Dhaka ১২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ইরানি প্রেসিডেন্টের মরদেহ উদ্ধার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪
  • ২৭৪ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিসহ অন্যান্য আরোহীদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মরদেহগুলো তাবরিজ শহরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (আইআরসিএস) বরাতে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আইআরসিএস প্রধান পীর-হোসেন কৌলিভান্দ  সোমবার সকালে বলেন, কুয়াশা ও বৃষ্টি সত্তে¡ও রাতভর প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টারে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত ছিল। একটি ইরানি ড্রোন হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষের অবস্থান শনাক্ত করার পর উদ্ধারকারী দলকে দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তিনি জানান, হেলিকপ্টারে থাকা সব আরোহীর মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো তাবরিজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের বহরে মোট তিনটি হেলিকপ্টার ছিল। অন্য দুটি হেলিকপ্টার নিরাপদে অবতরণ করলেও ইব্রাহিম রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। নিরাপদে ফেরা হেলিকপ্টারে ছিলেন ইরানের জ¦ালানি মন্ত্রী আলী আকবর মেহরাবিয়ান এবং আবাসন ও পরিবহনমন্ত্রী মেহরদাদ বজরপাশ। গতকাল সোমবার সকালে পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের পাহাড়ি ও তুষারাবৃত এলাকায় ইরানি প্রেসিন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায় অনুসন্ধানী দল। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়, সেখানে প্রাণের কোনো চিহ্ন নেই। পুরো হেলিকপ্টার ভস্মীভ‚ত হয়ে গেছে।
প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিহত হলেন যারা
তিন বছর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ইব্রাহিম রাইসি। ৬৩ বছর বয়সী রাইসিকে মনে করা হতো দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে। পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের জোলফা এলাকায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। ওই হেলিকপ্টারে তার সঙ্গে ছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ানসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তাদের মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। ২০২১ সাল থেকে ইরানের পররাষ্টমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শুরু করেন হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান। গাজা যুদ্ধ ঘিরে গত কয়েক মাসে ইরানের ক‚টনৈতিক তৎপরতায় নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ৬০ বছর বয়সী আব্দোল্লাহিয়ান। পশ্চিমা দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন তিনি। জ্যেষ্ঠ ক‚টনীতিক হিসেবে কয়েক দশক ধরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন আব্দোল্লাহিয়ান। তবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার কারণে তিনি সমধিক পরিচিত। ওই হেলিকপ্টারে ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনির প্রতিনিধি ও তাবরিজের ইমাম সৈয়দ মোহাম্মদ আলি আলে হাশেম। পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের ভ্যালি-ই-ফকিহের প্রতিনিধিও ছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্টের সফর সঙ্গি পূর্ব আজারবাইজানের গভর্নর মালিক রাহমাতিও হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। ওই হেলিকপ্টারে প্রেসিডেন্ট প্রোটেকশন ইউনিটের কমান্ডার সরদার সৈয়েদ মেহদি মৌসভি ছাড়াও কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী এবং ক্রু ছিলেন। দুর্ঘটনায় তারা সবাই নিহত হয়েছেন। গত রোববার আজারবাইজানের সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই দেশের যৌথভাবে নির্মিত একটি বাঁধ উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। সেখান থেকে ফেরার পথে পূর্ব আজারবাইজানের জোলফা এলাকার কাছে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রেসিডেন্ট ও তার সফর সঙ্গিদের বহনকারী হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়ে সবাই নিহত হন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বাগেনহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আইনগত সহায়তা দিবস পালিত

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ইরানি প্রেসিডেন্টের মরদেহ উদ্ধার

Update Time : ১২:৫২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিসহ অন্যান্য আরোহীদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মরদেহগুলো তাবরিজ শহরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (আইআরসিএস) বরাতে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আইআরসিএস প্রধান পীর-হোসেন কৌলিভান্দ  সোমবার সকালে বলেন, কুয়াশা ও বৃষ্টি সত্তে¡ও রাতভর প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টারে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত ছিল। একটি ইরানি ড্রোন হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষের অবস্থান শনাক্ত করার পর উদ্ধারকারী দলকে দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তিনি জানান, হেলিকপ্টারে থাকা সব আরোহীর মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো তাবরিজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের বহরে মোট তিনটি হেলিকপ্টার ছিল। অন্য দুটি হেলিকপ্টার নিরাপদে অবতরণ করলেও ইব্রাহিম রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। নিরাপদে ফেরা হেলিকপ্টারে ছিলেন ইরানের জ¦ালানি মন্ত্রী আলী আকবর মেহরাবিয়ান এবং আবাসন ও পরিবহনমন্ত্রী মেহরদাদ বজরপাশ। গতকাল সোমবার সকালে পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের পাহাড়ি ও তুষারাবৃত এলাকায় ইরানি প্রেসিন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায় অনুসন্ধানী দল। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়, সেখানে প্রাণের কোনো চিহ্ন নেই। পুরো হেলিকপ্টার ভস্মীভ‚ত হয়ে গেছে।
প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিহত হলেন যারা
তিন বছর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ইব্রাহিম রাইসি। ৬৩ বছর বয়সী রাইসিকে মনে করা হতো দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে। পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের জোলফা এলাকায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। ওই হেলিকপ্টারে তার সঙ্গে ছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ানসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তাদের মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। ২০২১ সাল থেকে ইরানের পররাষ্টমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শুরু করেন হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান। গাজা যুদ্ধ ঘিরে গত কয়েক মাসে ইরানের ক‚টনৈতিক তৎপরতায় নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ৬০ বছর বয়সী আব্দোল্লাহিয়ান। পশ্চিমা দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন তিনি। জ্যেষ্ঠ ক‚টনীতিক হিসেবে কয়েক দশক ধরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন আব্দোল্লাহিয়ান। তবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার কারণে তিনি সমধিক পরিচিত। ওই হেলিকপ্টারে ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনির প্রতিনিধি ও তাবরিজের ইমাম সৈয়দ মোহাম্মদ আলি আলে হাশেম। পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের ভ্যালি-ই-ফকিহের প্রতিনিধিও ছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্টের সফর সঙ্গি পূর্ব আজারবাইজানের গভর্নর মালিক রাহমাতিও হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। ওই হেলিকপ্টারে প্রেসিডেন্ট প্রোটেকশন ইউনিটের কমান্ডার সরদার সৈয়েদ মেহদি মৌসভি ছাড়াও কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী এবং ক্রু ছিলেন। দুর্ঘটনায় তারা সবাই নিহত হয়েছেন। গত রোববার আজারবাইজানের সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই দেশের যৌথভাবে নির্মিত একটি বাঁধ উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। সেখান থেকে ফেরার পথে পূর্ব আজারবাইজানের জোলফা এলাকার কাছে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রেসিডেন্ট ও তার সফর সঙ্গিদের বহনকারী হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়ে সবাই নিহত হন।