সর্বশেষ :
মোরেলগঞ্জে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস যে কারণে ৩২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন পুতিন লেবাননে ইসরায়েলের ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ নিয়ে পাকিস্তান-ফ্রান্সের উদ্বেগ হরমুজের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলারের নজরদারি ড্রোন নিখোঁজ শপথ নিলেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং মার্চে সমুদ্রের তাপমাত্রা ছিল রেকর্ডের কাছাকাছি: ইইউ পর্যবেক্ষণ সংস্থা জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করতে সিঙ্গাপুরে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী হামলায় আহত ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খারাজি মারা গেছেন ২০ দিনের তেলের মজুত ছাড়বে জাপান: গণমাধ্যম বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ০২ দিন ব্যাপী বিজ্ঞান মেলার সমাপনী অনুষ্ঠিত
শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বন্ধ থাকলে বুঝব কোনো ঘাপলা আছে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রতিনিধি: / ৫ দেখেছেন:
পাবলিশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আজ শনিবার রাজশাহীতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জানিয়েছেন, “পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা নিয়ে কোনো অজুহাত সহ্য করা হবে না। আবার বইলেন না পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। তেমনটা হলে বুঝব ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’ (নিশ্চয়ই কোনো ঘাপলা আছে)। পরীক্ষার কোনো দলিল যেন তামাদি না হয়, সব সংরক্ষণ করতে হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘পোষ্য কোটা’র কড়া সমালোচনা করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে পাস করেই শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে হবে। আমরা চাই না কেউ বিনা পরীক্ষায় বা বিশেষ সুবিধায় পার পেয়ে যাক। এছাড়া তিনি প্রস্তাব করেন, জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সন্তানদের বাধ্যতামূলকভাবে জেলা স্কুলেই পড়ানো উচিত, যাতে সরকারি স্কুলগুলোর মানোন্নয়নে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা তৈরি হয়।

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আইন এমনভাবে স্টিপোলড (নির্ধারিত) করবো যা কেবল ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নয়, আমাদের নিজেদের দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত করবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্ন কীভাবে ফাঁস হচ্ছে, তা আমাদের নখদর্পণে। এখন থেকে সব নজরদারি করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মানবসম্পদ তখনই অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে যখন তাকে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের (রিফর্ম) ডাক দেন।

সঙ্ঘবদ্ধ কোনো নকল চক্র থাকলে তাদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই না পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ছড়াক বা ফলাফলে ধস নামুক। তবে কোনোভাবেই বিনা পরীক্ষায় পাস বা অনৈতিক সুযোগ দেয়া হবে না।

এসময় শূন্য শতাংশ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের পূর্বঘোষণা থাকলেও মানবিক বিবেচনায় এবার তা কার্যকর করা হচ্ছে না। তবে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী নিহাল উদ্দীন সরকার বলেন, আমাদের ঠিকমতো ক্লাসই হয় না। প্র‍্যাকটিক্যাল কাজ আটকে যায়। ক্লাসে কিছুই বুঝতে পারি না। ওই শিক্ষার্থীর সমস্যার কথা শুনে তার বিভাগের শিক্ষক মাশফিকুর রহমানকে ডেকে কারণ জানতে চান মন্ত্রী। ওই শিক্ষক জানান, ১৯৬৩ সালে নির্মিত ভবনে ক্লাস ও ল্যাবের কাজ চালাতে হচ্ছে। মেশিনারিজ বলতে কিছুই নেই। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় পড়ানোর জন্য যেসব সুবিধা দরকার, তার কিছুই নেই। ফলে শিক্ষকরা চাইলেও শেখাতে পারেন না। আবু জার গিফারি নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, অষ্টম সেমিস্টারে আমাদের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর কথা। কিন্তু আমাদের সেভাবে পাঠানো হয় না। পাঠালেও ভালো প্রতিষ্ঠানে আমাদের নেওয়া হয় না। কাউকে ঢাকার প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় না। ঢাকার ভালো প্রতিষ্ঠানে না পাঠানোর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী রাজশাহী পলিটেকনিকের প্রিন্সিপালের কাছে জানতে চান। কিন্তু প্রিন্সিপাল জানান, ইন্ডাস্ট্রির লোকজন শিক্ষার্থীদের নিতে চায় না। তখন শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারের সঙ্গে ইন্ড্রাস্ট্রির চুক্তি আছে। ছাত্রদের অবশ্যই নিতে হবে। মেশিনারি ব্যবহার করতে দিতেই হবে। কেন দিচ্ছে না তার খোঁজ নিতে হবে। আমরাও খোঁজ নেব, কথা বলব। কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে সরকার কাজ করবে জানিয়ে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন শিক্ষায় যত টাকা লাগে, তা দেবে। কিন্তু আমি তো নিতে পারছি না। কত নেব, কীভাবে নেব, কোথায় খরচ করব? আমাকে তো প্রকল্প হাতে নিতে হবে। যেখানে যেখানে সমস্যা, সেখানে কাজ করব। তা সমাধানে প্রকল্প হাতে নেব। সেজন্য আমরা শিক্ষার্থীদের কথা শুনছি। ওরা কী চায়, সেটা জানার চেষ্টা করছি। শিক্ষামন্ত্রীকে এক শিক্ষক জানান, পলিটেকনিকের ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে যাচ্ছে। এ ঝরে পড়া ঠেকাতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি ৭ বছর ধরে চাকরি করলেও বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেন ১৯ জন শিক্ষক। মন্ত্রী তাদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে আত্তীকরণ করার আশ্বাস দেন।

মতবিনিময় সভায় রাজশাহী অঞ্চলের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তিন বোর্ডের বিভিন্ন কেন্দ্রের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরো খবর