Dhaka ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত অভিবাসীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র বানাচ্ছে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৫
  • ২৪১ Time View

বিদেশ : যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই অবৈধ অভিবাসীদের বিতারিত ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার দেশটি থেকে বিতাড়িত অভিবাসীদের জন্য মেক্সিকোর সৈন্যরা মার্কিন সীমান্তের কাছে আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম এএফপি। মেক্সিকোর সরকার জানিয়েছে, তাদের দেশের নাগরিকদের জন্য ৯টি ও বহিষ্কৃত বিদেশিদের জন্য আরও তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা করেছে। তবে, মোট ধারণ ক্ষমতা কত হবে তা স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। ‘মেক্সিকো আপনাকে স্বাগত জানাবে’ নামে একটি প্রকল্পের আওতায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো তৈরি করা হচ্ছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম এই সপ্তাহে বলেছেন, অন্যান্য দেশ থেকে নির্বাসিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনের আগে মানবিক সহায়তা দেবে তাদের সরকার। গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, দুটি আশ্রয়কেন্দ্র দিনের শেষের দিকে ও বাকিগুলো সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তুত করা হবে। এগুলোতে রান্নাঘর, বাথরুম, খাবার ঘর, সাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এএফপি’র সংবাদদাতা জানিয়েছেন, টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের সীমান্তের ওপারে উত্তর-পূর্ব শহর মাতামোরোসে নৌবাহিনীর কর্মীদের একটি বিশাল খেলার মাঠে একটি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে দেখা গেছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য জলপাই-সবুজ তাঁবু ও নির্বাসিতদের জন্য একটি ধাতব কাঠামো তাঁবু থাকবে। পৌর কর্তৃপক্ষের মতে, মাতামোরোস আশ্রয়কেন্দ্র টামাউলিপাস রাজ্যে নির্মিত তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে একটি প্রায় তিন হজার লোকের থাকার ব্যবস্থা করতে সক্ষম হবে। সীমান্তবর্তী রিও গ্রান্ডে নদীর তীরে অবস্থিত শহরের মেয়র আলবার্তো গ্রানাডোস বলেন, আমরা প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আশ্রয় দিতে পারব বলে আশা করছি। গত সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত আরেকটি মেক্সিকোর সীমান্ত শহর, টিজুয়ানা, সম্ভাব্য বহিষ্কৃতদের আগমন ঠেকাতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। টেক্সাসের সীমান্তের ওপারে রেইনোসার মেয়র কার্লোস পেনা এই সপ্তাহে সতর্ক করে বলেছেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত জায়গা নেই ও পরিস্থিতি সঙ্কটজনক হয়ে উঠতে পারে। মেক্সিকো সরকার ডিসেম্বরে ঘোষণা করেছে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন আটকের মুখোমুখি অভিবাসীদের জন্য একটি সতর্কতাসহ একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক মিলিয়ন অনিবন্ধিত মেক্সিকোর নাগরিক রয়েছে।

হাজার হাজার লোক আটকা পড়েছে
সোমবার ক্ষমতায় আসার প্রথম দিনেই, ট্রাম্প মার্কিন দক্ষিণ সীমান্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং লাখ লাখ অভিবাসীকে বহিষ্কার করার ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের প্রশাসন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময় ‘মেক্সিকোতে থাকুন’ নীতিটিও পুনর্বহাল করবে, যার অধীনে মেক্সিকো থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য আবেদনকারী ব্যক্তিদের তাদের আবেদনের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকতে হবে। হোয়াইট হাউস মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার কর্তৃত্ববাদী শাসন থেকে পালিয়ে আসা লোকদের জন্য একটি আশ্রয় কর্মসূচিও স্থগিত করেছে, যার ফলে মেক্সিকো সীমান্তের দিকে হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়েছে। বুধবার ট্রাম্পের কার্যালয় জানিয়েছে, সীমান্তে আরও এক হাজার ৫০০ সামরিক সেনা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে কিছু অভিবাসী বলেছেন, তারা মেক্সিকোতে আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বাগেনহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আইনগত সহায়তা দিবস পালিত

মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত অভিবাসীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র বানাচ্ছে

Update Time : ০১:১০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৫

বিদেশ : যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই অবৈধ অভিবাসীদের বিতারিত ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার দেশটি থেকে বিতাড়িত অভিবাসীদের জন্য মেক্সিকোর সৈন্যরা মার্কিন সীমান্তের কাছে আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম এএফপি। মেক্সিকোর সরকার জানিয়েছে, তাদের দেশের নাগরিকদের জন্য ৯টি ও বহিষ্কৃত বিদেশিদের জন্য আরও তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা করেছে। তবে, মোট ধারণ ক্ষমতা কত হবে তা স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। ‘মেক্সিকো আপনাকে স্বাগত জানাবে’ নামে একটি প্রকল্পের আওতায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো তৈরি করা হচ্ছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম এই সপ্তাহে বলেছেন, অন্যান্য দেশ থেকে নির্বাসিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনের আগে মানবিক সহায়তা দেবে তাদের সরকার। গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, দুটি আশ্রয়কেন্দ্র দিনের শেষের দিকে ও বাকিগুলো সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তুত করা হবে। এগুলোতে রান্নাঘর, বাথরুম, খাবার ঘর, সাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এএফপি’র সংবাদদাতা জানিয়েছেন, টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের সীমান্তের ওপারে উত্তর-পূর্ব শহর মাতামোরোসে নৌবাহিনীর কর্মীদের একটি বিশাল খেলার মাঠে একটি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে দেখা গেছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য জলপাই-সবুজ তাঁবু ও নির্বাসিতদের জন্য একটি ধাতব কাঠামো তাঁবু থাকবে। পৌর কর্তৃপক্ষের মতে, মাতামোরোস আশ্রয়কেন্দ্র টামাউলিপাস রাজ্যে নির্মিত তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে একটি প্রায় তিন হজার লোকের থাকার ব্যবস্থা করতে সক্ষম হবে। সীমান্তবর্তী রিও গ্রান্ডে নদীর তীরে অবস্থিত শহরের মেয়র আলবার্তো গ্রানাডোস বলেন, আমরা প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আশ্রয় দিতে পারব বলে আশা করছি। গত সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত আরেকটি মেক্সিকোর সীমান্ত শহর, টিজুয়ানা, সম্ভাব্য বহিষ্কৃতদের আগমন ঠেকাতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। টেক্সাসের সীমান্তের ওপারে রেইনোসার মেয়র কার্লোস পেনা এই সপ্তাহে সতর্ক করে বলেছেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত জায়গা নেই ও পরিস্থিতি সঙ্কটজনক হয়ে উঠতে পারে। মেক্সিকো সরকার ডিসেম্বরে ঘোষণা করেছে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন আটকের মুখোমুখি অভিবাসীদের জন্য একটি সতর্কতাসহ একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক মিলিয়ন অনিবন্ধিত মেক্সিকোর নাগরিক রয়েছে।

হাজার হাজার লোক আটকা পড়েছে
সোমবার ক্ষমতায় আসার প্রথম দিনেই, ট্রাম্প মার্কিন দক্ষিণ সীমান্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং লাখ লাখ অভিবাসীকে বহিষ্কার করার ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের প্রশাসন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময় ‘মেক্সিকোতে থাকুন’ নীতিটিও পুনর্বহাল করবে, যার অধীনে মেক্সিকো থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য আবেদনকারী ব্যক্তিদের তাদের আবেদনের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকতে হবে। হোয়াইট হাউস মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার কর্তৃত্ববাদী শাসন থেকে পালিয়ে আসা লোকদের জন্য একটি আশ্রয় কর্মসূচিও স্থগিত করেছে, যার ফলে মেক্সিকো সীমান্তের দিকে হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়েছে। বুধবার ট্রাম্পের কার্যালয় জানিয়েছে, সীমান্তে আরও এক হাজার ৫০০ সামরিক সেনা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে কিছু অভিবাসী বলেছেন, তারা মেক্সিকোতে আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।