ইসরায়েলকে ড্রোন সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ তুলে এবার ইউক্রেনকেও সরাসরি হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, ইউক্রেন ইতোমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। তাই আত্মরক্ষার অধিকার ব্যবহার করে ইউক্রেনের যেকোনো স্থানে হামলা চালানোর অধিকার তাদের রয়েছে।
রাশিয়ার গণমাধ্যম আরটি জানিয়েছে, শনিবার (১৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ হুঁশিয়ারি দেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছে, তাতে কিয়েভ এখন একটি পক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইব্রাহিম আজিজি দাবি করেন, ইসরায়েলকে ড্রোন সহায়তা এবং বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দিয়ে ইউক্রেন কার্যত এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, “ইসরায়েলি শাসনগোষ্ঠীকে ড্রোন সহায়তা দিয়ে ব্যর্থ রাষ্ট্র ইউক্রেন এই যুদ্ধে সরাসরি যুক্ত হয়েছে। জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার ব্যবহার করে ইরান এখন ইউক্রেনের যেকোনো অঞ্চলকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।”
গত দুই সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে জড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিলেন। তিনি দাবি করেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সম্পদ রক্ষায় সহায়তার জন্য ওয়াশিংটন কিয়েভের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি আঞ্চলিক অংশীদার দেশও ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের সহায়তা কামনা করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জেলেনস্কি আরও জানান, এ পরিস্থিতিতে তিনি কিয়েভে তৈরি ড্রোন ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ এবং অভিজ্ঞ অ্যান্টি এয়ারক্রাফট বিশেষজ্ঞদের পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কিছু দেশের সঙ্গে এ ধরনের সরঞ্জাম সরবরাহ নিয়েও সমঝোতা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে ইউক্রেনের এই উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট নয়। শুরুতে সহায়তা গ্রহণের ইঙ্গিত দিলেও পরে ভিন্ন সুরে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৩ মার্চ) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইউক্রেনের প্রস্তাব নাকচ করে দেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ড্রোন প্রতিরক্ষায় আমাদের কারো সহায়তার প্রয়োজন নেই। ড্রোন প্রযুক্তি সম্পর্কে আমরা সবার চেয়ে বেশি জানি। বিশ্বের সেরা ড্রোন আমাদের কাছেই আছে।”
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়া প্রকাশ্যে ইরানের পাশে অবস্থান নিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।