Dhaka ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লেবাননে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলের হামলা, নিহত ও আহত বহু

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৪:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৫
  • ২৭৪ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লেবাননে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম প্রধান শহর নাবাতিহে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একটি ড্রোন নাবাতিহের আল-ফাওকার আল-রাওদাত স্কুলের কাছে রাস্তায় একটি পিকআপ ট্রাককে লক্ষ্য করে গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে গাড়িটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং রাস্তায় পার্ক করা গাড়িগুলো পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ওই এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়া বেশ কয়েকজন নাগরিক আহত হন। বিস্ফোরণের শব্দ আশপাশের এলাকাজুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়। এই হামলার ঘটনায় নাবাতিহের আল-ফাওকার মেয়র ইয়াসির গান্দুর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “ইসরায়েলি বাহিনী আমাদের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করছে, যারা নিজেদের বাড়িতে নিরাপদে থাকার চেষ্টা করছিলেন।” লেবাননের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি নাবাতিহের ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি স্পষ্টতই ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে। গত ২৭ নভেম্বর লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে অন্তত ৮৩ জন লেবাননবাসী নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা যখন নিজেদের গ্রামে ফেরার চেষ্টা করছিলেন, তখন ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২২৮ জন আহত হন। বিশেষ করে, যুদ্ধবিরতির দিনও ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে ছয় নারীসহ অন্তত ২৪ জনকে গুলি করে হত্যা করে। পরদিনও দু’জন নিহত ও ১৭ জন আহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি বাহিনীর দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে যাওয়ার কথা ছিল। আর হিজবুল্লাহর সদস্যদের লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে লিতানি নদীর উত্তরে চলে যাওয়ার কথা ছিল। চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ইসরায়েলের উচিত ছিল দক্ষিণ লেবানন থেকে তার বাহিনী ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা এবং ওই অঞ্চলে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করা। একবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী চলে গেলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউএনআইএফআইএল) ও লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী সেখানে মোতায়েন হতো। তবে, ইসরায়েল অভিযোগ করেছে যে হিজবুল্লাহ সীমান্ত থেকে পর্যাপ্ত সরে যায়নি। নেতানিয়াহু সরকার জানিয়েছে, তাদের বাহিনী নির্ধারিত সময়সীমার পরেও দক্ষিণ লেবাননে থাকবে। অন্যদিকে, লেবানন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ইসরায়েলকে সময়সীমা ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত বাস্তবায়ন না হলে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বাগেরহাটে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

লেবাননে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলের হামলা, নিহত ও আহত বহু

Update Time : ১২:৪৪:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লেবাননে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম প্রধান শহর নাবাতিহে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একটি ড্রোন নাবাতিহের আল-ফাওকার আল-রাওদাত স্কুলের কাছে রাস্তায় একটি পিকআপ ট্রাককে লক্ষ্য করে গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে গাড়িটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং রাস্তায় পার্ক করা গাড়িগুলো পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ওই এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়া বেশ কয়েকজন নাগরিক আহত হন। বিস্ফোরণের শব্দ আশপাশের এলাকাজুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়। এই হামলার ঘটনায় নাবাতিহের আল-ফাওকার মেয়র ইয়াসির গান্দুর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “ইসরায়েলি বাহিনী আমাদের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করছে, যারা নিজেদের বাড়িতে নিরাপদে থাকার চেষ্টা করছিলেন।” লেবাননের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি নাবাতিহের ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি স্পষ্টতই ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে। গত ২৭ নভেম্বর লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে অন্তত ৮৩ জন লেবাননবাসী নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা যখন নিজেদের গ্রামে ফেরার চেষ্টা করছিলেন, তখন ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২২৮ জন আহত হন। বিশেষ করে, যুদ্ধবিরতির দিনও ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে ছয় নারীসহ অন্তত ২৪ জনকে গুলি করে হত্যা করে। পরদিনও দু’জন নিহত ও ১৭ জন আহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি বাহিনীর দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে যাওয়ার কথা ছিল। আর হিজবুল্লাহর সদস্যদের লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে লিতানি নদীর উত্তরে চলে যাওয়ার কথা ছিল। চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ইসরায়েলের উচিত ছিল দক্ষিণ লেবানন থেকে তার বাহিনী ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা এবং ওই অঞ্চলে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করা। একবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী চলে গেলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউএনআইএফআইএল) ও লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী সেখানে মোতায়েন হতো। তবে, ইসরায়েল অভিযোগ করেছে যে হিজবুল্লাহ সীমান্ত থেকে পর্যাপ্ত সরে যায়নি। নেতানিয়াহু সরকার জানিয়েছে, তাদের বাহিনী নির্ধারিত সময়সীমার পরেও দক্ষিণ লেবাননে থাকবে। অন্যদিকে, লেবানন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ইসরায়েলকে সময়সীমা ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত বাস্তবায়ন না হলে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।