন না করেই বরাদ্দের টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠছে।খাল খননের নামে হয়েছে কচুরিপানা পরিষ্কার এবং মাছ শিকারের মহা উৎসব এমনই অভিযোগ খাল পারের বাসিন্দাদের। দুই এক জায়গায় দিয়ে যা একটু খনন  হয়েছে তার জন্য স্থানীয়দের গুনতে হয়েছে টাকা। খালের মাটি খালে রেখে সরকারি টাকা পুরোটাই হয়েছে ভাগবাটোয়ারা। খনন না করলেও প্রায় শতভাগ বিল দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, জলবদ্ধতা নিরাসনের লক্ষে গত ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের বেতবুনিয়া ও চাকরখালী খালের প্রায় ১ দশমিক ৩৭৫ কিলোমিটারের খনন ( পলি নিষ্কাশন) রেগুলেটার মেরামত ও অফিস মেরামতের জন্য  ১৫ লক্ষ ৯২ হাজার ২২১ টাকা ব্যয়ে কাজটি পায় চৈতা বাজিতা পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি। পাঁচটি এলসিএস কমিটির মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন করা কথা। আর কাজটি পরিচালনা করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি। নিয়মমতে,খাল খননের বিল উত্তোলন করতে এলসিএস কমিটির সদস্যদের উপস্থিততে বিল দেওয়ার কথা। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা না করে এলসিএস কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের স্বাক্ষর জাল করে  জাহাঙ্গীর গাজী ও বেলাল মৃধা নামে দুই ব্যক্তি বিল উত্তোলন করে নিয়েছে বলে অভিযোগ এলসিএস কমিটির সভাপতি এবং সম্পাদকদের।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গেলে, কোন রকম খনন বা নিষ্কাশনের  চিহ্ন দেখা মিলে নাই খালগুলোর। এক হাত পরিমাণ পানি নেই খালে। পারে দাঁড়ালে দেখা যাচ্ছে খালের তলদেশর মাটি।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ হাবিবুর রহমান মৃধা বলেন, খাল তো কাটতে দেখি নাই। শুধু মাছ ধরছে আর কচুরিপানা পরিষ্কার করছে।
খাল পারের আর এক বাসিন্দা আবু হানিফ জোমাদ্দার বলেন, সরকারিভাবে খালের কোন স্থানই কাটা হয়নি। স্থানীয়রা যারা টাকা দিয়েছে তাদের বাড়ি সামনে দিয়ে ঘন্টা হিসেবে করে কেটেছে।
স্থানীয় রশিদ জোমাদ্দার বলেন, খাল ঠিকমত কাটা হয়নি। খালে পানি থাকে না, মাছ থাকে না। যারা কাটতে আসছিলো তারা ঠিকমতো কাজ করেনি। শুধু কচুটি পরিস্কার করছে।
এক এলসিএস কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুবেল খান বলেন, জাহাঙ্গীর আমাদের কাজের পার্টনার ছিলো। এসব কাজের বিল যৌথ একাউন্টের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়। এজন্য আমার এবং এই এলসিএস কমিটির সভাপতি শিউলি বেগমের সাথে যৌথ চেক জাহাঙ্গীরের কাছে ছিলো। শুনছি কাজের বিল উত্তোলন করে নিয়েছে জাহাঙ্গীর। কিন্তু আমাদের চেকে কোন স্বাক্ষর নেয়নি তিনি।
খনন কাজ চলাকালীন সময়ের চৈতা বাজিতা পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ বাবুল মাস্টার বলেন, খাল খননের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।এলসিএস কমিটির জাহাঙ্গীর গাজী এবং বেলাল মৃধা কাজ করিয়েছে। লোকমুখে শুনেছি ঠিকমতো খাল খনন করা হয়নি। এখন বর্তমানে তারা দুইজন এই সমিতির সভাপতি এবং সম্পাদক।
চৈতা বাজিতা পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলী আকন বলেন,  খননকাজে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতেই পারে। তবে যতটুকু সম্ভব প্রাক্কলন অনুসারেই খননকাজ হয়েছে। সব অনিয়মের অভিযোগ সত্য নয়।’
অভিযুক্ত ও বর্তমান সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর গাজীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
অভিযুক্ত ও বর্তমান সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল মৃধার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনিও ফোন রিসিভ করেনি।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী  বলেন, এই কাজ যে সময় বাস্তবায়ন হয়েছে তখন আমি ছিলাম না। আমার পূর্বে যে কর্মকর্তা ছিল তার সাথে কথা বলেন। তারপরও দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত লোক পাঠিয়ে খতিয়ে দেখা হবে।
Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মির্জাগঞ্জে খাল খনন না করেই বিল উত্তোলন 

