Dhaka ০৬:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছায় তিব্র গরমে তৃষ্ণা মেটাতে ফুটপথের  শরবতে ভরসা ; বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
  • ৩২৫ Time View
ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা): বৈশাখ মাসে তিব্র  টানা তাপদাহ চলছে।খুলনায় তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি উপরে উঠছে। প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ নগরবাসী।  ঘর থেকে বের হলেই গরমে ঘেমে নাজেহাল। হেঁটে বা গাড়িতে করে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যেতে ঘাম ঝরছে শরীর থেকে। কাঠফাটা রোদে শুকিয়ে যাওয়া গলা ভেজাতে রাস্তার পাশের দোকান থেকে ঠান্ডা শরবত ও জুস কিনে পান করেন অনেক মানুষ।  সাময়িক প্রশান্তি আর তৃষ্ণা মেটাতে তাই মানুষ ঝুঁকছে রাস্তার শরবত-ফলে। অস্বস্তিকর গরমে রাস্তার পাশের অস্থায় কিংবা ভ্রাম্যমাণ পানীয় ও কাটা ফলের দোকানগুলোতে ভিড় চোখে পড়ার মতো।
পাইকগাছার পৌর বাজারে  চোখে পড়বে ব্যস্ত সড়কের মোড়ে, মার্কেটের সামনে, রাস্তার পাশে  দাঁড়ানো লেবু পানি, আখের রস, বেলের শরবত, আম-পেয়ারা , তরমুজ, শসা, ডাবসহ নানা প্রকারের লোভনীয় ফল-ফলাদি।  গরম বেশি পড়লে বেড়ে যায় এসব খাবারের চাহিদা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভ্যানে করে শরবত বিক্রি করছেন হকাররা। ভ্যানের ওপর একটি ফিল্টারে পানি ও বরফ মিশিয়ে রাখা হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে লেবু , ড্রিংক পাউডার, বিট লবন, তোকমা ও বরফ কুচি। শুধু লেবুর শরবত বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকায় আর ড্রিংক পাউডার দিয়ে তৈরি শরবত বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়। লেবুর শরবত বিক্রেতারা জানান, খবার পানি দিয়ে লেবুর শরবত তৈরি করা হয়। লেবুর শরবতের সাথে বিট লবন ও চিনি মিশিয়ে দেওয়া হয়। তবে যেসব বরফ দেওয়া হয়, সেগুলো সংগ্রহ করা হয়  বিভিন্ন মাছের আড়ত থেকে। মাছ সংরক্ষণের জন্য আড়তদাররা এসব বরফ তৈরি করেন। আর লেবু বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকারি দামে কেনা হয়। অন্যদিকে আখের রসেও দেওয়া হচ্ছে মাছ সংরক্ষণের জন্য তৈরি করা বরফ। আর  পানি দিয়ে ধোয়া হচ্ছে আখগুলো। দোকানিরা বলছেন, গরমের কারণে সব ধরনের শরবত-জুসের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ এ ধরনের শরবত বেশি পান করেন।
লেবুর শরবত বিক্রেতা নুর ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ গ্লাস শরবত বিক্রি হয়। বেশি বিক্রি হলে লাভও হয় বেশি। শরবতের ক্রেতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভ্যানচালক, বাসের হেলপার, ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষ তাদের ক্রেতা।বরফ কুচি ও বিট লবণ মেশানো লেবুর শরবতের দোকানেও গরমে অস্থির অনেকেই স্বস্তি খুঁজতে ভিড় করেছেন।
লেবুর শরবত বিক্রেতা শহিদুল মোড়ল বলেন, এখন অনেক কাস্টমার। বেশী গরম পড়লে  ভীড় বেড়ে যায়। আমার লেবুর পানি একশ ভাগ ভালো। ভালো কারখানা থেকে বরফ আনা। কোনো ক্ষতি হয় না। বিভিন্ন সূত্রমতে, রাস্তার এসব পানীয়তে যে বরফ ব্যবহার করা হয় তা মাছের আড়ৎএ ব্যবহার করা হয়।  অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হয় এ বরফ। এসব বরফে মেশানো থাকে কেমিক্যাল ও ইউরিয়া। ফলে ঠাণ্ডার পরশ পেয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও অজান্তেই শরীরে যাচ্ছে জন্ডিস, ডাইরিয়াসহ অন্য রোগের জীবাণু।  যদিও বিক্রেতাদের দাবি, খাওয়ার বরফ যেসব কারখানায় বানানো হয়, সেখান থেকে বরফ কেনেন তারা। স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বানানোও হয়।
