Dhaka ০১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক যুগ পর বাংলাদেশে আসছেন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৫
  • ২৮৭ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বাংলাদেশের অন্তর্র্বতী সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপকব উন্নয়ন ঘটে পাকিস্তান সরকারের। দুই দেশের সরকারপ্রধান নিউইয়র্কে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেছেন। তারই ধারবাহিকতায় এবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বাংলাদেশ সফরে আসছেন। শুক্রবার পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আগামী মাসে বাংলাদেশ সফর করবেন। গত বছরের আগস্টে ভারতপন্থি সরকারের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আসন্ন এই সফরটিকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ যা দুই দেশের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ককেই সামনে তুলে ধরছে। এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলছে, ২০১২ সালের পর পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটাই প্রথম বাংলাদেশ সফর হতে চলেছে। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের আমন্ত্রণে ফেব্রæয়ারি মাসে তিনি ঢাকা সফর করবেন। পাকিস্তনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটাও নিশ্চিত করেন যে, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পারস্পরিক সম্মত তারিখে ইসলামাবাদ ভ্রমণের জন্য পাকিস্তানের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। এর আগে ২০১২ সালে সর্বশেষ পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন হিনা রব্বানি খার। ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানাতে সেসময় ঢাকা সফর করেছিলেন তিনি। এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলছে, শেখ হাসিনার গত ১৫ বছরের মেয়াদে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন ছিল। আওয়ামী লীগের এই নেত্রী ভারতের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য পাকিস্তানের একাধিক প্রচেষ্টার প্রতিদান দেননি। রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর গত বছরের আগস্টে হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত ও ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বেশ কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির অনুমতি দিয়ে পাকিস্তানি পণ্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞাও তুলে নিয়েছে। এছাড়া সমুদ্রপথে দুই দেশ সরাসরি বাণিজ্যও শুরু করেছে। ইসহাক দার বাংলাদেশকে ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ দেশ’ বলে অভিহিত করে বলেন, পাকিস্তান ঢাকাকে সব ধরনের সহায়তা দেবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক যুগ পর বাংলাদেশে আসছেন

Update Time : ১২:৩১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বাংলাদেশের অন্তর্র্বতী সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপকব উন্নয়ন ঘটে পাকিস্তান সরকারের। দুই দেশের সরকারপ্রধান নিউইয়র্কে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেছেন। তারই ধারবাহিকতায় এবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বাংলাদেশ সফরে আসছেন। শুক্রবার পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আগামী মাসে বাংলাদেশ সফর করবেন। গত বছরের আগস্টে ভারতপন্থি সরকারের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আসন্ন এই সফরটিকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ যা দুই দেশের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ককেই সামনে তুলে ধরছে। এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলছে, ২০১২ সালের পর পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটাই প্রথম বাংলাদেশ সফর হতে চলেছে। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের আমন্ত্রণে ফেব্রæয়ারি মাসে তিনি ঢাকা সফর করবেন। পাকিস্তনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটাও নিশ্চিত করেন যে, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পারস্পরিক সম্মত তারিখে ইসলামাবাদ ভ্রমণের জন্য পাকিস্তানের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। এর আগে ২০১২ সালে সর্বশেষ পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন হিনা রব্বানি খার। ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানাতে সেসময় ঢাকা সফর করেছিলেন তিনি। এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলছে, শেখ হাসিনার গত ১৫ বছরের মেয়াদে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন ছিল। আওয়ামী লীগের এই নেত্রী ভারতের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য পাকিস্তানের একাধিক প্রচেষ্টার প্রতিদান দেননি। রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর গত বছরের আগস্টে হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত ও ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বেশ কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির অনুমতি দিয়ে পাকিস্তানি পণ্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞাও তুলে নিয়েছে। এছাড়া সমুদ্রপথে দুই দেশ সরাসরি বাণিজ্যও শুরু করেছে। ইসহাক দার বাংলাদেশকে ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ দেশ’ বলে অভিহিত করে বলেন, পাকিস্তান ঢাকাকে সব ধরনের সহায়তা দেবে।