বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

‎কুতুবদিয়ায় কিন্ডার গার্টেন শিক্ষকের সহকারী প্রিজাইডিং দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা–সমালোচনার ঝড়

প্রতিনিধি: / ৪ দেখেছেন:
পাবলিশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

‎ কুতুবদিয়া প্রতিনিধি: ‎ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুতুবদিয়ায় কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষককে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন।

‎অভিযোগ উঠেছে, কবি নজরুল ইসলাম একাডেমি নামের একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের একজন শিক্ষককে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নন-এমপিওভুক্ত আরও কয়েকজন বেসরকারি শিক্ষকের নামও নির্বাচনী দায়িত্বের তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

‎সরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের দাবি, নির্বাচন একটি রাষ্ট্রীয় ও সংবেদনশীল দায়িত্ব। সেখানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাদ দিয়ে বেসরকারি ও নন-এমপিও শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের মতে, এতে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি শিক্ষক বলেন, “আমরা সরকারি কর্মচারী হয়েও নির্বাচনী দায়িত্বে নেই। অথচ কিন্ডার গার্টেন ও নন-এমপিও শিক্ষকদের দিয়ে সহকারী প্রিজাইডিংয়ের মতো দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে। বিষয়টি অস্বাভাবিক এবং প্রশ্নবিদ্ধ।”

‎একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “আইন অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই সাধারণত নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ। বেসরকারি শিক্ষকদের দিয়ে এই দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে কী যুক্তি রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।”

‎স্থানীয়দের একটি অংশও প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, ভোটের আগমুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত নির্বাচনের পরিবেশকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিতর্কিত করে তুলতে পারে এবং ভোটারদের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।

‎এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জামশেদ আলম রানা বলেন, “যথাযথ যাচাই–বাছাইয়ের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারপরও কোনো ত্রুটি থাকলে এ মুহূর্তে তা পরিবর্তনের সুযোগ নেই।”

‎এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একটি কিন্ডার গার্টেন বা নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষককে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া কতটা যৌক্তিক।

‎নির্বাচনী প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে এসে দায়িত্ব বণ্টন ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ ভোটাররা।


এই বিভাগের আরো খবর