Dhaka ০১:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মা-বাবা ও ভাইয়ের পাশে শায়িত তোফাজ্জল

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১০:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ৩১৭ Time View

বরগুনার পাথরঘাটায় শত শত মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে অশ্রুসিক্ত বিদায় দেওয়া হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মারধরে হত্যার শিকার তোফাজ্জলকে। পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মা-বাবা ও ভাইয়ের পাশে। শুক্রবার সকাল ৭টায় শতকর তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদের সামনে প্রথম এবং সকাল ৯টায় চরদুয়ানী কারিমুল কোরআন মাদ্রাসার সামনে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজার আগে পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মাওলানা মুফতি ফয়সাল। তিনি বলেন, আমি ওর মা-বাবার জানাজা নামাজ পড়িয়েছি। আজকে যে ওর জানাজা আমার পড়াতে হবে, তা আমি ভাবতে পারিনি। আমার আশা ছিল, তোফাজ্জল আমার জানাজায় অংশগ্রহণ করবে। কিন্তু বিধাতার কী করুণ পরিহাস, ওর জানাজাই আমার পড়াতে হলো। এ সময় হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তিনি। নিহত তোফাজ্জলের চাচাতো ভাই ফারুক মিয়া বলেন, তোফাজ্জল হত্যার মূলহোতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা এমন নির্মম হত্যাকান্ড আর দেখতে চাই না। পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পাথরঘাটা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন বলেন, তোফাজ্জলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল আপন ভাইয়ের মতো। খুব ভালোভাবেই কাটছিল তোফাজ্জলের জীবন। হঠাৎ এমন হয়ে যাবে তা ভাবতে পারছি না। এ সময় হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন তিনি। এদিকে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ছয় শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। আরও তথ্য পেতে শাহবাগ থানা পুলিশ তাদের রিমান্ড চাইবে। শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) শাহবাগ থানার ওসি মো. খালিদ মনসুর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চোর সন্দেহে যুবকে হত্যার ঘটনায় গতকাল (গত বৃহস্পতিবার) ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের কোর্টে তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আমরা তাদের রিমান্ড চাইবো। এ ঘটনায় যারাই জড়ির তাদের সবার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিক তদন্তে ও জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে কী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে জানতে চাইলে ওসি বলেন, আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তারা বিভিন্ন রকম তথ্য দিচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আমরা এখনও এ বিষয়ে কিছু প্রকাশ করছি না। তদন্ত শেষ হলে তা জানানো হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয় শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন- ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া (২৫), মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া (২১), পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মো. মোত্তাকিন সাকিন, গণিত বিভাগের আহসান উল্লাহ (২৪), জিওগ্রাফির আল হোসেন সাজ্জাদ এবং অপর শিক্ষার্থী ওয়াজিবুল আলম। ডিএমপির জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখা উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, তোফাজ্জল হোসেন হত্যাকাÐে গ্রেপ্তারদের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে সোপর্দ করা হবে। এ ছাড়া ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, জড়িতদের চিহ্নিতকরণ ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবির একাধিক টিম কাজ করছে। এর আগে এ ঘটনায় ডিএমপির শাহবাগ থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার সময় এক যুবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র তাকে আটক করে প্রথমে ফজলুল হক মুসলিম হলের মূল ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে যান। মোবাইল চুরির অভিযোগে তারা ওই যুবককে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় ও কিলঘুসি মারেন। জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক তার নাম তোফাজ্জল বলে জানান। পরে তিনি মানসিক রোগী বুঝতে পেরে তাকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে খাবার খাওয়ান। এরপর তাকে হলের দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্টাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্র বেধড়ক মারধর করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। সংবাদ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষক তাকে ঢাক মেডিকেল কলেজ হাঁস জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই ঘটনা শাহবাগ থানায় অবহিত করলে পুলিশ মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ তার আত্মীয়-স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা করা হয়। স্বজন সূত্রে জানা গেছে, তোফাজ্জলের পরিবারের কোনো সদস্য আর বেঁচে নেই। তার বাবা আবদুর রহমান মারা গেছেন ২০১১ সালে, মা বিউটি বেগম মারা যান ২০১৩ সালে এবং ভাই পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নাসির উদ্দিন মারা যান ২০২৩ সালে। পরিবারের কেউ না থাকায় কখন, কোথায় থাকেন তা কেউ খোঁজও রাখেন না। তোফাজ্জল ২০০৯ সালে চরদুয়ানী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০১১ সালে সৈয়দ ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পিরোজপুর সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে বাংলা বিভাগে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেন। বড় ভাই মারা যাওয়ার পর তাকে দেখাশোনা করার মতো কেউ ছিল না। স্বজনরা জানান, কয়েক বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন তোফাজ্জল।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বাগেরহাটে চেক জালিয়াতির অভিযোগসহ যৌথ ব্যবসা দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, প্রাণনাশের আশঙ্কা

