২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনা জুনে শুরু হওয়ার আগেই দেখা দিয়েছে টিকিটের দাম নিয়ে তীব্র উন্মাদনা। ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল ম্যাচের ‘ক্যাটাগরি ১’ টিকিটের দাম পৌঁছেছে ১০,৯৯০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকার সমান। এত উচ্চমূল্য সাধারণ সমর্থকদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
ফাইনাল ছাড়াও ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, জার্মানি এবং আয়োজক মেক্সিকোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের টিকিটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দ্বিতীয় ক্যাটাগরির টিকিটের দাম প্রায় ৭ হাজার ৩৮০ ডলার (প্রায় ৯ লাখ টাকা) এবং তৃতীয় ক্যাটাগরির টিকিট প্রায় ৫ হাজার ৭৮৫ ডলার (প্রায় ৭ লাখ টাকা) বিক্রি হচ্ছে। ফিফার ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ নীতির কারণে চাহিদা অনুযায়ী টিকিটের দাম ওঠানামা করছে, যা সমর্থকদের মধ্যে আরও অসন্তোষ তৈরি করেছে।
বিবিসি জানিয়েছে, টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়াও জটিল ও বিভ্রান্তিকর। লটারি পদ্ধতি এবং ‘ফার্স্ট-কাম-ফার্স্ট-সার্ভ’ ব্যবস্থায় অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও টিকিট পাননি। প্রযুক্তিগত ত্রুটি, ভুল কিউ এবং ওয়েবসাইটে প্রবেশে সমস্যার অভিযোগও উঠেছে। ‘লাস্ট-মিনিট সেলস ফেজ’-এ প্রবেশের চেষ্টা অনেকের ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছে।
ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের টমাস কনক্যানন বিবিসি স্পোর্টকে বলেছেন, “পুরো বিষয় যেন একটা বড় রহস্য। সমর্থকেরা বুঝতেই পারছে না এখন কী করবে। ফিফার টিকিট বিক্রির ইতিহাসে এটি আরেকটি বড় কলঙ্ক।” তিনি আরও বলেন, “জীবনে হয়তো একবারই বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ আসে। অনেকের জন্য এটি সেই সুযোগ, কিন্তু উচ্চমূল্যের কারণে তারা আর যেতে পারবে না।”
২০২৬ বিশ্বকাপে টিকিটের প্রকৃত মূল্য কাঠামো বোঝা বেশ কঠিন। ফিফা কখনো পূর্ণাঙ্গ মূল্যতালিকা প্রকাশ করেনি। গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অফিশিয়াল সমর্থকদের জন্য টিকিট বিক্রি হয়েছিল, যেখানে সর্বোচ্চ দাম ছিল ৮ হাজার ৬৮০ ডলার। কিন্তু সাধারণ দর্শকদের জন্য এবারের উন্মুক্ত বিক্রিতে দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ।
গ্রুপ পর্বের ৭২টি ম্যাচের মধ্যে ৩৫টির টিকিট বর্তমানে উপলব্ধ। ইংল্যান্ড বা স্কটল্যান্ডের ম্যাচের টিকিট তখন অবশিষ্ট ছিল না। ফিফার পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে ফাইনাল ম্যাচের সবচেয়ে দামি টিকিটের চাওয়া হয়েছে ৮২ হাজার ৭৮০ ডলার, সবচেয়ে সস্তা টিকিটও ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ডলার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, কেউ বলছেন, “এই দামে সাধারণ মানুষের পক্ষে বিশ্বকাপ দেখা অসম্ভব।”
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আয়োজক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। সেই ম্যাচের টিকিটের দামও সমালোচনার মুখে পড়েছে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে চাহিদা অনুযায়ী দাম ওঠানামা করবে বলে ফিফা জানিয়েছে। তবে সমর্থকদের আশা, নতুন কোনো টিকিট ছাড়া হতে পারে কিক-অফের আগপর্যন্ত।