Dhaka ০২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইসবার্গ, ভেঙে গলে যাওয়ার আশঙ্কা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ৩২৭ Time View

বিদেশ : বছরের বেশির ভাগ সময় ঘূর্ণাবর্তে আটকে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইসবার্গ (হিমশৈল) নিজ অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে আবারও। ‘এ২৩এ’ নামের এ হিমশৈল আয়তনে ৩ হাজার ৮০০ বর্গকিলোমিটার (দেড় হাজার বর্গমাইল), যা আকারে ইংল্যান্ডের গ্রেটার লন্ডনের দ্বিগুণের বেশি। হিমশৈলটির ঘনত্ব ৪০০ মিটার (১ হাজার ৩১২ ফুট)। ১৯৮৬ সালে এটি অ্যান্টার্কটিকা মহাসাগর (দক্ষিণ মহাসাগর নামেও পরিচিত) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে তা এ মহাসাগরের উপক‚লে যুক্ত হয়। ‘এ২৩এ’–এর পুরুত্ব এতটাই বেশি যে এর নি¤œভাগ দক্ষিণ মহাসাগরের অংশ ওয়েডেল সাগরের তলদেশ স্পর্শ করেছিল। আর সেখানেই স্থির হয়ে ছিল ৩০ বছরের বেশি সময়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘এ২৩এ’ নতুন করে ২০২০ সাল থেকে উত্তর দিকে সরে যেতে শুরু করেছে। এর আগে সাউথ অর্কনে দ্বীপপুঞ্জের কাছে এক বিশাল পানির ঘূর্ণাবর্তে ঘুরছিল এটি। গত শুক্রবার ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভে (বিএএস) বলেছে, হিমশৈলটি এখন আরও উত্তরে ভেসে চলেছে। বিএএসের সমুদ্রবিজ্ঞানী অ্যান্ড্রæ মেইজার্স বলেন, ‘দীর্ঘদিন এক স্থানে আটকে থাকার পর এ২৩এ আবার সরে যাচ্ছে—এটা দেখা রোমাঞ্চকর! এর আগে অ্যান্টার্কটিকা মহাসাগর থেকে যেসব বড় হিমশৈল সরে গেছে, এ২৩এ সেই একই পথ অনুসরণ করে কি না, আমরা তা দেখতে উৎসুক।’ বিজ্ঞানীরা বলছেন, তারা ধারণা করছেন, এ২৩এ শেষমেশ অ্যান্টার্কটিকা মহাসাগর থেকে সরে আটলান্টিক মহাসাগরে যাবে। সেখানে এটিকে উষ্ণ পানির মোকাবিলা করতে হবে। একপর্যায়ে তা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গলে যাবে। অ্যান্ড্রæ মেইজার্সসহ ওই প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা এখন স্থানীয় প্রতিবেশের ওপর হিমশৈলগুলো সরে যাওয়ার প্রভাব পরীক্ষা করে দেখছেন। এক বছর আগেই ‘আরআরএস স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো’ জাহাজের আরোহী গবেষকেরা এ২৩এ–এর চারপাশের পানি থেকে তথ্য–উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

সরে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইসবার্গ, ভেঙে গলে যাওয়ার আশঙ্কা

Update Time : ১১:২৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪

বিদেশ : বছরের বেশির ভাগ সময় ঘূর্ণাবর্তে আটকে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইসবার্গ (হিমশৈল) নিজ অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে আবারও। ‘এ২৩এ’ নামের এ হিমশৈল আয়তনে ৩ হাজার ৮০০ বর্গকিলোমিটার (দেড় হাজার বর্গমাইল), যা আকারে ইংল্যান্ডের গ্রেটার লন্ডনের দ্বিগুণের বেশি। হিমশৈলটির ঘনত্ব ৪০০ মিটার (১ হাজার ৩১২ ফুট)। ১৯৮৬ সালে এটি অ্যান্টার্কটিকা মহাসাগর (দক্ষিণ মহাসাগর নামেও পরিচিত) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে তা এ মহাসাগরের উপক‚লে যুক্ত হয়। ‘এ২৩এ’–এর পুরুত্ব এতটাই বেশি যে এর নি¤œভাগ দক্ষিণ মহাসাগরের অংশ ওয়েডেল সাগরের তলদেশ স্পর্শ করেছিল। আর সেখানেই স্থির হয়ে ছিল ৩০ বছরের বেশি সময়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘এ২৩এ’ নতুন করে ২০২০ সাল থেকে উত্তর দিকে সরে যেতে শুরু করেছে। এর আগে সাউথ অর্কনে দ্বীপপুঞ্জের কাছে এক বিশাল পানির ঘূর্ণাবর্তে ঘুরছিল এটি। গত শুক্রবার ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভে (বিএএস) বলেছে, হিমশৈলটি এখন আরও উত্তরে ভেসে চলেছে। বিএএসের সমুদ্রবিজ্ঞানী অ্যান্ড্রæ মেইজার্স বলেন, ‘দীর্ঘদিন এক স্থানে আটকে থাকার পর এ২৩এ আবার সরে যাচ্ছে—এটা দেখা রোমাঞ্চকর! এর আগে অ্যান্টার্কটিকা মহাসাগর থেকে যেসব বড় হিমশৈল সরে গেছে, এ২৩এ সেই একই পথ অনুসরণ করে কি না, আমরা তা দেখতে উৎসুক।’ বিজ্ঞানীরা বলছেন, তারা ধারণা করছেন, এ২৩এ শেষমেশ অ্যান্টার্কটিকা মহাসাগর থেকে সরে আটলান্টিক মহাসাগরে যাবে। সেখানে এটিকে উষ্ণ পানির মোকাবিলা করতে হবে। একপর্যায়ে তা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গলে যাবে। অ্যান্ড্রæ মেইজার্সসহ ওই প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা এখন স্থানীয় প্রতিবেশের ওপর হিমশৈলগুলো সরে যাওয়ার প্রভাব পরীক্ষা করে দেখছেন। এক বছর আগেই ‘আরআরএস স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো’ জাহাজের আরোহী গবেষকেরা এ২৩এ–এর চারপাশের পানি থেকে তথ্য–উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন।