মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় গভীর রাতে এক রহস্যজনক অগ্নিসংযোগে বিধবা নারীর বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একই আঙিনায় পাশাপাশি থাকা দুটি ঘরের মধ্যে শুধুমাত্র তার ঘরটি ধ্বংস হওয়ায় স্থানীয়রা ধারণা করছেন, এটি দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হামলার অংশ হতে পারে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে। ভুক্তভোগী মোসা. শাহিনুর বেগম (৩০), মৃত মতিউর রহমান লাল বয়াতীর স্ত্রী। জীবিকার তাগিদে তিনি স্থানীয় রক্ষনেরহাট বাজারে একটি ছোট চায়ের দোকান পরিচালনা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে শাহিনুর বেগম দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা তার ফাঁকা বসতঘরে প্রবেশ করে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
নিকটতম প্রতিবেশী রুলিয়া বেগম বলেন, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বাইরে ঠাসঠাস শব্দ শুনতে পাই। পরে দরজা খুলে দেখি শাহিনুরদের ঘরের ভেতরে আগুন জ্বলছে। চিৎকার করলে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে ঘরের ভেতরের প্রায় সবকিছু পুড়ে যায়।
ঘটনাটি আরও রহস্যময় হয়েছে কারণ একই আঙিনায় থাকা অন্যান্য ঘর অক্ষত থাকলেও শুধু শাহিনুর বেগমের ঘরটি ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া ঘরটি প্রায় ৪–৫ বছর ধরে পরিত্যক্ত ছিল এবং কোনো বিদ্যুৎ সংযোগও ছিল না।
৪নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মো. ইউনুস জানান, “ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। পরে শুনেছি, কে বা কারা এই অসহায় মহিলার ঘরে আগুন দিয়েছে।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, একই এলাকার আলামিন শেখ, আলাউদ্দিন শেখ ও কালু শেখের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
শাহিনুর বেগম আরও জানান, গত ১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে তার একমাত্র ছেলে নাঈম বয়াতী (১১) বাড়ির সুপারি বাগানে গেলে অভিযুক্তরা তাকে মারধর করে আহত করে এবং একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় মা-ছেলেকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
শাহিনুর বেগম বলেন, আমি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছেও গিয়েছি, কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি। এখন আমার ঘরটিও পুড়িয়ে দেওয়া হলো।
স্বামীহারা এই নারী প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তার ছেলে বর্তমানে একটি এতিমখানায় পড়াশোনা করছে। অগ্নিকাণ্ডের পর তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহমুদুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।