বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

ঈদযাত্রায় প্রতিদিন গড়ে ২০ প্রাণহানি, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি

প্রতিনিধি: / ৭ দেখেছেন:
পাবলিশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

ঈদুল ফিতরের ১৫ দিনের যাত্রাপথে দেশের সড়কে প্রাণহানির ছবি আবারও উদ্বেগজনক। ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ৩৭৩টি দুর্ঘটনায় ২৯৮ জন নিহত হয়েছেন, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ২০ জন। আহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ। বিশেষভাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির কারণ হয়ে উঠেছে, যেখানে নিহত ১১৬ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৪৬ জন এবং শিশু ৬৭ জন।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পরেই বাস, থ্রি-হুইলার এবং প্রাইভেট কারে প্রাণহানি হয়েছে। বাসে নিহত হয়েছেন ৪১, থ্রি-হুইলারে ৫০ এবং প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাসে ২০ জন। ট্রাক-পিকআপে নিহত ১৩ এবং স্থানীয় যানবাহনে ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

দুর্ঘটনার স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আঞ্চলিক সড়কে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা (১৬১টি), এরপর জাতীয় মহাসড়ক (১১৫টি), গ্রামীণ সড়ক (৪৮টি) এবং শহরের সড়ক (৪২টি)। দুর্ঘটনার ধরনে ১৫২টি ঘটেছে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে, ৯৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং ৬৮টি পেছন থেকে ধাক্কার কারণে। পথচারী চাপা পড়ার ঘটনা ৪৯টি।

নৌপথ ও রেলপথেও প্রাণহানি ঘটেছে। ১১টি নৌ দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ২৩ জন আহত এবং ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ২৯টি রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪১ জন, আহত হয়েছেন ২০৯ জন। বিশেষভাবে কুমিল্লার পদুয়ারবাজারে বাসে ট্রেনের ধাক্কায় ১৪ জন নিহত হন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে ডুবে ২৬ জনের মৃত্যু হয়। সদরঘাটে দুই লঞ্চের মাঝে চাপা পড়ে দুই জনের মৃত্যু ঘটে।

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে, ৯৩টি দুর্ঘটনায় ৭৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বিপরীতে বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম, ১২ জন। গত বছরের তুলনায় এ বছর দুর্ঘটনা ৬.৪২ শতাংশ বেড়েছে, তবে প্রাণহানি ১২.২৪ শতাংশ কমেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এটি কোনো ইতিবাচক উন্নতির ইঙ্গিত নয়; মূলত জ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেলের ব্যবহার কম থাকায় সামান্য কম মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, দুর্ঘটনার মূল কারণ হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং আইন না মানা। নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এতে রেলপথ সম্প্রসারণ, নিরাপদ গণপরিবহন বৃদ্ধি, দক্ষ চালক তৈরি এবং সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত।


এই বিভাগের আরো খবর