মা-বাবা ও ভাইয়ের পাশে শায়িত তোফাজ্জল

Update Time : ১২:১০:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪

বরগুনার পাথরঘাটায় শত শত মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে অশ্রুসিক্ত বিদায় দেওয়া হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মারধরে হত্যার শিকার তোফাজ্জলকে। পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মা-বাবা ও ভাইয়ের পাশে। শুক্রবার সকাল ৭টায় শতকর তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদের সামনে প্রথম এবং সকাল ৯টায় চরদুয়ানী কারিমুল কোরআন মাদ্রাসার সামনে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজার আগে পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মাওলানা মুফতি ফয়সাল। তিনি বলেন, আমি ওর মা-বাবার জানাজা নামাজ পড়িয়েছি। আজকে যে ওর জানাজা আমার পড়াতে হবে, তা আমি ভাবতে পারিনি। আমার আশা ছিল, তোফাজ্জল আমার জানাজায় অংশগ্রহণ করবে। কিন্তু বিধাতার কী করুণ পরিহাস, ওর জানাজাই আমার পড়াতে হলো। এ সময় হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তিনি। নিহত তোফাজ্জলের চাচাতো ভাই ফারুক মিয়া বলেন, তোফাজ্জল হত্যার মূলহোতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা এমন নির্মম হত্যাকান্ড আর দেখতে চাই না। পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পাথরঘাটা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন বলেন, তোফাজ্জলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল আপন ভাইয়ের মতো। খুব ভালোভাবেই কাটছিল তোফাজ্জলের জীবন। হঠাৎ এমন হয়ে যাবে তা ভাবতে পারছি না। এ সময় হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন তিনি। এদিকে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ছয় শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। আরও তথ্য পেতে শাহবাগ থানা পুলিশ তাদের রিমান্ড চাইবে। শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) শাহবাগ থানার ওসি মো. খালিদ মনসুর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চোর সন্দেহে যুবকে হত্যার ঘটনায় গতকাল (গত বৃহস্পতিবার) ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের কোর্টে তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আমরা তাদের রিমান্ড চাইবো। এ ঘটনায় যারাই জড়ির তাদের সবার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিক তদন্তে ও জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে কী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে জানতে চাইলে ওসি বলেন, আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তারা বিভিন্ন রকম তথ্য দিচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আমরা এখনও এ বিষয়ে কিছু প্রকাশ করছি না। তদন্ত শেষ হলে তা জানানো হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয় শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন- ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া (২৫), মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া (২১), পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মো. মোত্তাকিন সাকিন, গণিত বিভাগের আহসান উল্লাহ (২৪), জিওগ্রাফির আল হোসেন সাজ্জাদ এবং অপর শিক্ষার্থী ওয়াজিবুল আলম। ডিএমপির জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখা উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, তোফাজ্জল হোসেন হত্যাকাÐে গ্রেপ্তারদের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে সোপর্দ করা হবে। এ ছাড়া ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, জড়িতদের চিহ্নিতকরণ ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবির একাধিক টিম কাজ করছে। এর আগে এ ঘটনায় ডিএমপির শাহবাগ থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার সময় এক যুবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র তাকে আটক করে প্রথমে ফজলুল হক মুসলিম হলের মূল ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে যান। মোবাইল চুরির অভিযোগে তারা ওই যুবককে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় ও কিলঘুসি মারেন। জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক তার নাম তোফাজ্জল বলে জানান। পরে তিনি মানসিক রোগী বুঝতে পেরে তাকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে খাবার খাওয়ান। এরপর তাকে হলের দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্টাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্র বেধড়ক মারধর করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। সংবাদ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষক তাকে ঢাক মেডিকেল কলেজ হাঁস জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই ঘটনা শাহবাগ থানায় অবহিত করলে পুলিশ মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ তার আত্মীয়-স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা করা হয়। স্বজন সূত্রে জানা গেছে, তোফাজ্জলের পরিবারের কোনো সদস্য আর বেঁচে নেই। তার বাবা আবদুর রহমান মারা গেছেন ২০১১ সালে, মা বিউটি বেগম মারা যান ২০১৩ সালে এবং ভাই পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নাসির উদ্দিন মারা যান ২০২৩ সালে। পরিবারের কেউ না থাকায় কখন, কোথায় থাকেন তা কেউ খোঁজও রাখেন না। তোফাজ্জল ২০০৯ সালে চরদুয়ানী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০১১ সালে সৈয়দ ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পিরোজপুর সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে বাংলা বিভাগে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেন। বড় ভাই মারা যাওয়ার পর তাকে দেখাশোনা করার মতো কেউ ছিল না। স্বজনরা জানান, কয়েক বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন তোফাজ্জল।