Dhaka ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতি মামলায় বেকসুর খালাস পেলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৫৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩২ Time View

বিদেশ : দীর্ঘদিন ধরে চলা এক দুর্নীতি মামলায় ভারতের একটি আদালত গতকাল শুক্রবার দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। তিনি এই মামলাকে শাসক দলের ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছিলেন। বিরোধী আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল ২০২৫ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের আগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালেই তিনি নির্বাচনে হারেন। ৫৭ বছর বয়সী কেজরিওয়ালকে ২০২৪ সালের মার্চে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ ছিল, তার প্রশাসন মদের লাইসেন্স বরাদ্দে ঘুষ নিয়েছিল। কয়েক মাস কারাভোগের পর আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। রায়ের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সত্যের জয় হয়েছে। ’ একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের’ মাধ্যমে আপকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ তোলেন।

দিল্লির একটি আদালত শুক্রবার তাকে, তার সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোরিয়া এবং আরো ২১ জনকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়। মোদির একজন গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী হিসেবে পরিচিত কেজরিওয়াল শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টির সদস্য রেখা গুপ্তা তিন কোটিরও বেশি মানুষের এই বৃহৎ মহানগরের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। কেজরিওয়াল কর্মজীবন শুরু করেছিলেন কর আদায়কারী কর্মকর্তা হিসেবে, তবে পরে চাকরি ছেড়ে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়ে জাতীয় পরিচিতি লাভ করেন। সামপ্রতিক বছরগুলোতে মোদির একাধিক বিরোধী নেতা ফৌজদারি তদন্ত বা বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন, যার মধ্যে দুইজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও রয়েছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে সরকার একটি বিল উত্থাপন করে, যাতে কোনো রাজনীতিবিদ ৩০ দিন গ্রেপ্তার ও আটক থাকলে তাকে পদ থেকে অপসারণের প্রস্তাব রাখা হয়। বিরোধীরা একে সাংবিধানিক সুরক্ষা খর্বের ‘ভীতিকর’ উদ্যোগ বলে অভিহিত করেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোল্লাহাটে ব্যাটারি চালিত ভ্যানের নিচে পড়ে শিশুর মৃত্যু

দুর্নীতি মামলায় বেকসুর খালাস পেলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল

Update Time : ০৮:৫৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিদেশ : দীর্ঘদিন ধরে চলা এক দুর্নীতি মামলায় ভারতের একটি আদালত গতকাল শুক্রবার দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। তিনি এই মামলাকে শাসক দলের ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছিলেন। বিরোধী আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল ২০২৫ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের আগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালেই তিনি নির্বাচনে হারেন। ৫৭ বছর বয়সী কেজরিওয়ালকে ২০২৪ সালের মার্চে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ ছিল, তার প্রশাসন মদের লাইসেন্স বরাদ্দে ঘুষ নিয়েছিল। কয়েক মাস কারাভোগের পর আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। রায়ের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সত্যের জয় হয়েছে। ’ একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের’ মাধ্যমে আপকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ তোলেন।

দিল্লির একটি আদালত শুক্রবার তাকে, তার সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোরিয়া এবং আরো ২১ জনকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়। মোদির একজন গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী হিসেবে পরিচিত কেজরিওয়াল শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টির সদস্য রেখা গুপ্তা তিন কোটিরও বেশি মানুষের এই বৃহৎ মহানগরের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। কেজরিওয়াল কর্মজীবন শুরু করেছিলেন কর আদায়কারী কর্মকর্তা হিসেবে, তবে পরে চাকরি ছেড়ে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়ে জাতীয় পরিচিতি লাভ করেন। সামপ্রতিক বছরগুলোতে মোদির একাধিক বিরোধী নেতা ফৌজদারি তদন্ত বা বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন, যার মধ্যে দুইজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও রয়েছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে সরকার একটি বিল উত্থাপন করে, যাতে কোনো রাজনীতিবিদ ৩০ দিন গ্রেপ্তার ও আটক থাকলে তাকে পদ থেকে অপসারণের প্রস্তাব রাখা হয়। বিরোধীরা একে সাংবিধানিক সুরক্ষা খর্বের ‘ভীতিকর’ উদ্যোগ বলে অভিহিত করেন।