Dhaka ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ার শিবগঞ্জে শিয়া মসজিদে হামলা ও মুয়াজ্জিন হত্যা মামলায় জেএমবির ৯ সদস্য খালাস

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৩৩৭ Time View

বগুড়ার শিবগঞ্জের চককানু গ্রামের হরিপুর শিয়া মসজিদে (মসজিদ-ই-আল মোস্তফা) সশস্ত্র হামলা চালিয়ে গুলিতে মোয়াজ্জিনকে হত্যা ও ইমামসহ তিন জনকে গুলিবিদ্ধ করার মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির নয় সদস্যকে খালাস দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১০ বছর পর গত সোমবার বিকালে বগুড়ার সিনিয়র দায়রা জজ শাহজাহান কবির এ রায় ঘোষণা করেন। খালাস পাওয়ায় তারা নারায়ের তাকবির আল্লাহু আকবর বলে সিজদা দেন বলে জানান আদালতের পিপি আবদুল বাছেদ। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় দুর্বল তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় আসামিরা মুক্তি পেয়েছেন। খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন- শিবগঞ্জ উপজেলার আটমুল গ্রামের ফকিরপাড়ার এমদাদুল হক (৩৮), শাজাহানপুর উপজেলার কামারপাড়া গ্রামের আবদুল মোমিন মন্ডল (৩৫), একই উপজেলার ক্ষুদ্র কুষ্টিয়া গ্রামের রাজিবুল ইসলাম বাদল (৩৬), গাবতলী উপজেলার গোড়দহ সরকারপাড়ার খাদেমুল ইসলাম বাদশা (৩৪), একই গ্রামের আজাদ প্রামাণিক (৩৪), জয়পুরহাট সদরের সোঠাহার গ্রামের কুলুপাড়ার আবদুল বাছেদ (৩৭), একই গ্রামের ইয়াসিন আলী (৫০), পূর্বপাড়ার আবদুল হামিদ ওরফে হামিদুল (৩২) এবং গাইবান্ধা সদরের তিনদহ পশ্চিমপাড়ার আজাদুল কবিরাজ বিপ্লব (৪২)। এর মধ্যে ইয়াসিন, এমদাদুল, বাছেদ ও মোমিন কারাগারে এবং বাদল, হামিদুল, খাদেমুল, আজাদ ও বিপ্লব পলাতক ছিলেন। ইয়াসিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত, এজাহার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির সদস্যরা ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর এশার নামাজের সময় শিবগঞ্জ উপজেলার চককানু গ্রামে হরিপুর বাসস্ট্যান্ডে কাছে মসজিদ-ই-আল মোস্তফায় (শিয়া মসজিদ) ঢোকেন। তারা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি বর্ষণ করলে মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহীনুর, মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেন, মুসুল্লি আবু তাহের ও আফতার উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেন (৫৮) মারা যান। ওই রাতেই চককানু গ্রামের আবদুল মোত্তালেবের ছেলে সোনা মিয়া শিবগঞ্জ থানায় মামলা করেন। প্রকাশ্যে আলোচিত এ জঙ্গি হামলায় সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তদন্তে কর্মকর্তারা জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পান। তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানার তৎকালীন ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নয় জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। হামলার দীর্ঘ ১০ বছর পর গত সোমবার বিকালে বগুড়ার সিনিয়র দায়রা জজ শাহজাহান কবির এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের পিপি আবদুল বাছেদ বলেন, বিগত সরকারের সময় এই মামলার তদন্ত, সাক্ষ্য ও শুনানিসহ সব কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এক আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছিলেন, জেএমবির কাওসার, আনোয়ার ও অপর একজন সভা করে শিবগঞ্জের শিয়া মসজিদে হামলার কথা বলেছিলেন। তিনি আলোচনা শোনার পর তাদের হামলা করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হামলায় জড়িত ওই তিন জনকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাননি। বিগত সরকারের সময় আদালতের পিপিরা কোনও গুরুত্ব না দেওয়ায় পুলিশ তদন্তের নামে যাচ্ছেতাই করেছে। ১৫ বছর পুলিশকে কোন জবাবদিহি করতে হয়নি। দুই বছর আগে এ মামলার সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। কিন্তু কোনও সাক্ষীই মসজিদে হামলায় জড়িতদের ব্যাপারে প্রমাণ করতে পারেননি। দুর্বল তদন্ত, সাক্ষ্য প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় মসজিদে আলোচিত জঙ্গি হামলার আসামিরা খালাস পেয়েছেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বাগেরহাটে চেক জালিয়াতির অভিযোগসহ যৌথ ব্যবসা দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, প্রাণনাশের আশঙ্কা

