বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় বিএনপির সভাপতির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রতিপক্ষের বাধা ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ,সেনাবাহিনীসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় মানববন্ধন কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করেন সদ্য বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সভাপতি মমিনুল হক টুলু বিশ্বাসের অনুসারীরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় চিতলমারী উপজেলা সদরে মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগে ধানের শীষের প্রার্থী কপিল চন্দ্র মন্ডলের কয়েকজন মর্মথক প্রথমে বাধা দেয় ও হামলা চালায়। এ ঘটনায় টুলু বিশ্বাসের ৫ জন অনুসারীরা আহত হয়।
মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হামলার ঘটনায় সেনাবাহিনী লাঠি চার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিতলমারী উপজেলা জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
বলছে, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মানববন্ধন কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা টুলু বিশ্বাসের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং দলীয় শৃঙ্খলার নামে অন্যায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
সদ্য বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সভাপতি মমিনুল হক টুলু বিশ্বাস বলেন, আমাকে কী কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে, তা আমি নিজেও জানি না। আমি ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইছি, নিজেও ধানের শীষ প্রতীকেই ভোট দেব। আমার বহিষ্কারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আজ আমার অনুসারীরা মানববন্ধন করতে গেলে বিএনপি মনোনীত বাগেরহাট-১ আসনের প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মন্ডলের অনুসারীরা হামলা চালায় বলে আমি জানতে পেরেছি।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা আর ঘটেনি।
উল্লেখ্য গেল ২৬ জানুয়ারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরীত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার জন্য বাগেরহাট জেলাধীন চিতলমারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মমিনুল হক টুলু বিশ্বাসকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করেন।