Update Time : ০২:০২:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫
মাসুম বিল্লাহ, মির্জাগঞ্জঃ মির্জাগঞ্জে খাল খনন না করেই বরাদ্দের টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠছে।খাল খননের নামে হয়েছে কচুরিপানা পরিষ্কার এবং মাছ শিকারের মহা উৎসব এমনই অভিযোগ খাল পারের বাসিন্দাদের। দুই এক জায়গায় দিয়ে যা একটু খনন  হয়েছে তার জন্য স্থানীয়দের গুনতে হয়েছে টাকা। খালের মাটি খালে রেখে সরকারি টাকা পুরোটাই হয়েছে ভাগবাটোয়ারা। খনন না করলেও প্রায় শতভাগ বিল দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, জলবদ্ধতা নিরাসনের লক্ষে গত ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের বেতবুনিয়া ও চাকরখালী খালের প্রায় ১ দশমিক ৩৭৫ কিলোমিটারের খনন ( পলি নিষ্কাশন) রেগুলেটার মেরামত ও অফিস মেরামতের জন্য  ১৫ লক্ষ ৯২ হাজার ২২১ টাকা ব্যয়ে কাজটি পায় চৈতা বাজিতা পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি। পাঁচটি এলসিএস কমিটির মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন করা কথা। আর কাজটি পরিচালনা করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি। নিয়মমতে,খাল খননের বিল উত্তোলন করতে এলসিএস কমিটির সদস্যদের উপস্থিততে বিল দেওয়ার কথা। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা না করে এলসিএস কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের স্বাক্ষর জাল করে  জাহাঙ্গীর গাজী ও বেলাল মৃধা নামে দুই ব্যক্তি বিল উত্তোলন করে নিয়েছে বলে অভিযোগ এলসিএস কমিটির সভাপতি এবং সম্পাদকদের।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গেলে, কোন রকম খনন বা নিষ্কাশনের  চিহ্ন দেখা মিলে নাই খালগুলোর। এক হাত পরিমাণ পানি নেই খালে। পারে দাঁড়ালে দেখা যাচ্ছে খালের তলদেশর মাটি।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ হাবিবুর রহমান মৃধা বলেন, খাল তো কাটতে দেখি নাই। শুধু মাছ ধরছে আর কচুরিপানা পরিষ্কার করছে।
খাল পারের আর এক বাসিন্দা আবু হানিফ জোমাদ্দার বলেন, সরকারিভাবে খালের কোন স্থানই কাটা হয়নি। স্থানীয়রা যারা টাকা দিয়েছে তাদের বাড়ি সামনে দিয়ে ঘন্টা হিসেবে করে কেটেছে।
স্থানীয় রশিদ জোমাদ্দার বলেন, খাল ঠিকমত কাটা হয়নি। খালে পানি থাকে না, মাছ থাকে না। যারা কাটতে আসছিলো তারা ঠিকমতো কাজ করেনি। শুধু কচুটি পরিস্কার করছে।
এক এলসিএস কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুবেল খান বলেন, জাহাঙ্গীর আমাদের কাজের পার্টনার ছিলো। এসব কাজের বিল যৌথ একাউন্টের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়। এজন্য আমার এবং এই এলসিএস কমিটির সভাপতি শিউলি বেগমের সাথে যৌথ চেক জাহাঙ্গীরের কাছে ছিলো। শুনছি কাজের বিল উত্তোলন করে নিয়েছে জাহাঙ্গীর। কিন্তু আমাদের চেকে কোন স্বাক্ষর নেয়নি তিনি।
খনন কাজ চলাকালীন সময়ের চৈতা বাজিতা পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ বাবুল মাস্টার বলেন, খাল খননের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।এলসিএস কমিটির জাহাঙ্গীর গাজী এবং বেলাল মৃধা কাজ করিয়েছে। লোকমুখে শুনেছি ঠিকমতো খাল খনন করা হয়নি। এখন বর্তমানে তারা দুইজন এই সমিতির সভাপতি এবং সম্পাদক।
চৈতা বাজিতা পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলী আকন বলেন,  খননকাজে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতেই পারে। তবে যতটুকু সম্ভব প্রাক্কলন অনুসারেই খননকাজ হয়েছে। সব অনিয়মের অভিযোগ সত্য নয়।’
অভিযুক্ত ও বর্তমান সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর গাজীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
অভিযুক্ত ও বর্তমান সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল মৃধার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনিও ফোন রিসিভ করেনি।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী  বলেন, এই কাজ যে সময় বাস্তবায়ন হয়েছে তখন আমি ছিলাম না। আমার পূর্বে যে কর্মকর্তা ছিল তার সাথে কথা বলেন। তারপরও দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত লোক পাঠিয়ে খতিয়ে দেখা হবে।