বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

মার্কিন অভিযানে ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১১ জন নিহত

প্রতিনিধি: / ১০ দেখেছেন:
পাবলিশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বিদেশ : কথিত মাদক চোরাচালানকারী নৌকা লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সামপ্রতিক হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা এবং ক্যারিবীয় সাগরে তিনটি সন্দেহভাজন নৌযান লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মাদক কারবারিদের ‘নারকো-সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে চালানো মাসব্যাপী অভিযানের মধ্যে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, এই হামলায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুটি নৌকায় আটজন এবং ক্যারিবীয় সাগরে একটি নৌকায় তিনজন নিহত হন। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর মাদক পাচারকারী হিসেবে সন্দেহভাজনদের ওপর সামরিক শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই ক্যারিবীয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কুখ্যাত পাচার পথগুলোতে এ পর্যন্ত ৪২টি হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সপ্তাহের হামলার কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছে এবং দাবি করেছে যে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই নিশ্চিত হওয়া গেছে এই নৌযানগুলো মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে প্রকাশিত ভিডিওতে মাদক বা অন্য কোনো অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম। এই অভিযানের বৈধতা নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, তাৎক্ষণিক কোনো সহিংসতার হুমকি ছাড়াই সমুদ্রের মাঝখানে এমন হামলা বিচারবহির্ভূত সামরিক হত্যাকাণ্ডের সমতুল্য। ওয়াশিংটন অফিস অন ল্যাটিন আমেরিকা নামক একটি সংস্থা তাদের বিশ্লেষণে জানিয়েছে, সমুদ্রে মার্কিন হামলার শিকার ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়া বা আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন যাকে ইচ্ছা সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে হত্যার এক অসীম ক্ষমতা প্রয়োগ করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। উল্লেখ্য যে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাস থেকে আটক করার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নৌকায় এই হামলার ঘটনাগুলো ঘটল। মাদক, অস্ত্র এবং নারকো-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে মাদুরোকে নিউইয়র্কে বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া চলছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এই সকল সামরিক তৎপরতাকে মাদক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে তুলে ধরছে, তবে এই পাচার চক্রগুলোর বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব রয়েছে বলে অনেক বিশ্লেষক দাবি করেছেন। বর্তমানে ভেনেজুয়েলা উপকূলের কাছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ডজনখানেক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রেখেছে এবং পারমাণবিক ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকির অংশ হিসেবে কিছু জাহাজ পূর্ব দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


এই বিভাগের আরো খবর