পাইকগাছা উপজেলা সেনেটারি ইন্সপেক্টর উদয় মষ্ডল বলেন, গরমে পানি পান করা জরুরি। রাস্তার পাশের ঠান্ডা পানীয় দেখতে খুব আকর্ষণীয় হলেও স্বাস্থ্যের জন্য তা বড় রকমের ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এ কারণে শরবতে রং, কেমিক্যালসহ শরিরের ক্ষতিকর কোন দ্রব্য না মিশায় তার তদারকি ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে শরবত বানানোর জন্য উদ্বদ্ধ করা হচ্ছে বিক্রেতাদের।
পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা  কর্মকর্তা ডা: নীতিশ চন্দ্র গোলদার বলেন, পথঘাটে খাবার না খাওয়াই ভালো। রাস্তার পাশে এসব খাবার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুত হয়। এগুলো খেলে ডায়রিয়া, আমাশয় ও জন্ডিসের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত  হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়াবে এ ধরনের শরবত বা পানীয়। তিনি বলেন, ক্লান্ত হয়ে ফুটপাতের দোকান থেকে এক গ্লাস ঠান্ডা পানীয় পান করলেন। কিছুদিন পর হঠাৎ খেয়াল করলেন, আপনার চোখ কিংবা প্রস্রাব হলুদ বর্ণের হয়ে গেল। সঙ্গে তীব্র বমি ও পেটে ব্যথা।  এ খাবারগুলোতে বিশুদ্ধ পানিও ব্যবহার করা হয় না। আবার একই গ্লাস দিয়ে অনেকেই পান করেন। সাময়িক তৃপ্তি দিলেও এসব শরবত ও পানীয়  এড়িয়ে চলা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

পাইকগাছায় তিব্র গরমে তৃষ্ণা মেটাতে ফুটপথের  শরবতে ভরসা ; বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

Update Time : ০১:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা): বৈশাখ মাসে তিব্র  টানা তাপদাহ চলছে।খুলনায় তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি উপরে উঠছে। প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ নগরবাসী।  ঘর থেকে বের হলেই গরমে ঘেমে নাজেহাল। হেঁটে বা গাড়িতে করে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যেতে ঘাম ঝরছে শরীর থেকে। কাঠফাটা রোদে শুকিয়ে যাওয়া গলা ভেজাতে রাস্তার পাশের দোকান থেকে ঠান্ডা শরবত ও জুস কিনে পান করেন অনেক মানুষ।  সাময়িক প্রশান্তি আর তৃষ্ণা মেটাতে তাই মানুষ ঝুঁকছে রাস্তার শরবত-ফলে। অস্বস্তিকর গরমে রাস্তার পাশের অস্থায় কিংবা ভ্রাম্যমাণ পানীয় ও কাটা ফলের দোকানগুলোতে ভিড় চোখে পড়ার মতো।
পাইকগাছার পৌর বাজারে  চোখে পড়বে ব্যস্ত সড়কের মোড়ে, মার্কেটের সামনে, রাস্তার পাশে  দাঁড়ানো লেবু পানি, আখের রস, বেলের শরবত, আম-পেয়ারা , তরমুজ, শসা, ডাবসহ নানা প্রকারের লোভনীয় ফল-ফলাদি।  