Dhaka ০২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরিয়ার আরও এক শহর-বিমানবন্দর দখলে সেনাবাহিনীর

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪২ Time View

বিদেশ: সিরিয়ার সেনাবাহিনী ইউফ্রেটিস নদীর তীরে অবস্থিত কৌশলগত শহর তাবকা এবং এর সামরিক বিমানবন্দর সম্পূর্ণভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাক্কা প্রদেশে দ্রুতগতির সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবেই এই সাফল্য এসেছে। গতকাল রোববার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সিরিয়ার তথ্যমন্ত্রী হামজা আল-মুস্তাফা জানান, কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সংশ্লিষ্ট যোদ্ধাদের হটিয়ে সরকারপন্থি বাহিনী তাবকা ও নিকটবর্তী ইউফ্রেটিস বাঁধ নিরাপদ করেছে। এটি সিরিয়ার সবচেয়ে বড় বাঁধ হিসেবে পরিচিত। এদিকে সিরিয়ার সরকার অভিযোগ করেছে, কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ও পিকেকে-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো তাবকায় বন্দি ও আটক ব্যক্তিদের হত্যা করেছে। সরকারের বিবৃতিতে এসব হত্যাকাণ্ডকে জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী ‘গুরুতর যুদ্ধাপরাধ’ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলা হয়েছে। তুরস্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র পিকেকেকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। আলেপ্পো থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জেইন বাসরাভি জানান, উত্তর সিরিয়ায় সংঘর্ষের গতি হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। তিনি জানান, ‘দ্রুত’ এই শব্দটাই সবচেয়ে উপযুক্ত। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও আলেপ্পোর পাড়াগুলো নিয়ে তীব্র লড়াই চলছিল, অথচ গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এসডিএফের একাধিক ঘাঁটি সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, আলেপ্পো থেকে মনোযোগ সরিয়ে সিরীয় বাহিনী এখন রাক্কার দিকে এগোচ্ছে। সীমান্তবর্তী শহরগুলো পেরিয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করছে। তাবকার ভেতরেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এলাকাটিতেও শিগগিরই ‘ক্লিয়ারিং অপারেশন’ শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত রাক্কা ছিল আইএসআইএল (আইএস) ঘোষিত তথাকথিত রাজধানী। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত এসডিএফ শহরটি মুক্ত করলেও আইএসের শাসনে রাক্কা ভয়াবহ ধ্বংস ও গণহত্যার সাক্ষী হয়েছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরোনো সেতুর কাছে পাইপলাইনে বিস্ফোরণের কারণে রাক্কার পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা দাবি করেছে, ইউফ্রেটিস নদীর ওপর সেতুটি এসডিএফ উড়িয়ে দিয়েছে। সেনাবাহিনীর অপারেশন কমান্ড জানিয়েছে, তারা আগেই মানসুরা বাঁধ ও আশপাশের কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ফলে রাক্কার পশ্চিম গেট থেকে পাঁচ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে পৌঁছে যায়। পরে জানানো হয়, মানসুরা এলাকায় ঘেরাওয়ের মুখে পড়ার পর ৬৪ এসডিএফ যোদ্ধা আত্মসমর্পণ করেছে। আরেক বিবৃতিতে বলা হয়, সেনারা ‘একাধিক দিক থেকে’ তাবকায় প্রবেশ করে সামরিক বিমানবন্দরের ভেতরে পিকেকে যোদ্ধাদের ঘিরে ফেলে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

সিরিয়ার আরও এক শহর-বিমানবন্দর দখলে সেনাবাহিনীর

Update Time : ১১:০২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

বিদেশ: সিরিয়ার সেনাবাহিনী ইউফ্রেটিস নদীর তীরে অবস্থিত কৌশলগত শহর তাবকা এবং এর সামরিক বিমানবন্দর সম্পূর্ণভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাক্কা প্রদেশে দ্রুতগতির সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবেই এই সাফল্য এসেছে। গতকাল রোববার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সিরিয়ার তথ্যমন্ত্রী হামজা আল-মুস্তাফা জানান, কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সংশ্লিষ্ট যোদ্ধাদের হটিয়ে সরকারপন্থি বাহিনী তাবকা ও নিকটবর্তী ইউফ্রেটিস বাঁধ নিরাপদ করেছে। এটি সিরিয়ার সবচেয়ে বড় বাঁধ হিসেবে পরিচিত। এদিকে সিরিয়ার সরকার অভিযোগ করেছে, কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ও পিকেকে-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো তাবকায় বন্দি ও আটক ব্যক্তিদের হত্যা করেছে। সরকারের বিবৃতিতে এসব হত্যাকাণ্ডকে জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী ‘গুরুতর যুদ্ধাপরাধ’ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলা হয়েছে। তুরস্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র পিকেকেকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। আলেপ্পো থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জেইন বাসরাভি জানান, উত্তর সিরিয়ায় সংঘর্ষের গতি হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। তিনি জানান, ‘দ্রুত’ এই শব্দটাই সবচেয়ে উপযুক্ত। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও আলেপ্পোর পাড়াগুলো নিয়ে তীব্র লড়াই চলছিল, অথচ গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এসডিএফের একাধিক ঘাঁটি সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, আলেপ্পো থেকে মনোযোগ সরিয়ে সিরীয় বাহিনী এখন রাক্কার দিকে এগোচ্ছে। সীমান্তবর্তী শহরগুলো পেরিয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করছে। তাবকার ভেতরেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এলাকাটিতেও শিগগিরই ‘ক্লিয়ারিং অপারেশন’ শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত রাক্কা ছিল আইএসআইএল (আইএস) ঘোষিত তথাকথিত রাজধানী। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত এসডিএফ শহরটি মুক্ত করলেও আইএসের শাসনে রাক্কা ভয়াবহ ধ্বংস ও গণহত্যার সাক্ষী হয়েছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরোনো সেতুর কাছে পাইপলাইনে বিস্ফোরণের কারণে রাক্কার পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা দাবি করেছে, ইউফ্রেটিস নদীর ওপর সেতুটি এসডিএফ উড়িয়ে দিয়েছে। সেনাবাহিনীর অপারেশন কমান্ড জানিয়েছে, তারা আগেই মানসুরা বাঁধ ও আশপাশের কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ফলে রাক্কার পশ্চিম গেট থেকে পাঁচ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে পৌঁছে যায়। পরে জানানো হয়, মানসুরা এলাকায় ঘেরাওয়ের মুখে পড়ার পর ৬৪ এসডিএফ যোদ্ধা আত্মসমর্পণ করেছে। আরেক বিবৃতিতে বলা হয়, সেনারা ‘একাধিক দিক থেকে’ তাবকায় প্রবেশ করে সামরিক বিমানবন্দরের ভেতরে পিকেকে যোদ্ধাদের ঘিরে ফেলে।