সর্বশেষ :
১০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৩ হাজার বেসামরিক স্থাপনা ইসরায়েলের পর এবার ইউক্রেনও ইরানের লক্ষ্যবস্তু, তেহরানের কড়া হুঁশিয়ারি শুনেছি খামেনি জীবিত নেই, ইরানের আত্মসমর্পণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ: ট্রাম্প জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হলে আগে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে দিপু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বেড়ে ২৬, নতুন আসামি সোহেল জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আবেগ নয়, সাংবিধানিক পথেই এগোতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাইয়ে সংসদের বিশেষ কমিটি পহেলা বৈশাখে শুরু হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রস্তুতি বৈঠক প্রথম ম্যাচে দাপট, দ্বিতীয়টিতে ভরাডুবি আজ শেষ ওয়ানডেতে কোন বাংলাদেশ দেখা যাবে?
রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আবেগ নয়, সাংবিধানিক পথেই এগোতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রতিনিধি: / ৬ দেখেছেন:
পাবলিশ: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, বরং সংবিধান ও আইনি প্রক্রিয়াকেই অনুসরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্র কোনো আবেগ দিয়ে পরিচালিত হয় না, রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সংবিধান, আইন ও বিধি-বিধানের মাধ্যমে।

রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বক্তব্য দেন। সেই বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার ঐতিহাসিক জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এটি কোনো অবৈধ বা আরোপিত আদেশের মাধ্যমে নয়, বরং সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করতে হবে। তার ভাষায়, “রাষ্ট্র কোনো আবেগ দিয়ে চলে না। রাষ্ট্র চলে সংবিধান, আইন ও কানুন দিয়ে।”

সংসদীয় রীতিনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা তুলতে হলে কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ বা ৬৮ ধারায় নোটিশ দেওয়ার বিধান রয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা এ ধরনের কোনো নোটিশ দিয়েছেন কি না, সেটিও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু সংবিধান পরিবর্তন বা সংশোধনের মতো বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে আনা যায় না। অথচ গত বছরের ১৩ নভেম্বর জারি হওয়া ওই আদেশটি না কোনো অধ্যাদেশ, না কোনো আইন। তিনি বলেন, “এটি একটি অদ্ভুত বিষয়।”

তিনি আরও বলেন, এই আদেশের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়া এবং রাষ্ট্রপতির কাছে অধিবেশন আহ্বানের দাবি সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী এমন কোনো পরিষদের অস্তিত্ব নেই।

গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটে জনগণের রায়কে সরকার সম্মান করে। তবে সেখানে একাধিক প্রশ্নকে একত্রে রেখে একটি মাত্র ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল, যা যৌক্তিক ছিল না। তিনি বলেন, “গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হলে আগে সংবিধানে সংশোধন আনতে হবে।”

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, জুলাই জাতীয় সনদের আওতায় যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কথা বলা হচ্ছে, তার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে এবং এ বিষয়ে রুল জারি রয়েছে। বিষয়টি এখন বিচার বিভাগের বিবেচনায়।

বর্তমান সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনী বিল আনা কঠিন বলেও ইঙ্গিত দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়েছে, যেগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। সামনে দীর্ঘ ছুটি থাকায় সময় সংকট তৈরি হতে পারে। তবে কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত হলে আগামী বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন করা যেতে পারে।

শেষে বিরোধীদলীয় নেতাকে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি শব্দের প্রতি আমরা দায়বদ্ধ। আসুন, আমরা সংসদে সমঝোতার ভিত্তিতে বিল গ্রহণ করি এবং সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যাই।”


এই বিভাগের আরো খবর