সর্বশেষ :
বাগেরহাটে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নির্বাচনে হুমায়ুন কবির ও নজরুল ইসলামের প্যানেল ঘোষণা আরব আমিরাতে জাহাজে হামলা, ড্রোন প্রতিহত করার দাবি এবার ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ অভিযান শুরু করল ইরানের বিপ্লবী বাহিনী ইন্দোনেশিয়ায় আবর্জনার স্তূপ ধসে ৭ জনের প্রাণহানি নেতানিয়াহু নিহতের গুঞ্জন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নতুন বার্তা ইরানের ২৮১ ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন ভূপাতিতের দাবি বাহরাইনের চাপমুক্ত সহযোগিতার নিশ্চয়তা দিলে ইউরোপকে তেল-গ্যাস সরবরাহে প্রস্তুত রাশিয়া ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর এভরিথিং’: ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ: বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক প্রভাব রেকর্ডের পঞ্চম উষ্ণতম ফেব্রুয়ারি, ইউরোপে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

বাগেরহাটে তীব্রতাপদাহে আমের উৎপাদনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

প্রতিনিধি: / ২৮৪ দেখেছেন:
পাবলিশ: রবিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৪

জেলা প্রতিনিধি, বাগেরহাট: বাগেরহাটে প্রচন্ড খরা ও তাপদাহের কারণে আমের উৎপাদনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। বাগানে বোঁটার রস শুকিয়ে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। সেচ ও নানা পদ্ধতি অবলম্বন করেও টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না আম। আর এতেই উৎপাদনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা।

চাষিদের দাবি, ইতোমধ্যে অনেক বাগানে প্রায় ৩০ শতাংশ আমের গুটি ঝরে গেছে। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়নের মাষ্টার রেজাউল আহসান ৮বিঘা জমিতে বিগত ৭বছর ধরে বিভিন্ন প্রজাতির  আম চাষ করে আসছেন। তিনি জানান, তীব্র খরায় আমের বোঁটার রস শুকিয়ে ঝরে পড়ছে। চলতি মৌসুমে আমের মুকুল কম ছিল। তারপরও শুরুর দিকে ঘন কুয়াশা ও চৈত্রের বৃষ্টিতে প্রথম দফায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় মুকুল। এরপর যে তীব্র তাপদাহ চলছে এতে করে গাছে আম ধরে রাখায় অনেক কষ্টকর। শুধু মাষ্টার রেজাউল আহসানই নন, এমন বৈরী আবহাওয়া আমের গুটি ঝরে পড়ার দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার সব আম চাষিরা।

আলিফ নার্সারীর ওআম চাষি মোঃ আবুবকর বলেন, এমনিতেই এ বছর শীতের কারণে মুকুল দেরিতে এসেছিল, তারপর অসময়ের বৃষ্টিতে মুকুল ঝরে যায়। আর এখন বৃষ্টির অভাবে আমের গুটি ঝরে যাচ্ছে। এমন তাপদাহ আর কিছুদিন অব্যাহত থাকলে আরো ক্ষতির মুখে পড়তে হবে আমাদের। বৈরী আবহাওয়া আর অনাবৃষ্টির কারণে এ বছর আম উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। ফলে আমরা স্বস্তিতে নেই।

মোরেলগঞ্জ উপজেলায় প্রথম আম বাগানের উদ্যোক্তা মাষ্টার রেজাউল আহসান জানান, বাগেরহাট জেলার সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয় মোরেলগঞ্জে। কিন্তু এবার মোরেলগঞ্জেই আমের অবস্থা খুব খারাপ। আমাদের চাষিদের আম বিক্রি করে কীটনাশক খরচ উঠবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে বাগেরহাটে ৩৮ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা চলমান রয়েছে। ফলে প্রচন্ড তাপ ও খরায় বোঁটা শুকিয়ে আম ঝরে যাচ্ছে। এতে আম চাষিরা লোকসানের মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে খরায় আম ঝরে পড়া থেকে বাঁচতে অনেকেই গাছে পানি সেচ দিচ্ছেন।

মোরেলগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন জানান, বড় গাছগুলোতে এবার মুকুল কম এসেছে, তবে ছোট গাছে ভালো মুকুল আছে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করা গেলে, কৃষি বিভাগ যে সাড়ে ১হাজার ৪৬০ মেট্রিক টন আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তার কাছাকাছি যাওয়া যাবে বলে আশা করছি আমরা।

 মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকাশ বৈরাগী জানায়, উপজেলায় অতিরিক্ত খরা মোকাবিলায় আমের গুটি টিকিয়ে রাখতে চাষিদের পরামর্শ দিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  এ বছর মোরেলগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ২শত ৫ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এবার ১হাজার ৪৬০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর উপজেলায় আমের উৎপাদন হয়েছিল ১ হাজার ৩৮০মেট্রিক টন।


এই বিভাগের আরো খবর