বগুড়ার শিবগঞ্জে শিয়া মসজিদে হামলা ও মুয়াজ্জিন হত্যা মামলায় জেএমবির ৯ সদস্য খালাস

Update Time : ১১:৩৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

বগুড়ার শিবগঞ্জের চককানু গ্রামের হরিপুর শিয়া মসজিদে (মসজিদ-ই-আল মোস্তফা) সশস্ত্র হামলা চালিয়ে গুলিতে মোয়াজ্জিনকে হত্যা ও ইমামসহ তিন জনকে গুলিবিদ্ধ করার মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির নয় সদস্যকে খালাস দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১০ বছর পর গত সোমবার বিকালে বগুড়ার সিনিয়র দায়রা জজ শাহজাহান কবির এ রায় ঘোষণা করেন। খালাস পাওয়ায় তারা নারায়ের তাকবির আল্লাহু আকবর বলে সিজদা দেন বলে জানান আদালতের পিপি আবদুল বাছেদ। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় দুর্বল তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় আসামিরা মুক্তি পেয়েছেন। খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন- শিবগঞ্জ উপজেলার আটমুল গ্রামের ফকিরপাড়ার এমদাদুল হক (৩৮), শাজাহানপুর উপজেলার কামারপাড়া গ্রামের আবদুল মোমিন মন্ডল (৩৫), একই উপজেলার ক্ষুদ্র কুষ্টিয়া গ্রামের রাজিবুল ইসলাম বাদল (৩৬), গাবতলী উপজেলার গোড়দহ সরকারপাড়ার খাদেমুল ইসলাম বাদশা (৩৪), একই গ্রামের আজাদ প্রামাণিক (৩৪), জয়পুরহাট সদরের সোঠাহার গ্রামের কুলুপাড়ার আবদুল বাছেদ (৩৭), একই গ্রামের ইয়াসিন আলী (৫০), পূর্বপাড়ার আবদুল হামিদ ওরফে হামিদুল (৩২) এবং গাইবান্ধা সদরের তিনদহ পশ্চিমপাড়ার আজাদুল কবিরাজ বিপ্লব (৪২)। এর মধ্যে ইয়াসিন, এমদাদুল, বাছেদ ও মোমিন কারাগারে এবং বাদল, হামিদুল, খাদেমুল, আজাদ ও বিপ্লব পলাতক ছিলেন। ইয়াসিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত, এজাহার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির সদস্যরা ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর এশার নামাজের সময় শিবগঞ্জ উপজেলার চককানু গ্রামে হরিপুর বাসস্ট্যান্ডে কাছে মসজিদ-ই-আল মোস্তফায় (শিয়া মসজিদ) ঢোকেন। তারা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি বর্ষণ করলে মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহীনুর, মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেন, মুসুল্লি আবু তাহের ও আফতার উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেন (৫৮) মারা যান। ওই রাতেই চককানু গ্রামের আবদুল মোত্তালেবের ছেলে সোনা মিয়া শিবগঞ্জ থানায় মামলা করেন। প্রকাশ্যে আলোচিত এ জঙ্গি হামলায় সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তদন্তে কর্মকর্তারা জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পান। তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানার তৎকালীন ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নয় জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। হামলার দীর্ঘ ১০ বছর পর গত সোমবার বিকালে বগুড়ার সিনিয়র দায়রা জজ শাহজাহান কবির এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের পিপি আবদুল বাছেদ বলেন, বিগত সরকারের সময় এই মামলার তদন্ত, সাক্ষ্য ও শুনানিসহ সব কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এক আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছিলেন, জেএমবির কাওসার, আনোয়ার ও অপর একজন সভা করে শিবগঞ্জের শিয়া মসজিদে হামলার কথা বলেছিলেন। তিনি আলোচনা শোনার পর তাদের হামলা করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হামলায় জড়িত ওই তিন জনকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাননি। বিগত সরকারের সময় আদালতের পিপিরা কোনও গুরুত্ব না দেওয়ায় পুলিশ তদন্তের নামে যাচ্ছেতাই করেছে। ১৫ বছর পুলিশকে কোন জবাবদিহি করতে হয়নি। দুই বছর আগে এ মামলার সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। কিন্তু কোনও সাক্ষীই মসজিদে হামলায় জড়িতদের ব্যাপারে প্রমাণ করতে পারেননি। দুর্বল তদন্ত, সাক্ষ্য প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় মসজিদে আলোচিত জঙ্গি হামলার আসামিরা খালাস পেয়েছেন।