ফকিরহাটে রেলওয়ের জমি দখল করে ২৫ বছর চাঁদাবাজি, বৈধ লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদের হুমকি
প্রতিনিধি:
/ ১৭
দেখেছেন:
পাবলিশ:
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
শেয়ার করুন
ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ-বাগেরহাটের ফকিরহাটে রেলওয়ের জমি দখল করে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে ভাড়া আদায় এবং বর্তমানে বৈধ লাইসেন্সধারী এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে দোকান থেকে উচ্ছেদের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের অব্যাহত অত্যাচারে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ্। এ ঘটনায় ০৮ মার্চ ফকিরহাট মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন আট্টাকা গ্রামের বাসিন্দা ও ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি মোঃ আবু রাসেল এবং একই এলাকার বিশ্বাস শাজ্জাদ হোসেন সাজু।
ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ্ জানান, ফকিরহাট উপজেলা মোড়ে রেলওয়ের জমিতে গত ২৫ বছর ধরে তিনি চায়ের দোকান পরিচালনা করে আসছেন। ১নং বিবাদী আবু রাসেলের ওই জমির কোনো লাইসেন্স না থাকলেও রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে তিনি দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে আব্দুল্লাহর কাছ থেকে জোরপূর্বক দোকানের ভাড়া আদায় করে আসছিলেন। গত ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আব্দুল্লাহ্ নিজে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে ওই জমির অনুকূলে বৈধ লাইসেন্স সংগ্রহ করেন। এরপর থেকে তিনি বিবাদীকে অবৈধ ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দিলে শুরু হয় চক্রান্ত ও হুমকি। বৈধ লাইসেন্স পাওয়ার পর থেকে বিবাদী আবু রাসেল ও তার সহযোগীরা আব্দুল্লাহর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে এবং বিভিন্ন সময় দোকান থেকে মালামাল লুট করছে। সর্বশেষ গত ৭ মার্চ বিবাদীদের পক্ষ থেকে আব্দুল্লাহকে আগামী শুক্রবারের মধ্যে দোকান খালি করার চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। অন্যথায় জোরপূর্বক দোকান দখল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রাণভয়ে গত দুই দিন ধরে দোকান খুলতে পারছেন না এই অসহায় ব্যবসায়ী।
নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা আব্দুল্লাহ্ বলেন, “আমি রেলওয়ের বৈধ লাইসেন্সধারী। সরকারি জমি নিজের দখলে রাখতে আমি নিয়ম মেনে সব কাজ করেছি। কিন্তু এই প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে আমি এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছি। তারা আমার রুটি-রুজির একমাত্র সম্বলটি কেড়ে নিতে চায়। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার এবং শান্তিতে ব্যবসা করার নিশ্চয়তা চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ২নং বিবাদী বিশ্বাস শাজ্জাদ হোসেন সাজুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ১নং বিবাদী মোঃ আবু রাসেলের মুঠোফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, “উক্ত বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।