Dhaka ০১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামের থাবা বাড়ছেই, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ Time View

দেশজুড়ে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল, আর বাকি দুজন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। এ নিয়ে দেশে হামে ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৮ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত এই তিন শিশুর মৃত্যু হয়। একই সময়ে এক হাজারের বেশি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে এবং শতাধিক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হামে ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৬৬ শিশু। একই সময়ে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ১৯ হাজার ১৬১ শিশুর মধ্যে, যাদের বড় একটি অংশকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, হামের বিস্তার ঠেকাতে চারটি সিটি করপোরেশনসহ ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি চালু রয়েছে। ধীরে ধীরে এই কর্মসূচি সারা দেশে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হলেও সময়মতো টিকাদান ও সচেতনতা বাড়ালে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব।” তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের নির্ধারিত টিকা নিশ্চিত করতে এবং জ্বর, ফুসকুড়ি বা সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টরা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

Tag :
About Author Information

হামের থাবা বাড়ছেই, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

Update Time : ১২:০২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

দেশজুড়ে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল, আর বাকি দুজন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। এ নিয়ে দেশে হামে ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৮ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত এই তিন শিশুর মৃত্যু হয়। একই সময়ে এক হাজারের বেশি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে এবং শতাধিক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হামে ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৬৬ শিশু। একই সময়ে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ১৯ হাজার ১৬১ শিশুর মধ্যে, যাদের বড় একটি অংশকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, হামের বিস্তার ঠেকাতে চারটি সিটি করপোরেশনসহ ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি চালু রয়েছে। ধীরে ধীরে এই কর্মসূচি সারা দেশে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হলেও সময়মতো টিকাদান ও সচেতনতা বাড়ালে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব।” তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের নির্ধারিত টিকা নিশ্চিত করতে এবং জ্বর, ফুসকুড়ি বা সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টরা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।