বিদেশ : জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগামী গত শুক্রবার পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। জাপানের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে জনগণের নতুন ম্যান্ডেট পাওয়ার আশায় তিনি এই আগাম নির্বাচনের পথে হাঁটছেন। গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি জানান, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জাপানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত নিম্নকক্ষ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৬৫টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গত অক্টোবর মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জনমত জরিপে উচ্চ সমর্থন পেলেও রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত করতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে বিবিসি ও ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জাপানের ‘আয়রন লেডি’ হিসেবে পরিচিত রক্ষণশীল এই নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের অনুসারী এবং মার্গারেট থ্যাচারের ভক্ত হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তার দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং শরিক ‘জাপান ইনোভেশন পার্টি’র জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখলেও তা বেশ নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। তাকাইচি চাইছেন এই নির্বাচনের মাধ্যমে নিজের শাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে। গত ডিসেম্বরে তার মন্ত্রিসভা রেকর্ড ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৫৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছে। চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতাকে জাপানের জন্য ‘বৃহত্তম কৌশলগত চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে বর্ণনা করে এই বিশাল সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাকাইচির এই আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত যেমন সাহসের পরিচয় দিচ্ছে, তেমনি এর পেছনে বড় ধরনের ঝুঁকিও রয়েছে। গত পাঁচ বছরে জাপান চারজন প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছে এবং তার পূর্বসূরি শিগেরু ইশিবাও ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই আগাম নির্বাচন দিয়ে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিলেন। বর্তমানে জাপানের বিরোধী দলগুলো একজোট হয়ে ‘সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স’ নামে নতুন একটি মধ্যপন্থী জোট গঠন করেছে, যা এলডিপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশেষ করে এলডিপির সাবেক দীর্ঘদিনের শরিক ‘কোমেইতো’ দল এখন এই নতুন বিরোধী জোটের অংশ হওয়ায় নির্বাচনী লড়াই আরও কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তাকাইচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ জোর দিয়েছেন। গত অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাপান সফরের সময় দুই দেশ বিরল খনিজ সম্পদ নিয়ে চুক্তি সই করেছে এবং তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘স্বর্ণযুগ’ শুরু হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে তাইওয়ান ইস্যুতে তাকাইচির কঠোর মন্তব্য চীনকে ক্ষুব্ধ করেছে, যার ফলে বেইজিংয়ের সঙ্গে টোকিও’র সম্পর্ক গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে তিনি ‘আবেনোমিঙ্’-এর আদলে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি অর্জনের নীতি অনুসরণ করছেন। ডিসেম্বরের জরিপ অনুযায়ী তার জনপ্রিয়তার রেটিং ৬০ থেকে ৮০ শতাংশের ঘরে থাকলেও, নতুন বিরোধী জোটের শক্ত অবস্থানের মুখে ৮ ফেব্রুয়ারির ভোট জাপানের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। সূত্র: বিবিসি