কপিলমুনি (খুলনা) অফিস: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে বাঁক সরলিকরণের আড়ালে কোটিপতির ভবন
বাঁচাতে মানববন্ধন আয়োজন করেছে গুটিকয়েক লোক । এই ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা
দিয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। শনিবার উপজেলার কপিলমুনি মেইন সড়কে কপিলমুনির
কোটিপতি ব্যাবসায়ীর স্বার্থে গুটিকয়েক লোক নিয়ে নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের ব্যানারে
মানববন্ধনের আয়োজন করার ঘটনায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।ধিক্কার জানিয়েছেন সচেতন মহান।
মানববন্ধনের ব্যানারে নিচচার নাম ব্যাবহার করে সভাপতি শফিউল আলম বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় চলছে
ব্যাপক সমালোচনা। জনগণের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কেন নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের নাম
ব্যবহার করা হলো তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এলাকাবাসী জানান, নিরাপদ সড়ক চাই
সংগঠনের পাইকগাছা উপজেলা সভাপতি তার ইচ্ছে মত সংগঠনকে ব্যাবহার করছেন। সড়ক ও
জনপদ অধিদপ্তর তথ্য মতে, খুলনার ৩ উপজেলা এবং সাতক্ষীরার একটি উপজেলার ওপর দিয়ে বেতগ্রাম-
তালা-কপিলমুনি ও পাইকগাছা-কয়রার প্রায় ৬০ কিলোমিটার সড়কটি দুই লেনে উন্নীত করণে
প্রকল্প নেয়া হয়। এ কারণে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ৩৪টি বাঁক সরলীকরণে জমি অধিগ্রহণের
প্রয়োজন পড়ে। ২০২০ সালে শুরু হয় কার্যক্রম। প্রায় ৫ বছরে দুথদফায় প্রকল্পের মেয়াদ ও অর্থবৃদ্ধি
হলেও দৃশ্যমান হয়নি কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি। সমপ্রতি, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে
কপিলমুনি বাজারের অংশ। ভুল নকশায় সড়কের বাঁকসরলীকরণ নিয়ে সমপ্রতি বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে
খুলনা অঞ্চলের সবচেয়ে পুরোনো এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ,
জেলা ও বিভাগীয় শহর থেকে দূর এবং উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় বিভিন্ন পয়েন্টে চলে ভাগ-
বাটোয়ারার হিসেব। আছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সুবিধাভোগী মহল। এই চক্রের যোগসাজশে বিগত
ফ্যাসিস্ট সরকারের ‘কাদা খাওয়া এমপিথ হিসেবে পরিচিত খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ
সদস্য (বর্তমানে দুদকের মামলায় পলাতক) আখতারুজ্জামান বাবুই মূলত খলনায়ক।মোটা অঙ্কের
অর্থের বিনিময়ে প্রভাবশালী এক ব্যবসায়ীর ভবনসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষা করতে কপিলমুনি
বাজারের সড়ক সরলীকরণ নকশা পরিবর্তন করে দেন বলে অভিযোগ আছে। সমপ্রতি গত ৬
ডিসেম্বর শনিবার বর্তমান নকশায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে তোপের মুখে পড়ে সড়ক ও জনপথ
বিভাগ। দুদিনের অভিযানে ভেঙে দেয়া হয় কপিলমুনি সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার দোতলা ভবন।
একপর্যায়ে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান
নকশায় উচ্ছেদ করে সড়ক সোজা করতে গেলে উল্টো আরো দুটি বিপদজনক বাকের সৃষ্টি করা
হচ্ছে। এতে ডিগ্রি মাদরাসা এবং হাসপাতালের সামনে সড়ক দুর্ঘটনা এবং জীবন ঝুঁকি
আরও বাড়বে। অথচ উল্টো পাশের ভবনের অংশবিশেষ অপসারণ করা গেলে প্রকৃতভাবেই সড়কটি
সোজা হয়। একই সঙ্গে সরকারের বেঁচে যায় অধিগ্রহণের কোটি কোটি টাকা। কারণ এরই
মধ্যে স্পষ্ট হয়েছে, নকশা পরিবর্তন করে রক্ষা করতে যাওয়া আলোচিত ভবনটি (নির্মাণ বিপণি)
সরকারি পেরিফেরি সম্পত্তির ওপর গড়ে ওঠা। কিন্তু সেই ভবন অপসারণ না করে উল্টোপাশে উচ্ছেদের
জোর তৎপরতা চলছে। এতে একদিকে যেমন সড়কটি সোজা হচ্ছে না। অন্যদিকে, অধিগ্রহণের
জন্য সরকারকে খরচ করতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ।