বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রতীক ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি আবারও ঢাকায় এসেছে। ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় সোনায় মোড়ানো ঐতিহাসিক ট্রফিটি। একদিনের এই সফরে ট্রফির সঙ্গে ফিফার প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশে এসেছেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভা।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশ্বকাপ ট্রফি নেওয়া হয় ঢাকার পাঁচতারা হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে। সেখানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, ফুটবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং ফিফার স্পন্সর কোকাকোলার বিশেষ ক্যাম্পেইনের বিজয়ীরা কাছ থেকে ট্রফিটি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। নির্ধারিত তালিকার বাইরে সাধারণ দর্শকদের জন্য এই আয়োজন উন্মুক্ত রাখা হয়নি।
প্রতিটি বিশ্বকাপের আগেই ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বভ্রমণে বের হয় আসল ট্রফিটি। বাংলাদেশে এটি চতুর্থবারের মতো প্রদর্শিত হচ্ছে। এর আগে ২০০২ সালে জাপান কোরিয়া বিশ্বকাপের সময় প্রথমবার ঢাকায় আসে ট্রফিটি। পরে ২০১৩ ও ২০২২ সালেও বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে এসেছিল ফুটবল বিশ্বকাপের এই সোনালি স্মারক।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, বুধবার দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত র্যাডিসন ব্লু হোটেলেই রাখা হয়েছে ট্রফিটি। কোকাকোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়া ফুটবলপ্রেমীরা নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ট্রফি স্পর্শ করার অনুমতি নেই।
ফিফা জানায়, ১৯৭৪ সাল থেকে ব্যবহৃত বর্তমান বিশ্বকাপ ট্রফিটি ১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি। এর উচ্চতা ৩৬ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৬ দশমিক ১৭৫ কিলোগ্রাম। ইতালির জিডিই বের্তনি কোম্পানি ট্রফিটি নির্মাণ করে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল উদযাপনের সময় আসল ট্রফি হাতে পেলেও পরে সেটি ফিফার কাছে ফেরত দিতে হয়। স্থায়ীভাবে দেওয়া হয় সোনার প্রলেপ দেওয়া একটি প্রতিরূপ।
ফিফা ট্রফি ট্যুরের অংশ হিসেবে গত ৩ জানুয়ারি সৌদি আরব থেকে শুরু হওয়া ১৫০ দিনের এই সফরে বাংলাদেশসহ মোট ৩০টি দেশের ৭৫টি স্থানে ট্রফিটি প্রদর্শিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সফর শেষে ট্রফি যাবে দক্ষিণ কোরিয়ায়। এরপর এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ঘুরে সফরের শেষ গন্তব্য হবে মেক্সিকো, যেখানে অনুষ্ঠিত হবে আগামী বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ।