বিদেশ : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা চলমান থাকলেও কড়া অবস্থান বজায় রেখেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়েছে—‘এবারও পারবে না।’ খামেনি বলেন, ইরান কোনোভাবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনার মতো ‘অযৌক্তিক’ শর্ত মেনে নেবে না। তার ভাষায়, যদি আলোচনা হয়, তা সম্মানজনক হতে হবে। চাপের মুখে আত্মসমর্পণ নয়।
জেনেভায় ‘গঠনমূলক’ আলোচনা
খামেনির বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, গতবারের তুলনায় আলোচনা ছিল আরও গঠনমূলক। কিছু নীতিগত বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছি। ভবিষ্যতে একটি খসড়া নথি প্রস্তুত হতে পারে। ওমানের মধ্যস্থতায় হওয়া এ আলোচনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রেসিও সংশ্লিষ্ট ছিলেন। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সম্ভাব্য পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
মতভেদ রয়ে গেছে
তবে মূল ইস্যুগুলোতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও দূরত্বেই রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক, মজুতকৃত উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করুক এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করুক। ইরান এসব শর্তকে ‘লাল দাগ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান অবশ্য প্রস্তাব দিয়েছে ইউরেনিয়াম পাতলা করার এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে অংশীদার করার। তবে কিভাবে এই সমঝোতা বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা নেই। আলোচনা শেষে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মান সামান্য কমেছে; এক ডলার সমান প্রায় ১৬ লাখ ৩০ হাজার রিয়ালে লেনদেন হয়েছে।
সামরিক মহড়া ও উত্তেজনা
আলোচনার সাথে সাথে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে সামরিক মহড়া চালিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসি নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তানগসিরি জানান, প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। উল্লেখ্য, বৈশ্বিক তেল-গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে; দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরীসহ অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এত দ্রুত আলোচনা শেষ হওয়া ইতিবাচক ইঙ্গিত নয়। আন্তর্জাতিক সংকট বিষয়ক বিশ্লেষক আলি ভাইজ বলেন, ২০১৫ সালের চুক্তি করতে আড়াই বছর লেগেছিল। এত জটিল বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি আশা করা কঠিন। ইরানের বিভিন্ন পত্রিকাও আলোচনায় তাৎক্ষণিক সাফল্যের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। কেউ কেউ শিরোনাম করেছে—জেনেভা থেকে হরমুজ পর্যন্ত শক্তির প্রদর্শন, আবার কেউ লিখেছে—ইরান ভেনেজুয়েলা নয়।