কুতুবদিয়া প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুতুবদিয়ায় কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষককে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, কবি নজরুল ইসলাম একাডেমি নামের একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের একজন শিক্ষককে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নন-এমপিওভুক্ত আরও কয়েকজন বেসরকারি শিক্ষকের নামও নির্বাচনী দায়িত্বের তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের দাবি, নির্বাচন একটি রাষ্ট্রীয় ও সংবেদনশীল দায়িত্ব। সেখানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাদ দিয়ে বেসরকারি ও নন-এমপিও শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের মতে, এতে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি শিক্ষক বলেন, “আমরা সরকারি কর্মচারী হয়েও নির্বাচনী দায়িত্বে নেই। অথচ কিন্ডার গার্টেন ও নন-এমপিও শিক্ষকদের দিয়ে সহকারী প্রিজাইডিংয়ের মতো দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে। বিষয়টি অস্বাভাবিক এবং প্রশ্নবিদ্ধ।”
একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “আইন অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই সাধারণত নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ। বেসরকারি শিক্ষকদের দিয়ে এই দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে কী যুক্তি রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।”
স্থানীয়দের একটি অংশও প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, ভোটের আগমুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত নির্বাচনের পরিবেশকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিতর্কিত করে তুলতে পারে এবং ভোটারদের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জামশেদ আলম রানা বলেন, “যথাযথ যাচাই–বাছাইয়ের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারপরও কোনো ত্রুটি থাকলে এ মুহূর্তে তা পরিবর্তনের সুযোগ নেই।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একটি কিন্ডার গার্টেন বা নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষককে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া কতটা যৌক্তিক।
নির্বাচনী প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে এসে দায়িত্ব বণ্টন ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ ভোটাররা।