গরম বেশি পড়লে বেড়ে যায় এসব খাবারের চাহিদা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভ্যানে করে শরবত বিক্রি করছেন হকাররা। ভ্যানের ওপর একটি ফিল্টারে পানি ও বরফ মিশিয়ে রাখা হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে লেবু , ড্রিংক পাউডার, বিট লবন, তোকমা ও বরফ কুচি। শুধু লেবুর শরবত বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকায় আর ড্রিংক পাউডার দিয়ে তৈরি শরবত বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়। লেবুর শরবত বিক্রেতারা জানান, খবার পানি দিয়ে লেবুর শরবত তৈরি করা হয়। লেবুর শরবতের সাথে বিট লবন ও চিনি মিশিয়ে দেওয়া হয়। তবে যেসব বরফ দেওয়া হয়, সেগুলো সংগ্রহ করা হয়  বিভিন্ন মাছের আড়ত থেকে। মাছ সংরক্ষণের জন্য আড়তদাররা এসব বরফ তৈরি করেন। আর লেবু বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকারি দামে কেনা হয়। অন্যদিকে আখের রসেও দেওয়া হচ্ছে মাছ সংরক্ষণের জন্য তৈরি করা বরফ। আর  পানি দিয়ে ধোয়া হচ্ছে আখগুলো। দোকানিরা বলছেন, গরমের কারণে সব ধরনের শরবত-জুসের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ এ ধরনের শরবত বেশি পান করেন।
লেবুর শরবত বিক্রেতা নুর ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ গ্লাস শরবত বিক্রি হয়। বেশি বিক্রি হলে লাভও হয় বেশি। শরবতের ক্রেতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভ্যানচালক, বাসের হেলপার, ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষ তাদের ক্রেতা।বরফ কুচি ও বিট লবণ মেশানো লেবুর শরবতের দোকানেও গরমে অস্থির অনেকেই স্বস্তি খুঁজতে ভিড় করেছেন।
লেবুর শরবত বিক্রেতা শহিদুল মোড়ল বলেন, এখন অনেক কাস্টমার। বেশী গরম পড়লে  ভীড় বেড়ে যায়। আমার লেবুর পানি একশ ভাগ ভালো। ভালো কারখানা থেকে বরফ আনা। কোনো ক্ষতি হয় না। বিভিন্ন সূত্রমতে, রাস্তার এসব পানীয়তে যে বরফ ব্যবহার করা হয় তা মাছের আড়ৎএ ব্যবহার করা হয়।  অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হয় এ বরফ। এসব বরফে মেশানো থাকে কেমিক্যাল ও ইউরিয়া। ফলে ঠাণ্ডার পরশ পেয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও অজান্তেই শরীরে যাচ্ছে জন্ডিস, ডাইরিয়াসহ অন্য রোগের জীবাণু।  যদিও বিক্রেতাদের দাবি, খাওয়ার বরফ যেসব কারখানায় বানানো হয়, সেখান থেকে বরফ কেনেন তারা। স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বানানোও হয়।
পাইকগাছা উপজেলা সেনেটারি ইন্সপেক্টর উদয় মষ্ডল বলেন, গরমে পানি পান করা জরুরি। রাস্তার পাশের ঠান্ডা পানীয় দেখতে খুব আকর্ষণীয় হলেও স্বাস্থ্যের জন্য তা বড় রকমের ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এ কারণে শরবতে রং, কেমিক্যালসহ শরিরের ক্ষতিকর কোন দ্রব্য না মিশায় তার তদারকি ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে শরবত বানানোর জন্য উদ্বদ্ধ করা হচ্ছে বিক্রেতাদের।
পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা  কর্মকর্তা ডা: নীতিশ চন্দ্র গোলদার বলেন, পথঘাটে খাবার না খাওয়াই ভালো। রাস্তার পাশে এসব খাবার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুত হয়। এগুলো খেলে ডায়রিয়া, আমাশয় ও জন্ডিসের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত  হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়াবে এ ধরনের শরবত বা পানীয়। তিনি বলেন, ক্লান্ত হয়ে ফুটপাতের দোকান থেকে এক গ্লাস ঠান্ডা পানীয় পান করলেন। কিছুদিন পর হঠাৎ খেয়াল করলেন, আপনার চোখ কিংবা প্রস্রাব হলুদ বর্ণের হয়ে গেল। সঙ্গে তীব্র বমি ও পেটে ব্যথা।  এ খাবারগুলোতে বিশুদ্ধ পানিও ব্যবহার করা হয় না। আবার একই গ্লাস দিয়ে অনেকেই পান করেন। সাময়িক তৃপ্তি দিলেও এসব শরবত ও পানীয়  এড়িয়ে চলা উচিত বলে মনে করেন তিনি।