Dhaka ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ১৪তম

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ২৭৪ Time View

বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নেমে এসেছে ১৪তম স্থানে। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)-এর ২০২৪ সালের দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়িয়েছে ২৩, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২৩ সালে এই স্কোর ছিল ২৪।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের এবং পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

স্কোর বিবেচনায়, উচ্চক্রম অনুসারে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫১তম, যা আগের বছরের তুলনায় দুই ধাপ অবনতি। একই স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের সাথে এই অবস্থানে রয়েছে কঙ্গো এবং ইরান। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান ১৭ পয়েন্ট নিয়ে সবচেয়ে নিচে রয়েছে, তার পরেই রয়েছে বাংলাদেশ।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশের এ বছরের নিম্ন স্কোর প্রমাণ করে যে বিগত ১৩ বছরে কর্তৃত্ববাদী সরকার মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেও, বাস্তবে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে। সরকারি প্রকল্পে কেনাকাটায় সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে, অথচ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।”

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) দুর্নীতি প্রতিরোধে গঠিত সংস্থাগুলোর নিস্ক্রিয়তায় অর্থ পাচার ও দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে। “দুর্নীতিবাজদের তোষণ এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়ায় বাংলাদেশের অবস্থানের ক্রমাগত অবনতি হয়েছে।”

টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সিপিআই সূচকে ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে। ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কোর ২৫ থেকে ২৮ এর মধ্যে থাকলেও, ২০২৩ সালে এক পয়েন্ট কমে ২৪ এবং ২০২৪ সালে আরও এক পয়েন্ট কমে ২৩ হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্ক (৯০ স্কোর), ফিনল্যান্ড (৮৮ স্কোর), সিঙ্গাপুর (৮৪ স্কোর), নিউজিল্যান্ড (৮৩ স্কোর) এবং যৌথভাবে লুক্সেমবার্গ, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড (৮১ স্কোর)। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভুটান সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে, তাদের স্কোর ৭২ এবং অবস্থান ১৮তম।

অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে দক্ষিণ সুদানের অবস্থান শীর্ষে, যার স্কোর মাত্র ৮। এরপর রয়েছে সোমালিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং সিরিয়া।

টিআইবি বলেছে, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হলে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।

টিআইবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও অবনতি হতে পারে।”

দুর্নীতির এই সূচক প্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য একটি কঠিন বার্তা এসেছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এই বার্তা কতটা গুরুত্ব সহকারে নেয় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Tag :
About Author Information

Md Shibbir Ahmed

জনপ্রিয়

হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা করলেই জাহাজে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

বাংলাদেশ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ১৪তম

Update Time : ১০:০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নেমে এসেছে ১৪তম স্থানে। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)-এর ২০২৪ সালের দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়িয়েছে ২৩, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২৩ সালে এই স্কোর ছিল ২৪।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের এবং পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

স্কোর বিবেচনায়, উচ্চক্রম অনুসারে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫১তম, যা আগের বছরের তুলনায় দুই ধাপ অবনতি। একই স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের সাথে এই অবস্থানে রয়েছে কঙ্গো এবং ইরান। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান ১৭ পয়েন্ট নিয়ে সবচেয়ে নিচে রয়েছে, তার পরেই রয়েছে বাংলাদেশ।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশের এ বছরের নিম্ন স্কোর প্রমাণ করে যে বিগত ১৩ বছরে কর্তৃত্ববাদী সরকার মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেও, বাস্তবে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে। সরকারি প্রকল্পে কেনাকাটায় সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে, অথচ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।”

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) দুর্নীতি প্রতিরোধে গঠিত সংস্থাগুলোর নিস্ক্রিয়তায় অর্থ পাচার ও দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে। “দুর্নীতিবাজদের তোষণ এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়ায় বাংলাদেশের অবস্থানের ক্রমাগত অবনতি হয়েছে।”

টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সিপিআই সূচকে ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে। ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কোর ২৫ থেকে ২৮ এর মধ্যে থাকলেও, ২০২৩ সালে এক পয়েন্ট কমে ২৪ এবং ২০২৪ সালে আরও এক পয়েন্ট কমে ২৩ হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্ক (৯০ স্কোর), ফিনল্যান্ড (৮৮ স্কোর), সিঙ্গাপুর (৮৪ স্কোর), নিউজিল্যান্ড (৮৩ স্কোর) এবং যৌথভাবে লুক্সেমবার্গ, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড (৮১ স্কোর)। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভুটান সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে, তাদের স্কোর ৭২ এবং অবস্থান ১৮তম।

অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে দক্ষিণ সুদানের অবস্থান শীর্ষে, যার স্কোর মাত্র ৮। এরপর রয়েছে সোমালিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং সিরিয়া।

টিআইবি বলেছে, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হলে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।

টিআইবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও অবনতি হতে পারে।”

দুর্নীতির এই সূচক প্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য একটি কঠিন বার্তা এসেছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এই বার্তা কতটা গুরুত্ব সহকারে নেয় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।