নারীর ক্ষমতায়ন ও দরিদ্র পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে বগুড়ার গাবতলীতে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ৯১১ জন উপকারভোগীর হাতে প্রতীকীভাবে এই কার্ড তুলে দেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বগুড়ায় দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাগবাড়ী এলাকায় পৌঁছে সরকারপ্রধান সুবিধাভোগী নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্নআয়, অসচ্ছল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচিত পরিবারগুলো প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাবে, যা ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে।
কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল গত ১০ মার্চ ঢাকায়, তবে বগুড়ায় এই আয়োজনকে বড় পরিসরের পাইলট বাস্তবায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষামূলকভাবে আগামী জুনের মধ্যে ১৪টি উপজেলায় প্রায় ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হবে। পরবর্তীতে এই উদ্যোগকে ধাপে ধাপে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অনুষ্ঠানে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়, যেখানে অংশ নেন সরকারপ্রধানসহ উপস্থিত নেতারা। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে। সকাল থেকেই আশপাশের এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ অনুষ্ঠানে ভিড় করেন।
স্থানীয় উপকারভোগী নারীরা জানান, দ্রব্যমূল্যের চাপে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নিয়মিত এই সহায়তা পেলে খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে কিছুটা স্বস্তি মিলবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের নগদ সহায়তা কর্মসূচি সামাজিক সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত অর্থ বিতরণের ওপর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা আরও বলছেন, পাইলট প্রকল্প সফল হলে এটি দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে, বিশেষ করে নারীপ্রধান পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে।
Reporter Name 


















