মেহেদী হাসান লিপন,মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)সংবাদদাতা : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস । যার কারনে মধ্যবিত্তসহ সকল শ্রেণীর পরিবার পড়েছে চরম বিপাকে। সরকার ১২ কেজি ওজনের এলপি গ্যাসের মূল্য ১৭ শ’ ২৮ টাকা নির্ধারন করে দিলেও মোরেলগঞ্জ সদর সহ নানা হাট বাজারে এলপি গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২১শ টাকা দরে। যার কারনে নিম্ন আয়ের মানুষ কিনতে পারছেনা গ্যাস।
সরেজমিনে জানা গেছে, মোরেলগঞ্জ পৌর শহর বাজারের নব্বইরশী সড়কে এলপি ওমেরা গ্যাস বিক্রয়ের ডিলার রিয়াজুল ইসলাম, বসুন্ধরার ডিলার ইয়াসিন হাওলাদার, সেনা গ্যাস সাব ডিলার মাসুম বিল্লাহ , যমুনা ও গ্রীন গ্যাসের ডিলার শফিকুল ইসলাম বাবুসহ ৪ জন ডিলার রয়েছে। এ ৪ জন ডিলারের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতা রয়েছে ১৫/২০ টি গ্যাসের দোকান। গ্যাসের বাজারের গ্যাস সিন্ডিকেট ও দাম বাড়ানো প্রতিরোধে সরকার প্রতি ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ১৭শ ২৮ টাকা নির্ধারন করলেও খুচরা বিক্রেতারা ওমেরা প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস ১৯শ ৫০ থেকে ২ হাজার টাকায়, বসুন্ধরা গ্যাস ২১শ টাকায়, যমুনা ,সেনা সিলিন্ডার ও গ্রীন গ্যাস ১৮শ’ ৫০ টাকা থেকে ১৯শ’ টাকায় বিক্রি করছে। সরবরাহ কম থাকার কারনে বর্তমান পরিস্থির কথা বলছে অনেকে।
একাধিক খুচরা বিক্রেতা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে সেনা সিলিন্ডার গ্যাস ১৮শ’ ৩০ টাকা ক্রয় করে ১৮শ ৮০ টাকা থেকে ১৯ শ টাকা, ওমেরা খুচরা বিক্রেতারা প্রতি সিলিন্ডার ১৯শ টাকায় ক্রয় করে ১৯শ ৫০ টাকায় ,বসুন্ধরা সিলিন্ডার বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় ২ হাজার টাকায় ডিলারদের কাছ থেকে ক্রয় করে খুচরা বিক্রি করছেন ২১শ টাকায়। গ্যাস ক্রয় করতে আসা চা বিক্রেতা ইলিয়াছ শেখ বলেন, যে গ্যাস সিলিন্ডার ১৫ দিন পূর্বে ১৬শ টাকায় ক্রয় করেছি তা এখন ওমেরা সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে ১৯শ’ ৫০ টাকায়। বাধ্য বিক্রেতা যে দর বলছে সে দামেই কিনে নিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের মত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দোকানের চায়ের দাম তো বৃদ্ধি হয়নি। সেই প্রতি কাপ চা পূর্বের দামেই ৫ টাকায় বিক্রি করেছি এখনো সেই দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বসুন্ধরা ডিলার ইয়াসিন হাওলাদার বলেন ১৭শ ৫২ টাকায় গ্যাস কিনে বিক্রয় করছি ১৮শ ৫০ টাকায়। সংকটের কারনে চাহিদা অনুযায়ী ক্রেতাদের গ্যাস সরবারাহ করা যাচ্ছেনা। যে কারনে মাঝে মাঝে দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ওমেরা ডিলার রিয়াজুল ইসলাম বলেন, খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ১৮শ ৫০ টাকায় গ্যাস বিক্রি করছি। কারণ অনেক সময় সিলিন্ডার পরিবর্তন করে ক্রেতাদের দিতে হয়। সে ক্ষেত্রে ১শ টাকা ব্যবধান রাখা হচ্ছে ক্রেতাদের কাছ থেকে।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল্লাহ বলেন, এলপি গ্যাসের সরকারি নির্ধারিত মূল্যের বাহিরে যদি কেউ অতিরিক্ত টাকায় বিক্রয় করে এবং সিন্ডিকেট সৃষ্টি করার পায়তারা করে সে ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।##